সকালে শৈত্যপ্রবাহ উপেক্ষা করে ১২-১৪ জন নারী ছুটে এলেন কৃষিজমিতে। এরপর শুরু হলো কৃষিকাজ। মটর, খেসারি, বুট, লাউ ও কুমড়ার ক্ষেতে নেমে শাক তুলছিলেন তারা। এসব কৃষিপণ্য তারা রাজশাহী মহানগরীর সিঅ্যান্ডবি মোড়ের বাজারে বিক্রি করবেন। ডালিতে ভরা এই ফসলের টাকা দিয়ে চলবে জীবিকা। সন্তানেরা যাবে স্কুলে এবং মুরব্বিরা পাবে ওষুধ।
শীতকালীন প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত পর্যন্ত চলে নারীদের এই বাজার। ফুটপাতে পাটি পেতে বসেন তারা। কুচি কুচি করে কচি শাকগুলো কাটেন রান্নার উপযোগী করে। এরপর তুলে দেন ক্রেতার হাতে। এ জন্য শাকগুলো ঝামেলা ছাড়াই অল্প সময়ে রান্না করে খেতে পারেন স্থানীয়রা।
প্রতি কেজি ভাতি (বইট্টা) শাক ৬০, খেসারি শাক ১০০ ও বুটের শাক ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া সরিষা, রাই, মেথি, মটর,শজিনা, লাউ ও অন্যান্য জাতের শাক ২০-৪০ টাকায় বিক্রি করেন তারা। সারা দিন এসব কৃষিপণ্য বেচে ১২০০ থেকে ১৫০০ টাকা ইনকাম করেন তারা। এ টাকা দিয়েই সংসার চলে তাদের।
সংগ্রামী এই যোদ্ধাদের একজন পলি খাতুন। সকাল ১০টার দিকে সিঅ্যান্ডবি মোড়ে জুলাই স্মৃতিস্তম্ভের সামনে কুচি কুচি করে শাক কেটে বিক্রি করতে দেখা যায় তাকে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা সবাই শ্রীরামপুরের মানুষ। ১৪ জন আছি, যারা শাক বিক্রি করি এখানে। সারা দিন বিক্রি করে রাতে বাড়িতে যাই। দিন শেষে যা থাকে, তাতে ভালোভাবেই সংসার চলে।
আরেক শাক বিক্রেতা চল্লিশোর্ধ্ব পারভীন বেগম। তিনি জানান, দৈনিক ১২০০ থেকে ১৫০০ টাকার শাক বিক্রি করেন তারা। এতে প্রচুর লাভ হয়। চরের মাঝে বেড়ে ওঠা ফসল বিক্রি করে তারা ভালোই আছেন।
শাক কিনে ফিরছিলেন ব্যবসায়ী শফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, শীতজুড়ে এখানে শাক পাওয়া যায়। শাকগুলো কুচি কুচি করে কেটে সুন্দরভাবে বিক্রি করেন নারীরা। ফলে কাটাকাটির ঝামেলা থাকে না। সহজেই নিয়ে গিয়ে রান্না করে খাওয়া যায়। তাছাড়া তরতাজা বিষমুক্ত শাক খেতে অনেক মজা লাগে।
এসআই
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


পাকিস্তানে সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানে নিহত ৮