রাজশাহী কলেজে

শিক্ষার্থীকে পিটিয়ে আহত করলেন ছাত্রদল কর্মী

শিক্ষার্থীকে পিটিয়ে আহত করলেন ছাত্রদল কর্মী
অভিযুক্ত ছাত্রদল কর্মী। ছবি: আমার দেশ

রাজশাহী কলেজের মুসলিম ছাত্রাবাসে দুই রুমমেটের দ্বন্দ্বের জের ধরে এক শিক্ষার্থীকে সংঘবদ্ধভাবে মারধরের অভিযোগ উঠেছে ছাত্রদল কর্মীদের বিরুদ্ধে। হামলায় গুরুতর আহত শিক্ষার্থী শাহাবুর হোসেন জয়কে (২৪) রক্তবমি ও নাক-মুখ দিয়ে রক্তক্ষরণ অবস্থায় উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

বুধবার সকাল ১০টার দিকে ছাত্রাবাসের 'বি' ব্লকের ১০৬ নম্বর কক্ষে এ সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। তবে ছাত্রদল নেতৃত্ব এ ঘটনায় সংগঠনের সম্পৃক্ততার কথা অস্বীকার করেছে।

বিজ্ঞাপন

আহত শাহাবুর হোসেন জয় রাজশাহী কলেজের ব্যবস্থাপনা বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। অন্যদিকে, অভিযুক্ত মো. ফজলে রাব্বী ওহী ইতিহাস বিভাগের ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে অধ্যয়নরত। তারা দুজনই ওই কক্ষের আবাসিক শিক্ষার্থী।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন জয় অভিযোগ করেন, কক্ষে ওঠার পর থেকেই বিভিন্ন বিষয় নিয়ে রাব্বীর সঙ্গে তার বিরোধ চলছিল। বুধবার সকালে রাব্বী এক বন্ধুর সঙ্গে কথা বলার সময় তাকে অশালীন ভাষায় গালিগালাজ করেন। এর প্রতিবাদ জানালে রাব্বী তার মাথায় আঘাত করেন এবং দুজনের মধ্যে হাতাহাতি শুরু হয়। পরে সাধারণ শিক্ষার্থীরা এসে তাদের শান্ত করেন।

জয়ের দাবি, এই ঘটনার প্রায় ৩৫ মিনিট পর রাজশাহী কলেজ ছাত্রদলের কর্মী প্রীতম সেখানে এসে কোনো কথা না শুনেই তার ওপর চড়াও হন। পরে প্রীতমের সঙ্গে আরও কয়েকজন যোগ দিয়ে তাকে এলোপাতাড়ি মারধর ও টেনেহিঁচড়ে নিয়ে যায়।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ইয়াজ উদ্দিন নামে এক শিক্ষার্থী জানান, মারধরের পর জয় আশঙ্কাজনক অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে হোস্টেল সুপারের সহায়তায় তাকে উদ্ধার করে রামেক হাসপাতালের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ২১ নম্বর শয্যায় ভর্তি করা হয়। একাধিক শিক্ষার্থী জানান, প্রথমে দুই রুমমেটের সামান্য বাকবিতণ্ডা হলেও বহিরাগত ও রাজনৈতিক পরিচয়ধারী কর্মীরা এসে পরিস্থিতি সহিংস করে তোলেন।

ঘটনার পর কলেজ প্রশাসনের কাছে মৌখিক প্রতিবাদ জানিয়েছে রাজশাহী কলেজ শাখা ইসলামী ছাত্রশিবির। সংগঠনটির শাখা সভাপতি মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘দুই রুমমেটের বিরোধকে কেন্দ্র করে সাধারণ একজন শিক্ষার্থীকে দলবদ্ধভাবে নির্যাতন করা হয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজ পর্যবেক্ষণ করে জড়িতদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার, ছাত্রাবাসের সিট বাতিল এবং দায়িত্বে ব্যর্থ হোস্টেল প্রশাসনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।’ বিচার না পেলে সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিয়ে আন্দোলনের হুমকি দেন তিনি।

বিবাদমান পক্ষ ও প্রশাসনের বক্তব্য

অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে অভিযুক্ত ফজলে রাব্বী ওহী বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে প্রোপাগান্ডা ছড়ানো হচ্ছে। এর চেয়ে বেশি কিছু আমি বলব না।’

এ বিষয়ে রাজশাহী কলেজ ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক রাশিকুজ্জামান প্রীতম অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘দুই রুমমেটের নিজস্ব ঝামেলায় উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ছাত্রদলের নাম জড়ানো হচ্ছে। একটি পক্ষ সংগঠনের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করতে এই চক্রান্ত করছে। তবে আমরাও চাই প্রকৃত দোষীদের তদন্তের মাধ্যমে শাস্তি দেওয়া হোক।’

এ বিষয়ে রাজশাহী কলেজের উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক আবু মো. ইউনুছ আলী জানান, খবর পেয়ে প্রশাসন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীকে দেখতে হাসপাতালে যায়। কলেজের সার্বিক নিয়ম অনুযায়ী তদন্ত কমিটি গঠন করে নিরপেক্ষ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মুসলিম ছাত্রাবাসের প্রধান তত্ত্বাবধায়ক ও পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মোস্তফা নাসিরুল আজম বলেন, ‘দুই সাধারণ শিক্ষার্থীর ঝগড়াকে তৃতীয় পক্ষ এসে ঘোলাটে করেছে। এখন পর্যন্ত সরাসরি কোনো রাজনৈতিক দলের সম্পৃক্ততার প্রমাণ মেলেনি। নিরপেক্ষ তদন্ত শেষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

এমএইচ

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন