নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলায় ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে কথাকাটাকাটির জেরে মো. শান্ত ইসলাম (২৬) নামে এক যুবসংগঠন নেতাকে এলোপাতাড়ি মারধরের অভিযোগ উঠেছে। রোববার সন্ধ্যা আনুমানিক ৬টা ৫০ মিনিটে নলডাঙ্গা থানার পিপরুল ইউনিয়নের সেনভাগ ইসলামিয়া মাদ্রাসা মাঠে এ ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় তিনি গুরুতর আহত হয়ে নাটোর সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। পরে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে নলডাঙ্গা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
আহত শান্ত ইসলাম নাটোর জেলা এনসিপির যুবসংগঠনের সাংগঠনিক সম্পাদক এবং সেনভাগ লক্ষীকুল গ্রামের আব্দুস সাত্তারের ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিকেলে সেনভাগ ইসলামিয়া মাদ্রাসা মাঠে স্থানীয় যুবকেরা ফুটবল খেলছিলেন। খেলা শেষে মাঠে উপস্থিত সেনভাগ মাদ্রাসাপাড়ার মৃত সাদেক আলীর ছেলে আব্দুল হান্নান (৪৫) ও তার ছেলে মো. শান্ত ইসলাম (২০) ভিকটিম শান্ত ইসলামকে উদ্দেশ্য করে বলেন, “এই মাঠে আর ফুটবল খেলা হবে না, সামনে আমার নেত্রী আসতেছে।”
এ বক্তব্যকে কেন্দ্র করে উভয় পক্ষের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে অভিযোগ অনুযায়ী, বাবা-ছেলে মিলে লাঠিসোঁটা দিয়ে শান্ত ইসলামকে এলোপাতাড়ি মারধর করেন। এতে তিনি মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।
পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে নাটোর সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। কর্তব্যরত চিকিৎসক তার মাথায় পাঁচটি সেলাই দেন। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে রাত ৮টা ৫ মিনিটে তিনি নিজ বাড়িতে ফিরে যান।
এরপর রাত ৯টার দিকে শান্ত ইসলাম তার সমর্থকদের সঙ্গে নিয়ে নলডাঙ্গা থানায় উপস্থিত হয়ে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে একটি লিখিত এজাহার দাখিল করেন।
হাসপাতাল ও পারিবারিক সূত্র জানিয়েছে, বর্তমানে শান্ত ইসলাম আশঙ্কামুক্ত রয়েছেন এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী বিশ্রামে আছেন।
এ বিষয়ে নলডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নূরে আলম বলেন, “ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় যেন কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি না হয়, সে লক্ষ্যে পুলিশি নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। বর্তমানে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। এ ঘটনায় একটি লিখিত এজাহার পাওয়া গেছে। তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। স্থানীয়রা দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

