মাদক কারবারে জড়িত থাকায় যুবদল নেতা গ্রেপ্তার, দল থেকে বহিষ্কার

উপজেলা প্রতিনিধি, গুরুদাসপুর (নাটোর)

মাদক কারবারে জড়িত থাকায় যুবদল নেতা গ্রেপ্তার, দল থেকে বহিষ্কার
ছবি: আমার দেশ

নাটোরের গুরুদাসপুরে নারীসহ যুবদল নেতা রেজাউল করিমকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার দুপুরের দিকে ১৫১ ধারায় মামলা দেখিয়ে তাকে জেলহাজতে পাঠিয়েছে পুলিশ। সাধারণ ধারার মামলা হওয়ায় এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে।

জানা যায়, রেজাউল করিম রেজা (৪২) উপজেলার নাজিরপুর ইউনিয়ন যুবদলের ১নং যুগ্ম আহ্বায়ক। বুধবার গভীর রাতে উপজেলার হামলাইকোল এলাকার আদম ব্যবসায়ী বুলবুলের বাড়িতে তার স্ত্রী রুমা আক্তার লাবণী (৩৩)সহ রেজাকে গ্রেপ্তার করা হয়। রেজাউল করিম উপজেলার দৌলতপুর গ্রামের রিয়াজ উদ্দিনের ছেলে।

বিজ্ঞাপন

স্থানীয়রা জানায়, রুমা দীর্ঘদিন ধরে মাদকের ব্যবসা করে আসছে। ঘটনার রাতে তাদের আটক করে পুলিশে খবর দিলে তারা মাদক সরিয়ে ফেলে। গ্রেপ্তারের ১৭ ঘণ্টা পর নানা নাটকীয়তা শেষে ১৫১ ধারায় মামলা করা হয়।

বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৪টায় তাদের কোর্টে চালান দেওয়া হয়। ঘণ্টাখানেক ব্যবধানে যুবদল নেতার জামিনের জন্য তার শুভাকাঙ্ক্ষী ও আত্মীয়স্বজন আদালতে প্রস্তুত ছিলেন। আদালতে হাজির হওয়া মাত্রই জামিন হয়ে যায়।

বুধবার রাতে সোশ্যাল মিডিয়ায় স্থানীয়দের ধারণকৃত রাতের ভিডিওতে দেখা যায়, রুমা সিগারেটে গাজা ভরছেন। পাশেই বসে থাকা যুবদল নেতা রেজা মাদক বিক্রির টাকা গুনছেন। এটা তাদের নিত্যদিনের কাজ বলে জানায় এলাকাবাসী।

এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার জেলা যুবদলের সহদপ্তর সম্পাদক জাহিদ হাসান স্বাক্ষরিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানা যায়, রেজাউল করিমের নৈতিক স্খলন, দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও দলের নীতি, আর্দশ ও সংহতি পরিপন্থি কাজ করার অপরাধে সদস্য পদসহ দল থেকে তাকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপি নেতা বলেন, ‘বিএনপির নাম ব্যবহার করে কিছু ব্যক্তি মাদক ব্যবসা ও সেবনের সঙ্গে জড়িত হয়ে পড়েছে। এতে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হচ্ছে। এসব ব্যক্তিকে দ্রুত শনাক্ত করে দল থেকে বহিষ্কার করা উচিত।’

গুরুদাসপুর থানার ওসি মনজুরুল আলম বলেন, বাদী পাওয়া যায়নি। আসামিদের কাছে মাদক না পাওয়ায় ১৫১ ধারায় পুলিশ মামলা করে তাদের নাটোর কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

এমএইচ

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন