আমার দেশ জনপ্রিয় বাংলা নিউজ পেপার

শ্রীবরদী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসক ও জনবলের সংকট, ভোগান্তিতে রোগীরা

রিয়াদ আহাম্মেদ, শ্রীবরদী (শেরপুর)

শ্রীবরদী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসক ও জনবলের সংকট, ভোগান্তিতে রোগীরা

শ্রীবরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসক ও জনবলের সংকটে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে রোগীরা। আধুনিক চিকিৎসা উপকরণ থাকলেও চিকিৎসক ও জনবলের সংকটে ৫০ শয্যাবিশিষ্ট শ্রীবরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাসেবা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

জানা যায়, শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলার ১০টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার প্রায় ৩ লাখ মানুষের একমাত্র ভরসা এই হাসপাতাল। এখানে চিকিৎসক ও জনবলের সংকটে বঞ্চিত হচ্ছে উপজেলার সাধারণ মানুষ।

বিজ্ঞাপন

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাসহ হাসপাতালে চিকিৎসকের ২১টি পদ থাকলেও আছেন মাত্র ছয়জন। এর মধ্যে দুজন রয়েছেন প্রেষণে। এখন ২১ জন চিকিৎসকের মধ্যে সেবা দিচ্ছেন মাত্র চারজন চিকিৎসক। অ্যানেস্থেসিয়া, সার্জারি, গাইনি ও মেডিসিনের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিভাগ চিকিৎসকশূন্য। শ্রীবরদী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসক, কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ মোট ১৬৩টি পদের মধ্যে ৮৮টি শূন্য রয়েছে। মাত্র ৭১ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী দিয়েই খুঁড়িয়ে চলছে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি। দীর্ঘদিন ধরে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও কোনো প্রতিকার মিলছে না।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, হাসপাতালের ইমার্জেন্সি ও বহির্বিভাগে প্রতিদিন গড়ে ৩০০ থেকে ৩৫০ জন রোগী চিকিৎসাসেবা নিতে আসে। তিনজন চিকিৎসককে প্রতিনিয়ত এত রোগী সামাল দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। হাসপাতালটিতে অত্যাধুনিক প্যাথলজিক্যাল ল্যাব, আল্ট্রাসনোগ্রাম, অপারেশন থিয়েটারসহ যাবতীয় উপকরণ থাকা সত্ত্বেও শুধু জনবলের অভাবে এসব সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীরা। 

সরকারি হিসাব অনুযায়ী, উপজেলার ১০টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার মোট জনসংখ্যা ২ লাখ ৫৯ হাজার ৬৪৮। এছাড়া পার্শ্ববর্তী ঝিনাইগাতী উপজেলার অনেক রোগী এই হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসে। বৃহৎ এই জনগোষ্ঠী স্বল্পমূল্যে উন্নত সেবার জন্য নির্ভরশীল। তবে স্থানীয়দের আক্ষেপ, চিকিৎসক ও জনবলের সংকট থাকায় তারা কাঙ্ক্ষিত সেবা পাচ্ছে না। সিজারিয়ানের জন্য বিভিন্ন ক্লিনিকে ব্যয়বহুল চিকিৎসাসেবা নিতে হচ্ছে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে উপজেলার নিম্ন আয়ের মানুষ।

এছাড়া মেডিসিন, চর্ম, চক্ষু, ডায়াবেটিস, গ্যাস্ট্রোলজিসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হওয়া রোগীরা প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। বিশেষ করে গাইনি ও প্রসূতি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক না থাকায় প্রতিদিন শত শত নারী রোগী চিকিৎসা না পেয়ে ফেরত যাচ্ছেন। 

হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা তারিকুল ইসলাম বলেন, প্রতিদিন শত শত মানুষ চিকিৎসার জন্য এই হাসপাতালে আসে। হাসপাতালে সব ব্যবস্থা থাকা সত্ত্বেও চিকিৎসক ও জনবলের অভাবে মানুষ চিকিৎসাসেবা না পেয়ে ফিরে যাচ্ছে। আর্থিক সক্ষমতা না থাকা সত্ত্বেও অনেককে বাধ্য হয়ে বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও ক্লিনিকে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে উপজেলার নিম্ন আয়ের মানুষ।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মফিদুল ইসলাম বলেন, ‘এ হাসপাতালে উপজেলার ১০ ইউনিয়ন ছাড়াও পার্শ্ববর্তী ঝিনাইগাতী উপজেলার রোগীরাও চিকিৎসা নিতে আসে। ফলে প্রতিদিন কয়েকশ রোগীর ভিড় থাকে আউটডোর ও জরুরি বিভাগে। মাত্র তিনজন চিকিৎসক দিয়ে এতগুলো রোগীর চিকিৎসাসেবা দেওয়া আমাদের জন্য কষ্টের। তবু আমরা সাধ্যমতো রোগীদের সেবা দিয়ে যাচ্ছি। জনবলের সংকটের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ অবগত আছেন।’

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন