প্রার্থীদের গণসংযোগে জমে উঠেছে নির্বাচনি মাঠ

প্রার্থীদের গণসংযোগে জমে উঠেছে নির্বাচনি মাঠ

জামালপুর-৪ (সরিষাবাড়ী) আসনের নির্বাচনি মাঠ বিএনপি ও জামায়াতের প্রার্থীসহ বিভিন্ন দলের সম্ভাব্য প্রার্থীর গণসংযোগে সরগরম হয়ে উঠেছে। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা না হলেও প্রার্থীরা এলাকা চষে বেড়াচ্ছেন। আসনটিতে বিএনপি ও জামায়াতসহ বিভিন্ন দলের একক প্রার্থী কেন্দ্রের মনোনয়ন পেয়ে নিয়মিত সভা-সমাবেশ, পথসভা ও গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন। এতে ভোটারদের মধ্যে দেখা দিয়েছে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা।

এই আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন জেলা সভাপতি ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ফরিদুল কবির তালুকদার শামীম। তিনি বিএনপির সাবেক মহাসচিব ও সাবেক মন্ত্রী মরহুম ব্যারিস্টার আব্দুস সালাম তালুকদারের ভাতিজা। একক প্রার্থী হওয়ায় তৃণমূল নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ করে সাধারণ ভোটারদের মন জয় করতে মনোনিবেশ করেছেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

ইউনিয়নের প্রতিটি ওয়ার্ডে কর্মিসভার পাশাপাশি বিএনপির ৩১ দফা বাস্তবায়নের লিফলেট বিতরণ করে শামীম তালুকদার আলোচনায় এসেছেন। ২০০৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থীর কাছে অল্প ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হলেও ২০১৪ সালের উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান হিসেবে জয়লাভ করে সবাইকে তাক লাগিয়ে দেন তিনি। আওয়ামী শাসনামলে শত নির্যাতন, হামলা-মামলা উপেক্ষা করে তিনি এলাকায় ওয়ার্ডভিত্তিক সভা-সমাবেশের মাধ্যমে দলকে উজ্জীবিত রাখেন। ধানের শীষকে বিজয়ী করতে তার সমর্থনে স্থানীয় বিএনপির সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা ঐক্যবদ্ধভাবে মাঠে নেমে ভোট চাইছেন।

শামীম তালুকদার বলেন, সাম্য ও মানবিক বাংলাদেশ বিনির্মাণে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের রাষ্ট্র কাঠামো মেরামতের ৩১ দফা বাস্তবায়নে ন্যায়, ইনসাফ ও উন্নয়নের ধারা ফিরিয়ে আনতে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করুন।

অন্যদিকে জেলা জামায়াতের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মো. আব্দুল আওয়াল এ আসনে দলের একক প্রার্থী হিসেবে কয়েক মাস যাবৎ গণসংযোগ করছেন। সততা ও গ্রহণযোগ্যতার কারণে তিনি সাধারণ ভোটারদের কাছে জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন। তিনি ধারাবাহিকভাবে হাটবাজার, মসজিদ-মাদরাসা এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করে ভোট চাইছেন। জামায়াতের নেতাকর্মীদের ধারণা, ধানের শীষের জনপ্রিয়তাকে চ্যালেঞ্জ জানাতে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের জনসমর্থন বেড়েছে বহুগুণ। ধীরে ধীরে কমে আসছে বিজয়ের ব্যবধান। নির্বাচনে জয়লাভ করতে স্থানীয় জামায়াত, ছাত্রশিবিরসহ বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা দাঁড়িপাল্লার জন্য কাজ করছেন।

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য সচিব ও সরিষাবাড়ীর যুগ্ম সমন্বয়ক ডা. মোশাররফ হোসেন মিলন দলের নেতাকর্মীদের নিয়ে মাঠে-ময়দানে সভা-সমাবেশ, র‌্যালিসহ বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়ে নির্বাচনি প্রচারে সক্রিয় রয়েছেন।

