জামালপুরের বকশীগঞ্জে টিআর, কাবিখা ও কাবিটা প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় পর্যায়ে বরাদ্দকৃত প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়ম ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বকশীগঞ্জ উপজেলায় এসব প্রকল্পে মোট বরাদ্দ ছিল ৫ কোটি ১২ লাখ ১ হাজার ৭৯৮ টাকা প্রায়। তবে লোকদেখানো কিছু কাজ হলেও সিংহভাগ প্রকল্পে হয়েছে অনিয়ম ও লুটপাট। এসব প্রকল্পে শ্রমজীবী মানুষ বা স্থানীয় শ্রমিক দিয়ে মাটি কেটে রাস্তা মেরামত করার কথা। কিন্তু তা না করে ড্রেজার মেশিন, ভেকু, ছোট ট্রাক, মাহিন্দ্র ট্রলি ইত্যাদি যন্ত্র ব্যবহার করে মাটি কেটে রাস্তা মেরামতের কাজ করা হয়েছে।
কাজ শুরুর আগে বাধ্যতামূলক কমিটির নাম ও বরাদ্দের পরিমাণ উল্লেখ করে সাইনবোর্ড লাগানোর বাধ্যবাধকতা থাকলেও বাস্তবে প্রকল্প এলাকায় কোনো সাইনবোর্ড দেখা যায়নি। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলায় প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় পর্যায়ে প্রায় ৫ কোটি ৬ লাখ ১ হাজার ৭৯৮ টাকা বরাদ্দ হয়। এছাড়া দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের শুকনো খাবার বিতরণের জন্য ৩ লাখ টাকা ও বিভিন্ন দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত অসহায় পরিবারকে সহায়তার ঢেউটিন ক্রয়ের জন্য ৩ লাখ টাকাসহ মোট ৫ কোটি ১২ লাখ ১ হাজার ৭৯৮ টাকা বরাদ্দ হয়।
উপজেলার সাতটি ইউনিয়নের প্রায় ২০৩টি প্রকল্পের কাগজ কলমে নাম থাকলেও সরেজমিনে গিয়ে বেশির ভাগ প্রকল্পের কাজের কোনো অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায়নি।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, ধানুয়া কামালপুর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের খামার গেদরা গ্রামের জাহিদের দোকান থেকে মোতালেবের বাড়ির পাশে কালভার্ট পর্যন্ত রাস্তা সংস্কারকাজের জন্য বরাদ্দকৃত ৯ দশমিক ৯ টন গম। এ রাস্তায় এক টাকার কাজও হয়নি।
স্থানীয় দোকানদার জাহিদ মিয়া বলেন, ভাঙা রাস্তাটি কয়েক বছর যাবৎ একই আছে । ৮-৯ মাস আগে দুই লোক এসে শুধু মাপ নিয়ে চলে গেছে, এরপর আর কেউ আসেনি। স্থানীয় গোলাপ হোসেন ও ভ্যানচালক আমজাদ হোসেন বলেন, ‘আমরা ভ্যানচালকেরা রাস্তার বেহাল দশা দেখে ১০ জন ভ্যানচালক ৫০০ টাকা করে ৫ হাজার টাকা এবং ইউপি মেম্বার দিয়েছেন ২ হাজার— এই ৭ হাজার টাকা দিয়ে রাস্তার কাজ করে আমাদের ভ্যান চলাচলের ব্যবস্থা করেছি।
ধানুয়া কামালপুর ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান গোলাপ জামাল জানান, প্রকল্পের কাজ সঠিকভাবেই করা হয়েছে। কিন্তু বৃষ্টিতে রাস্তাগুলো আবার ভেঙে গেছে।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) হাবিবুর রহমান সুমন বলেন, ‘বেশির ভাগ প্রকল্প আমি নিজে পরিদর্শন করেছি। কিছু প্রকল্প আমার স্টাফরা পরিদর্শন করেছেন। একেবারে কাজ হয়নি যেসব প্রকল্পের, অভিযোগ উঠেছে তা আমি পরিদর্শন করে দেখব।’ বকশীগঞ্জ উপজেলায় সদ্য যোগদান করা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল হাইয়ের সঙ্গে এসব বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো বক্তব্য দিতে রাজি হননি।
এসআই
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

