ডিবি হাজতে হত্যা মামলার আসামির আত্মহত্যা

জেলা প্রতিনিধি, বগুড়া

ডিবি হাজতে হত্যা মামলার আসামির আত্মহত্যা

বগুড়ায় জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের হেফাজতে থাকা হত্যা মামলার এক আসামি গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। পুলিশ জানায়, হাজতখানার বাথরুমে লুঙ্গি দিয়ে গলায় ফাঁস দিয়ে তিনি আত্মহত্যা করেন।

বিজ্ঞাপন

রোববার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

তার নাম আসাদুজ্জামান আসাদ (৩০)। তিনি বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলার জোরগাছা উত্তরপাড়া গ্রামের মতি মুন্সির ছেলে।

শনিবার দুপুরে বগুড়া রেলস্টেশন এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশ।

পুলিশ জানায়, গত ২৯ জুন সকালে উপজেলার দড়িপাড়া কৈখালী এলাকার একটি বিল থেকে অটোরিকশাচালক আবদুল মান্নানের লাশ উদ্ধার করা হয়। তদন্তে নিহতের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনের সূত্র ধরে শনিবার আসাদকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার কাছ থেকে নিহতের মোবাইল ফোনও উদ্ধার করা হয়েছে বলে পুলিশ জানায় ।

ডিবির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইকবাল বাহার বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসাদ জানিয়েছেন, গত ২৮ জুন সন্ধ্যার পর আরো দুইজনকে নিয়ে যাত্রী সেজে অটোরিকশা ভাড়া করেন। পরে সারিয়াকান্দি এলাকায় চালককে শ্বাসরোধে হত্যা করে লাশ বিলে ফেলে অটোরিকশা নিয়ে নওগাঁ যান। গ্যাস শেষ হয়ে গেলে সেখানে অটোরিকশাটি ফেলে পালিয়ে যান। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে শনিবার রাতে নওগাঁয় অভিযান চালানো হলেও অন্য দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।

পুলিশের ভাষ্য, রোববার দুপুর ১২টার দিকে আসাদকে আদালতে হাজির করার প্রস্তুতি চলছিল। সকাল ১০টা ১১ মিনিটে তিনি হাজতখানার বাথরুমে প্রবেশ করেন। প্রায় ১০ মিনিট পরও বের না হলে পুলিশ সদস্যরা ভেতরে গিয়ে ভেন্টিলেটরের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান।

পরে তাকে উদ্ধার করে নিকটস্থ মোহাম্মদ আলী হাসপাতালে নেওয়া হয়। চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

আসাদের বাবা মাদরাসাশিক্ষক মতি মুন্সি বলেন, উচ্চমাধ্যমিক পাস করার পর আসাদ মাদকাসক্ত হয়ে পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন। দীর্ঘদিন পরিবারের সঙ্গে তার যোগাযোগ ছিল না।

বগুড়া জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) হুসাইন মোহাম্মদ রায়হান বলেন, জিজ্ঞাসাবাদে আসাদ হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন।

এমই

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন