নেত্রকোণার পূর্বধলায় গভীর রাতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর এক কর্মীর ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার প্রতিবাদ ও দোষীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছে উপজেলা জামায়াতে ইসলামী।
মঙ্গলবার বিকেলে পূর্বধলা উপজেলা সদরের রৌশন আরা রোডে উপজেলা জামায়াতের দলীয় কার্যালয়ে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন নেত্রকোনা জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি ও নেত্রকোনা-৫ (পূর্বধলা) আসনের জামায়াত মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী মাছুম মোস্তফা। এসময় ভুক্তভোগী জামায়াত কর্মী সুরুজ্জামানসহ দলীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
বক্তব্যে জানানো হয়, উপজেলার বিশকাকুনী ইউনিয়নের কাছিয়াকান্দা গ্রামের আমজাদ আলীর ছেলে সুরুজ্জামান দীর্ঘদিন ধরে উপজেলা সদরের আমতলা এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় ‘নওরোজ কম্পিউটার ট্রেনিং অ্যান্ড কোচিং সেন্টার’ পরিচালনা করে আসছিলেন। পাশাপাশি একই স্থানে ‘ফ্যামিলি শপ’ নামে একটি মুদি ব্যবসাও চালু ছিল।
অভিযোগে বলা হয়, সোমবার রাত আনুমানিক ১২টার দিকে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত সংঘবদ্ধ একটি দল তার প্রতিষ্ঠানে প্রবেশ করে হামলা, ভাঙচুর ও ব্যাপক লুটপাট চালায়। এসময় সুরুজ্জামানকে মারধর করা হয়। পরে খবর পেয়ে সেনাবাহিনীর একটি টহল দল ঘটনাস্থলে পৌঁছালে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়।
সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়, হামলাকারীরা প্রতিষ্ঠান থেকে ১০টি কম্পিউটার, ২টি প্রিন্টার, ২টি সিসি ক্যামেরা, একটি মোটরসাইকেল, ১০ বস্তা চিনি, ১০ বস্তা মসুর ডাল, ৫০০ কেজি ডিটারজেন্ট ও ২০ কার্টন সয়াবিন তেল লুট করে নিয়ে যায়। লুট হওয়া মালামালের আনুমানিক মূল্য প্রায় ৯ লাখ ২ হাজার ৪৫০ টাকা।
জামায়াত নেতারা অভিযোগ করেন, হামলার সঙ্গে বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা জড়িত। এ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তারা।
এসময় উপস্থিত ছিলেন নেত্রকোণা জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা সাদেক আহমদ হারিছ, উপজেলা জামায়াতের নায়েবে আমির জয়নাল আবেদীন, জেলা ছাত্রশিবিরের সভাপতি রাসেল আহমেদ, তাজুল ইসলাম, শরিফুল ইসলামসহ অন্যান্য নেতাকর্মীরা।
অন্যদিকে অভিযোগ অস্বীকার করে বিএনপি ও তাদের অঙ্গসংগঠনের নেতারা বলেন, ঘটনার সঙ্গে তাদের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। তারা দাবি করেন, জামায়াত নির্বাচনকে সামনে রেখে ভোটারদের মাঝে পণ্যসামগ্রী বিতরণ করছিল এবং এ নিয়ে স্থানীয় সাধারণ মানুষের মধ্যে অসন্তোষ সৃষ্টি হয়। তবে হামলা ও লুটপাটের সঙ্গে তাদের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই বলে জানান তারা।
পূর্বধলা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. দিদারুল ইসলাম জানান, ঘটনাটি শুনেছি। এখনও অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

