প্রতীক বরাদ্দের পর থেকেই পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দিতে শুরু করেছেন প্রবাসীরা। বিদেশে অবস্থান করে দেশের নির্বাচনে প্রথমবারের মতো ভোট দিতে পেরে আনন্দিত ও গর্বিত রেমিট্যান্স যোদ্ধারা। এরপর থেকে নিবন্ধন প্রক্রিয়া সহজ ও বাকি সব নির্বাচনেও ভোট দেওয়ার সুযোগ চান তারা। আর প্রবাসীদের মহামূল্যবান ভোট সঠিকভাবে গণনার দাবি জানিয়েছে জামালপুরের প্রার্থীরা। প্রতীক বরাদ্দের পর থেকেই ভোট দিতে শুরু করেছেন জামালপুরের প্রবাসীরা। পোস্টাল বিডি অ্যাপে নিবন্ধনের পর ব্যালট পেয়ে ভোট দিচ্ছেন তারা।
জেলা জনশক্তি ও কর্মসংস্থান কার্যালয়ের তথ্যমতে-জামালপুর জেলায় দেড় লাখের বেশি ভোটার প্রবাসে অবস্থান করলেও পোস্টাল ভোটে নিবন্ধন করেছেন মাত্র ১৬ হাজার ৩১৯ জন। এর মধ্যে অনুমোদন পেয়েছেন ১৬ হাজার ২৫৫ জন। জামালপুর-১ আসনে অনুমোদিত হয়েছে ২ হাজার ৮২০ জন, জামালপুর-২ আসনে ২ হাজার ২৭ জন, জামালপুর-৩ আসনে ৪ হাজার ৮১৬ জন, জামালপুর-৪ আসনে ২ হাজার ৪৫৫ জন এবং জামালপুর-৫ আসনে অনুমোদিত হয়েছে ৪ হাজার ১৭৯ জন প্রবাসী ভোটার। নিবন্ধনের দিক থেকে এগিয়ে জামালপুর-৩ আসন আর সবচেয়ে পিছিয়ে রয়েছে জামালপুর-২ আসন।
দেশে খোঁজখবর নিয়ে পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পেরে গর্বিত রেমিট্যান্স যোদ্ধারা। শত ব্যস্ততার মাঝেও দেশ মাতৃকার টানে ভোট দিয়ে ব্যালট ফেরত পাঠাতে পেরে আনন্দিত প্রবাসীরা।
এদিকে জন্মনিবন্ধন ও জাতীয় পরিচয়পত্র জটিলতায় ১ লাখ ৩৫ হাজার জামালপুরের প্রবাসী ভোট দিতে পারছে না।
সৌদি আরব প্রবাসী জুয়েল আহম্মেদ বলেন, ‘দেশে প্রার্থীদের খোঁজখবর নিয়ে পোস্টাল ব্যালটে ভোট দিয়েছি। এখন এটা দেশে পাঠাব। প্রবাস থেকে নিজের দেশের নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পেরে আমি গর্বিত। এতে আমি আমার ভোটের অধিকার প্রয়োগ করতে পারব বলে আশা করছি।’
জামালপুর-৫ আসনের ভোটার লন্ডন প্রবাসী আরমানুল হাবিব জিহান বলেন, ‘এবারের নির্বাচনে ভোট দিতে পেরে নিজেকে গর্বিত মনে হচ্ছে। আমি আমার ভোটটি দিয়েছি। গতকালই পোস্ট করেছি, আমার ভোটটি দিয়ে। এটা বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে আমার আত্মবিশ্বাস ও কর্তব্যবোধ থেকেই আসছে।
জাপান প্রবাসী রিশাদ রহমান বলেন, ‘পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে আমি এ বছর ভোট দিতে পেরে আমি নিজেকে অনেক ধন্য মনে করছি এবং অনেক ভালো লাগছে। বিদেশের মাটিতে বসে এভাবে ভোট দিতে পারব। এটা কখনো চিন্তাও করতে পারিনি। যার জন্য আমি অনেক এক্সসাইটেড এবং আমি অনেক প্রাউড ফিল করছি।
তবে নিবন্ধনের বিষয়ে না জানা ও নিবন্ধন প্রক্রিয়া সহজ না থাকায় ভোটের বাইরে রয়ে গেছে প্রায় ১ লাখ ৩৪ হাজার প্রবাসী ভোটার।। তাই পরের বার থেকে এ বিষয়ে প্রচার বৃদ্ধি ও স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও ভোট দেওয়ার সুযোগ চান প্রবাসীরা। আর প্রবাসীদের ভোট যথাযথভাবে গণনার দাবি জানিয়েছে প্রার্থীরা।
আমেরিকা প্রবাসী রওজা জান্নাত বলেন, ‘এবার সব প্রবাসী নিবন্ধন করেনি। তাই আগামীতে যে সরকারই আসুক। তাদের কাছে আমাদের দাবি- পোস্টাল ভোট নিবন্ধনের বিষয়টি যাতে আরো সহজ করে, এ বিষয়ে প্রচার বাড়ায়।
লন্ডন প্রবাসী সৈয়দ শামীম জামান বলেন, ‘আমি চাই, শুধু জাতীয় সংসদ নির্বাচন না, প্রবাসীরা যেন স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও অংশগ্রহণ করতে পারে। এ প্রক্রিয়া যেন আরো সহজ করে। সরকারের কাছে আমার এ আবেদন থাকবে।’
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর জামালপুর-৫ আসনের প্রার্থী আব্দুস সাত্তার বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনের সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলদের কাছে আমাদের বিনম্র আরজ হলোÑযাতে প্রবাসীরা স্বচ্ছতার সঙ্গে ভোট দিতে পারে। তাদের ভোট যাতে সঠিকভাবে গণনা করা হয়। এক্ষেত্রে যেন কোনো ব্যত্যয় না ঘটে। এদিকে দৃষ্টি রাখার জন্য আমি বিনয়ের সঙ্গে আবেদন করছি।’
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

