প্রথমবারের মতো পদ্মা সেতু হয়ে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে পৌঁছেছে ইউরেনিয়াম। গাজীপুরে পোশাকশ্রমিকদের চলমান আন্দোলন ও সম্ভাব্য সংঘাত এড়াতে নিরাপত্তার স্বার্থে প্রচলিত রুট পরিবর্তন করে বিকল্প পথে আনা হয়েছে রাশিয়া থেকে আমদানি করা পারমাণবিক জ্বালানি।
শুক্রবার সকাল ৭টা ৩২ মিনিটে সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে এবং অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে ইউরেনিয়ামবাহী তিনটি বিশেষায়িত লরি রূপপুর প্রকল্প এলাকায় প্রবেশ করে।
এবার রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ে, পদ্মা সেতু, ফরিদপুরের ভাঙ্গা, রাজবাড়ী, কুষ্টিয়া ও পাকশীর লালন শাহ সেতু হয়ে রূপপুরে পৌঁছায় ইউরেনিয়ামবাহী গাড়িবহর। এর আগে পারমাণবিক জ্বালানি পরিবহনে এ রুট ব্যবহার করা হয়নি।
রূপপুর প্রকল্পের সাইট ইনচার্জ রুহুল কুদ্দুস টুটল জানান, গাজীপুরে পোশাকশ্রমিকদের চলমান আন্দোলন ও সম্ভাব্য সংঘাত এড়াতে নিরাপত্তাজনিত কারণে প্রথমবারের মতো বিকল্প পথে পারমাণবিক জ্বালানি পরিবহন করা হয়েছে।
এর আগে ইউরেনিয়ামবাহী গাড়িবহর ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক, বঙ্গবন্ধু সেতু, নাটোরের বনপাড়া ও পাবনার ঈশ্বরদীর দাশুড়িয়া হয়ে প্রকল্প এলাকায় পৌঁছাত।
এ চালানসহ রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের জন্য অতিরিক্ত ইউরেনিয়ামের একটি এবং দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য চারটিসহ মোট পাঁচটি চালান প্রকল্প এলাকায় পৌঁছেছে।
রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক সংস্থা রোসাটমের তথ্য অনুযায়ী, দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য সাতটি কার্গো বিমানে ১৬৩টি ইউরেনিয়াম অ্যাসেম্বলি এবং প্রথম ইউনিটে পুনরায় জ্বালানি সরবরাহের জন্য আরও দুটি কার্গোতে ৪৮টি অ্যাসেম্বলি বাংলাদেশে আনার পরিকল্পনা রয়েছে। সব মিলিয়ে নয়টি চালানে এসব পারমাণবিক জ্বালানি দেশে আনা হবে।
এদিকে, রাশিয়ার প্রযুক্তিতে নির্মিত রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে ভিভিইআর-১২০০ মডেলের দুটি ইউনিট রয়েছে। এর মধ্যে প্রথম ইউনিটে শুরু হয়েছে ‘পাওয়ার স্টার্টআপ স্টেজ-সি’ কার্যক্রম। গত ২৯ অক্টোবর বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (বায়েরা) চেয়ারম্যান ড. মাহমুদুল হাসান এ কার্যক্রম শুরুর অনুমোদন দেন।
স্টেজ-সি পর্যায়ে ধাপে ধাপে রিঅ্যাক্টরের ক্ষমতা বাড়িয়ে কেন্দ্রের বিভিন্ন যন্ত্রপাতি, টারবাইন-জেনারেটর, পরিচালন ও নিরাপত্তাব্যবস্থার কার্যকারিতা পরীক্ষা করা হচ্ছে। পরীক্ষা সফলভাবে সম্পন্ন হলে প্রথম ইউনিটের জেনারেটর জাতীয় বিদ্যুৎ সঞ্চালন গ্রিডের সঙ্গে যুক্ত করা হবে। এ প্রক্রিয়াকে বলা হয় ‘সিনক্রোনাইজেশন’।
সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে নভেম্বর মাসে প্রথম ইউনিট থেকে পরীক্ষামূলকভাবে প্রায় ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করার লক্ষ্য রয়েছে। তবে এ কার্যক্রম নিয়ন্ত্রক সংস্থার শর্ত ও প্রয়োজনীয় অনুমোদন সাপেক্ষে সম্পন্ন হবে।
Ñএমএইচ
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

