তিন বছরেরও বেশি সময় ধরে ইউক্রেনে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে রাশিয়া। এই যুদ্ধে যেকোনোভাবে জয়ী হতে চান ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। আর এ লক্ষ্যে নিজ দেশের সামরিক কর্মকর্তাদের নতুন যুদ্ধকৌশল সম্পর্কে জানালেন তিনি। ২৬ জানুয়ারি সামরিক সদস্যদের উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে জেলেনস্কি বলেন, ইউক্রেনীয় ইউনিটগুলোর কাজ হলো দখলদারদের ধ্বংসের এমন একটি স্তর নিশ্চিত করা, যেখানে রাশিয়ার ক্ষয়ক্ষতি প্রতি মাসে তাদের বাহিনীতে পাঠানো শক্তিবৃদ্ধির সংখ্যার চেয়ে বেশি হবে। তিনি বলেন, প্রতি মাসে ৫০ হাজার রুশ সেনার ক্ষয়ক্ষতির কথা ভাবা হচ্ছে বলছি। এটিই সর্বোত্তম মাত্রা।
সম্প্রতি ভিডিও বিশ্লেষণ করে জেলেনস্কি দাবি করেছেন, ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে ৩৫ হাজার রুশ সেনা হতাহতের খবর নিশ্চিত হওয়া গেছে, নভেম্বরে যে সংখ্যা ছিল ৩০ হাজার, আর অক্টোবরে ২৬ হাজার। কিন্তু সোমবার তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, ৩৫ হাজারের মধ্যে নিহত এবং আহত সেনাও রয়েছে, যারা আর যুদ্ধক্ষেত্রে ফিরে আসবে না।
ইউক্রেনের সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান কমান্ডার ওলেক্সান্দ্র সিরস্কি তুলনামূলকভাবে সংযত ভাষায় বলেন, ডিসেম্বর মাসে ৩৩ হাজারের বেশি রুশ সেনা নিহত হয়েছে বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
ইউক্রেনের দাবি, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত ১২ লাখ রুশ সেনা পঙ্গু বা নিহত হয়েছে। সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ জানিয়েছে, রাশিয়ার ১২ লাখ সেনা হতাহতের শিকার হয়েছে, যার মধ্যে কমপক্ষে ৩ লাখ ২৫ হাজার মারা গেছে। অন্যদিকে ইউক্রেনের ৬ লাখ সেনা হতাহত হয়েছে, নিহত হয়েছে ১ লাখ ৪০ হাজার। তবে আলজাজিরা কোনো পক্ষের হতাহতের পরিসংখ্যানই স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি বলে জানিয়েছে।
বর্তমানে যুদ্ধ অচলাবস্থায় রয়েছে। রাশিয়া উল্লেখযোগ্য নতুন নতুন আঞ্চলিক ভূখণ্ড দখলে নিতে লড়াই করে যাচ্ছে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