তিনি বলেন, সরিষাবাড়ীকে আধুনিক, নিরাপদ ও বাসযোগ্য করে গড়তে তুলতে কাজ করব। সবার জন্য সম্মান, ন্যায়বিচার ও সেবার নিশ্চয়তার পাশাপাশি শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি ও যোগাযোগব্যবস্থার সংস্কার এনে অনিয়ম, দুর্নীতি ও রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা হবে। এছাড়া মাদক, জুয়া ও সামাজিক অন্যায়ের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে, যাতে এ অঞ্চল শান্তি, সম্প্রীতি ও নিরাপত্তার প্রতীক হয়। আমরা প্রত্যেক নাগরিকের মতামতকে গুরুত্ব দিয়ে শিক্ষা, সেবার ও স্বচ্ছতার আধুনিক সরিষাবাড়ী গড়ে তুলব।

আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির সরিষাবাড়ী উপজেলা আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট জাহিদ হাসান দলীয় মনোনয়ন পেয়ে নির্বাচনি মাঠে জনগণের আস্থা ও কল্যাণের প্রতিশ্রুতি নিয়ে প্রচার শুরু করেছেন। তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন, সততা, ন্যায় ও উন্নয়নের রাজনীতিই পারে এলাকার মানুষের জীবনমান উন্নত করতে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অবকাঠামো ও কর্মসংস্থানে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনা তার প্রধান লক্ষ্য।

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় শূরা সদস্য, জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা শাখার সহসভাপতি মুফতি মোখলেছুর রহমান জমিরী রিকশা প্রতীকের প্রার্থী হিসেবে প্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস প্রতিষ্ঠার পর থেকে খেলাফতভিত্তিক আদর্শ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় কাজ করে যাচ্ছে। বর্তমান ব্যবস্থায় আদর্শ ও কল্যাণ রাষ্ট্র গঠনের প্রচেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করে তিনি আরো বলেন, কোরআন ও সুন্নাহভিত্তিক কল্যাণ রাষ্ট্র গঠনের লক্ষ্যে আল্লামা মামুনুল হকের হাতকে শক্তিশালী করে রিকশা প্রতীকে ভোট দিয়ে জায়যুক্ত করুন।

এদিকে গণঅধিকার পরিষদের সম্ভাব্য প্রার্থী আল আমিন মিলু বলেন, জননিরাপত্তাই একটি জাতির সত্যিকারের উন্নয়ন; দালানকোঠা নয়। মানুষের নিরাপদ জীবনই সমৃদ্ধির ভিত্তি। আমি সে নিরাপত্তা নিশ্চিতের লক্ষ্যে লড়াই করছি, যাতে জনগণ ভয়মুক্তভাবে বাঁচতে পারে, স্বপ্ন দেখতে পারে এবং একটি স্থিতিশীল, ন্যায়ভিত্তিক আগামীর বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারে।

এছাড়া ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মাওলানা আলী আকবর সিদ্দীক, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের মো. আমির উদ্দিন, জাকের পার্টির এম আকাশ, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের আ. হালিম সাদিক, নাগরিক ঐক্যের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এসএমএ কবীর হাসান গণতন্ত্র মঞ্চের মনোনয়নের ইঙ্গিত পেয়ে নির্বাচনি মাঠে সক্রিয় হয়েছেন।

বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সভাপতি প্রকৌশলী মাহবুবুর রহমান জুয়েল পোস্টার লাগিয়ে প্রচার চালাচ্ছেন। এছাড়া মুক্তিযুদ্ধে সরিষাবাড়ীর প্রথম শহীদ মোজাম্মেল হক আসমানীর ছোট ভাই নৌবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত সদস্য একেএম ফজলুল হক সরকার স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনি মাঠে সক্রিয় রয়েছেন বলে জানা গেছে। স্থানীয় ভোটার ও রাজনীতি সচেতন মহল মনে করেন, সরিষাবাড়ী আসনে বিএনপি-জামায়াতের মধ্যে লড়াইয়ের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে বিএনপির সাংগঠনিক অবস্থান শক্তিশালী থাকায় দলটি তুলনামূলকভাবে অনেক এগিয়ে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন