গফরগাঁওয়ে আগাম আমন ধান কাটা শুরু, কৃষকের মুখে হাসির ঝিলিক

গফরগাঁওয়ে আগাম আমন ধান কাটা শুরু, কৃষকের মুখে হাসির ঝিলিক

‘এই হেমন্তে কাটা হবে ধান; আবার শূন্য গোলায় ডাকবে ফসলের বান’—সুকান্তের কবিতার এই পংক্তি হেমন্তের বাংলার চিরচেনা রূপ। পল্লীকবি জসিম উদ্দীনের ‘ধানখেত’ কবিতার লাইন দুটি মনে করিয়ে দেয়, ‘নবান্ন’ হচ্ছে হেমন্তের প্রাণ। যদিও বাঙালির নবান্ন উৎসব সাধারণত পহেলা অগ্রহায়ণ থেকেই শুরু হয়, তবে এখন আর অগ্রহায়ণের জন্য অপেক্ষা করতে হয় না। ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলার সর্বত্র এখন আগাম জাতের ধান কাটা শুরু হয়েছে। হালকা শীতল বাতাসে মাঠের পর মাঠ জুড়ে দোল খাচ্ছে পাকা ধানের শীষ। এতে নবান্নের ঘ্রাণে মুখরিত হয়ে উঠেছে চারপাশ। আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে উপজেলার সর্বত্র পুরোদমে ধান কাটা ও মাড়াই শুরু হবে।

বিজ্ঞাপন

উপজেলার বিভিন্ন এলাকা সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, বাতাসে দোল খাচ্ছে পাকা ধানের শীষ। ছড়াচ্ছে নতুন আমনের ঘ্রাণ। কৃষক ও কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, বর্তমানে প্রায় ১০ ভাগ ধান পাকলেও আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে সর্বত্র ধান কাটা শুরু হবে। কৃষকরা আগাম জাতের আমন ধান চাষ করায় মধ্য কার্তিক থেকেই ধান কাটা ও মাড়াই শুরু হয়েছে। গফরগাঁও উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ শাকুরা নান্মী বলেন, “আগাম জাতের আমন ধান চাষাবাদের ফলে এখন আর পহেলা অগ্রহায়ণের জন্য অপেক্ষা করতে হয় না, কার্তিকেই কাটা ও মাড়াই শুরু হয়।”

উপজেলার চারদিকে আমনের পাকা শীষে মাঠ ছেয়ে গেছে। মাঠভরা বাম্পার ফসল দেখে কৃষকের মুখে চওড়া হাসি ফুটেছে। কৃষকদের আশা, এ বছর আমনের ফলন গত কয়েক বছরের রেকর্ড ছাড়িয়ে যাবে।

জেলার ১৩টি উপজেলার মধ্যে ধান উৎপাদনের দিক থেকে গফরগাঁও অন্যতম শীর্ষস্থানীয় উপজেলা। উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে উপজেলার ১টি পৌরসভা ও ১৫টি ইউনিয়নে ২২ হাজার ৬৬০ হেক্টর জমিতে আমন ধান চাষ করা হয়েছে। এর মধ্যে হাইব্রিড ১ হাজার ৮৪০ হেক্টর, উপফলা ২০ হাজার ৫৩০ হেক্টর এবং স্থানীয় জাতের ধান ২৯০ হেক্টর জমিতে আবাদ করা হয়েছে।

সরেজমিন দেখা গেছে, রসুলপুর, সালটিয়া, বারবাড়িয়া, বাগবেড়, লংগাইর, ছিপান, দাইরগাঁও ও উথুরী গ্রামের মাঠগুলো এখন আমন ফসলে ভরপুর। কৃষকদের ভাষ্যমতে, আগামী ১৫ থেকে ২০ দিনের মধ্যে উপজেলার সর্বত্র পুরোদমে ধান কাটা শুরু হবে।

ধানচাষিরা জানান, ধানগাছে শীষ বের হওয়ার মুহূর্তে পোকার আক্রমণ নিয়ে তাদের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছিল। তবে কৃষি বিভাগের মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নিয়মিত এসে সঠিক পরামর্শ ও সহযোগিতা দিয়েছেন। সব প্রতিকূলতা কাটিয়ে কৃষকদের কেউ কেউ সোনালী ফসল ঘরে তুলছেন, আবার কেউ কেউ তোলার অপেক্ষায় দিন গুনছেন।

বাগবেড় গ্রামের কৃষক ফারুক, রাসেল ও এনামুল হক জানান, এবার আমনের বাম্পার ফলন হয়েছে। উথুরী গ্রামের কৃষক বাদল মিয়া, ছিয়ানী রসুলপুরের এনামুল ইসলাম এবং লংগাইরের রতন মিয়া জানান, হঠাৎ কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে তারা অনায়াসেই ফসলের মাঠের সোনালী ধান ঘরে তুলতে পারবেন।

গফরগাঁও উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ শাকুরা নান্মী বলেন, আমন ধানের বাম্পার ফলন ও উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্য নিয়ে আমরা মাঠপর্যায়ে নিয়মিত কাজ করে যাচ্ছি। মাঠপর্যায়ে নিবিড় তদারকি, কৃষকদের সঠিক পরামর্শ প্রদান এবং অনুকূল আবহাওয়ার কারণে এবার ফলন দারুণ হয়েছে। আশা করছি, বাম্পার ফলনে কৃষকরা আর্থিকভাবে বেশ লাভবান হবেন।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন