ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার খারুয়া বাজারে স্থানীয় বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় দায়ের হওয়া দুই মামলায় শতাধিক ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে। সংঘর্ষের ঘটনার দ্বিতীয় দিনেও খারুয়া বাজার ও আশপাশের এলাকায় ১৪৪ ধারা বহাল রয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার খারুয়া ইউনিয়নের খারুয়া বাজারে দীর্ঘদিনের জমি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান দখলকে কেন্দ্র করে বৃহস্পতিবার সকালে স্থানীয় বিএনপির দুই প্রভাবশালী পক্ষের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। কয়েক ঘণ্টাব্যাপী চলা সংঘর্ষে অন্তত ২০ জন আহত হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ৮ রাউন্ড রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে।
স্থানীয়রা জানান, খারুয়া গ্রামের আব্দুর রউফ ও নরেন্দ্রপুর গ্রামের শওকত আলীর মধ্যে প্রায় ৩০ বছর আগে ক্রয় করা দুই শতাংশ জমির দখল নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। ওই বিরোধের জেরে বৃহস্পতিবার সকালে উভয় পক্ষের সমর্থকরা খারুয়া বাজারে অবস্থান নেন। একপর্যায়ে দেশীয় অস্ত্র, দা, বল্লম, টেঁটা ও লাঠিসোঁটা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া এবং সংঘর্ষ শুরু হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সংঘর্ষ চলাকালে বাজারের বিভিন্ন দোকানপাট ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। আতঙ্কে ব্যবসায়ীরা দোকানপাট বন্ধ করে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেন। দীর্ঘ সময় ধরে চলা সংঘর্ষে পুরো বাজার এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।
স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের ভাষ্য অনুযায়ী, সংঘর্ষে জড়িত আব্দুর রউফ ও শওকত আলী দুজনই বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত এবং এলাকায় প্রভাবশালী নেতা হিসেবে পরিচিত। নান্দাইল উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ওয়ালি উল্লাহ জানান, শওকত আলী ও আব্দুর রউফ উভয়েই বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। তিনি দাবি করেন, আব্দুর রউফ স্থানীয় সংসদ সদস্য ও সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরীর ঘনিষ্ঠ অনুসারী।
ঘটনার পর সংঘর্ষ, ভাঙচুর ও আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির অভিযোগে পুলিশ বাদী হয়ে ৭০ জনের নাম উল্লেখ করে একটি মামলা দায়ের করেছে। অন্যদিকে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার অভিযোগ এনে আব্দুর রউফ ভাঙচুর, লুটপাট ও হামলার ঘটনায় ৩৩ জনের নাম উল্লেখ করে পৃথক আরেকটি মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় আরও ১৭০ থেকে ১৯০ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে।
নান্দাইল মডেল থানার ওসি মো. আজহারুল ইসলাম বলেন, “জমি দখলকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, ভাঙচুর ও আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর অভিযোগে পুলিশ বাদী হয়ে ৭০ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে। এ মামলায় শাহাদাত হোসেন নামে একজন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”
নান্দাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফাতেমা জান্নাত বলেন, “পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টা থেকে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এ আদেশ বহাল থাকবে। প্রয়োজন হলে আরও কয়েকদিন ১৪৪ ধারা কার্যকর রাখা হবে।”
এদিকে সংঘর্ষের পর থেকে খারুয়া বাজার ও আশপাশের এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। যেকোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রাখা হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

