অতিবৃষ্টি ও ভারতের উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের তীব্র স্রোতে নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলার সীমান্ত অঞ্চলে নির্মাণাধীন নতুন সড়ক, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও কৃষি খাতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ঢলের পানিতে একাধিক সড়ক ভেঙে যোগাযোগব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। নদীভাঙনে ফসলি জমিতে বালু জমে নষ্ট হয়েছে আবাদি জমি, ভেসে গেছে শতাধিক মাছের পুকুর এবং আমনের বীজতলা।
সোমবার সকালে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও ক্ষতিগ্রস্তদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে উপজেলার নাজিরপুর, খারনই ও লেংগুরা ইউনিয়নের নলছাপ্রা বাজারুবালুচড়া সেক্রেড হার্ড উচ্চ বিদ্যালয় সড়ক। পাহাড়ি ঢলের তীব্র পানির প্রবাহে সড়কের প্রায় ১০০ ফুট অংশ ধসে গিয়ে বড় ধরনের গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এতে যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। প্রতিদিন এ সড়ক ব্যবহারকারী শিক্ষার্থীরা, কৃষক ও সাধারণ মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।
লেংগুরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান ভূঁইয়া জানান, নলছাপ্রা বাজারুবালুচড়া উচ্চ বিদ্যালয় সড়কসহ ইউনিয়নের একাধিক স্থানে ঢলের তীব্র স্রোতে রাস্তা ভেঙে গেছে। চেংনী নদীর পাড় ভেঙে প্রায় ৫০ একর ফসলি জমিতে বালু জমেছে। এতে কৃষকদের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এদিকে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার প্রধান নদী উব্দাখালী নদীর পানি কলমাকান্দা সদর ডাকবাংলো পয়েন্টে বিপৎসীমার ১৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে নিম্নাঞ্চলে নতুন করে প্লাবিত ও নদীভাঙনের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে পাহাড়ি ঢলের কারণে একই ধরনের দুর্ভোগের শিকার হতে হয়। তবে এবার ঢলের তীব্রতা বেশি হওয়ায় সড়ক, কৃষিজমি ও বসতবাড়ির আশপাশে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
উপজেলা কৃষি অফিসার সাইফুল ইসলাম জানিয়েছেন, পাহাড়ি ঢলে আমন ধানের প্রচুর বীজতলা নষ্ট হয়েছে। ঢলের পানিতে বালু থাকায়, প্রায় ২০০ হেক্টর জমির ধানের চারা নষ্ট হয়েছে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

