গাজায় যুদ্ধবিরতির মধ্যেই চলছে ইসরাইলের আগ্রাসন। হামলায় প্রতিদিনই নিহত হচ্ছেন নিরীহ ফিলিস্তিনিরা। দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা এই আগ্রাসনে প্রায় ৭১ হাজার ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এমন তথ্য জানিয়েছে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।
বৃহস্পতিবার ইসরাইলের সংবাদপত্র হারেৎজের প্রতিবেদন জানিয়েছে, এই প্রথমবারের মতো গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দেওয়া তথ্য স্বীকার করেছে ইসরাইলের সামরিক বাহিনী। কারণ এর আগে তারা এসব পরিসংখ্যানকে ‘বিশ্বাসযোগ্য নয়’ এবং ‘বিভ্রান্তিকর’ বলে উড়িয়ে দিয়েছিল।
হারেৎজ জানিয়েছে, নিহতের সংখ্যা মোটের ওপর সঠিক হলেও ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়া ব্যক্তিরা এতে অন্তর্ভুক্ত নন। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া আগ্রাসনে এ পর্যন্ত ৭১ হাজার ৬৬৭ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। যার অর্ধেকই নারী ও শিশু। প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, মন্ত্রণালয়ের পরিসংখ্যানে কেবল ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর সরাসরি গুলিতে নিহতদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। যারা অনাহারে বা রোগে আক্রন্ত হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন, তারাও এতে অন্তর্ভুক্ত হয়নি। আন্তর্জাতিক সংস্থা এবং গবেষকরা যে তথ্য পরীক্ষা করেছেন, তা ব্যাপকভাবে নির্ভরযোগ্য বলে বিবেচিত হয়।
তবে ২০২৫ সালের জুনে প্রকাশিত একটি গবেষণাসহ বেশকিছু গবেষণায় বলা হয়েছে, প্রকৃত মৃতের সংখ্যা আরো বেশি হতে পারে। গত বছরের শুরুর দিকে সহিংসতায় প্রায় দুই লাখ প্রাণ হারিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এছাড়া গাজায় ইসরাইলি হামলায় এক লাখ ৭১ হাজারেরও বেশি মানুষ আহত হয়েছে, যাদের বেশিরভাগই নারী ও শিশু। ধ্বংস হয়েছে ৯০ শতাংশ বেসামরিক অবকাঠামো, যা পুনর্নির্মাণ করতে ৭ বিলিয়ন ডলার ব্যয় হবে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ। গাজায় এখন ২৪ লাখ ফিলিস্তিনি আছেন, যাদের দেড় লাখই বাস্তুচ্যুত হয়ে শিবিরে বসবাস করছেন।
যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে ইসরাইল শুধু যে হামলা চালাচ্ছে তা নয়, অবরুদ্ধ উপত্যকায় খাদ্য, ওষুধ এবং আশ্রয় সামগ্রী প্রবেশেরও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে রেখেছে। ফলে তীব্র খাবার সংকটে দিন কাটাচ্ছেন ফিলিস্তিনিরা। চুক্তি লঙ্ঘনে প্রতিদিন প্রাণ যাচ্ছে ৪৮৮ জন ফিলিস্তিনির। সব মিলিয়ে এখানকার মানবিক সংকট বিপর্যয়কর অবস্থায় রয়ে গেছে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

