আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে মাদকাসক্তের সংখ্যা

ফুলপুর ও তারাকান্দায় প্রতি মাসে কোটি টাকার মাদক বেচাকেনা

ফুলপুর ও তারাকান্দায় প্রতি মাসে কোটি টাকার মাদক বেচাকেনা

ময়মনসিংহের ফুলপুর ও তারাকান্দা উপজেলায় মাদকাসক্তের সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। মাদকের করাল গ্রাসে ধ্বংসের মুখে পড়ছে স্থানীয় তরুণ ও যুবসমাজ। দুই উপজেলার বিভিন্ন পয়েন্টে অবাধে চলছে মাদক কারবার। অভিযোগ ওঠেছে, প্রতিমাসে এখানে কোটি টাকারও বেশি মাদক বেচাকেনা হচ্ছে। মুনাফার একটি বড় অংশ চলে যাচ্ছে এক শ্রেণির অসৎ পুলিশ সদস্য, স্থানীয় প্রভাবশালী, কথিত সাংবাদিক ও নেপথ্যে থাকা গডফাদারদের পকেটে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, ফুলপুর ও তারাকান্দা উপজেলার যুব ও কিশোর সমাজের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এখন মাদকের নেশায় বুঁদ হয়ে আছে। গ্রাম ও শহরের প্রত্যন্ত অঞ্চলে সন্ধ্যার পরপরই মাদক কারবারিরা তৎপর হয়ে ওঠে। হাতের নাগালে মাদক পেয়ে শিক্ষার্থীসহ উঠতি বয়সের তরুণরা ক্রমান্বয়ে আসক্ত হয়ে পড়ছে। বিষাক্ত এই ছোবলে এখন শত শত পরিবারের ভবিষ্যৎ বিপন্ন।খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এলাকায় বাংলা মদের চাহিদা সবচেয়ে বেশি। এর পাশাপাশি ফেনসিডিল, হেরোইন, গাঁজা, তাড়ি, প্যাথিডিন, আফিম, ইয়াবা, আইস এবং টিডিজেসিক ও লুপিজেসিক ইনজেকশনসহ নানা পদের মাদক সহজলভ্য। এর বাইরেও তৈরি হচ্ছে ভেজাল বিদেশি মদ। দেশি-বিদেশি বোতলে সিলগালা করে বিক্রি করা হলেও এগুলোর মূল উপাদান পচা পান্তাভাত ও রেক্টিফাইড স্পিরিট। ২০০ লিটার তরলে প্রায় দেড় লিটার রেক্টিফাইড স্পিরিট মেশানো হয়। অভিযোগ রয়েছে, কিছু নীতিহীন হোমিও ব্যবসায়ী নিজেদের প্রয়োজনের চেয়ে বেশি স্পিরিট উত্তোলন করে মাদক কারবারিদের কাছে সরবরাহ করছে। ফুলপুরের ১০টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা ও তারাকান্দার ১০টি ইউনিয়নের আনাচে-কানাচে এখন মাদকের এই রমরমা কারবার চলছে। মাদক পাচার কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে মোটরসাইকেল, সিএনজিচালিত অটোরিকশা, মাইক্রোবাস ও পণ্যবাহী ট্রাক।

বিজ্ঞাপন

হালুয়াঘাট-ময়মনসিংহ ও ধোবাউড়া-তারাকান্দা সড়ককে রুট হিসেবে ব্যবহার করে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে এসব চালান পৌঁছানো হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানে মাঝে মাঝে কিছু খুচরা বহনকারী ধরা পড়লেও মূল কারবারিরা থেকে যাচ্ছে অধরা। সর্বনাশা এই নেশার খরচ জোগাতে গিয়ে এলাকায় চুরি, ছিনতাই ও সামাজিক অপরাধ আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। মাদকাসক্ত সন্তানের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে অনেক অভিভাবক বাধ্য হয়ে মাদকাসক্ত সন্তানকে পুলিশের হাতে তুলে দিচ্ছেন। মাদকাসক্তি প্রতিরোধে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেওয়া পদক্ষেপ যথেষ্ট বলে মনে করছেন ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সুশীল সমাজ।

এ বিষয়ে ফুলপুর থানার ওসি ফিরোজ হোসেন জানান, গত জুন ও জুলাই মাসে ফুলপুর থানায় মাদকসংক্রান্ত ১২টি মামলা হয়েছে এবং ১৯ মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এছাড়া ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ৯ মাদকসেবীকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। পুলিশকে ‘ম্যানেজ’ করে মাদক ব্যবসা চালানোর অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি দাবি করেন, ফুলপুর থানায় এ ধরনের অনৈতিক কাজের কোনো সুযোগ নেই।

অন্যদিকে, গত দুই মাসের মাদকসংক্রান্ত মামলা ও গ্রেপ্তারের বিষয়ে জানতে চাইলে তারাকান্দা থানার ওসি আব্দুল রাশিদ বলেন, এই সংক্রান্ত তথ্য দেওয়া সময়সাপেক্ষ। তবে পুলিশ ম্যানেজ করে মাদক ব্যবসা চালানোর অভিযোগটি সত্য নয় বলে তিনি দাবি করেন।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন