‘নদী বাঁচাও, জীবন বাঁচাও, বাঁচাও বাংলাদেশ’ শিরোনামে রাজশাহীর পবা উপজেলার বারনই নদীর পাড়ে নদী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার বরেন্দ্র অঞ্চলসহ দেশের নদ-নদী দখল ও দূষণ বন্ধ এবং নদীর প্রবাহ ঠিক রাখার দাবিতে এ সমাবেশের আয়োজন করে রাজশাহী গ্রিন কোয়ালিশন, বরেন্দ্র ইয়ুথ ফোরাম ও বারসিক।
সমাবেশে বক্তারা রাজশাহী নগরের অপরিকল্পিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনার ফলে নদী ও বিলের মারাত্মক দূষণের চিত্র তুলে ধরেন। বারনই নদীপাড়ের বাসিন্দা জয়া ঘোষ ও মালতী রানী জানান, দূষিত পানি ব্যবহারের ফলে রোগবালাই বেড়েছে এবং হাঁস-মাছ মরে যাচ্ছে।
কৃষক জুয়েল রায়হান ও নুর মোহাম্মদ বলেন, নদী ও বিলের দূষিত পানিতে কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। মাছের প্রজাতি বিলুপ্ত হচ্ছে, এমনকি এ পানি চলনবিল পর্যন্ত পৌঁছাচ্ছে।
নদী গবেষক মাহবুব সিদ্দিকী উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, সরকারি খাল খনন কর্মসূচির নামে নদীগুলোকে ‘খাল’ আখ্যা দেওয়ার প্রবণতা বিপজ্জনক। নদীর নাম পরিবর্তন করে খাল করলে ভবিষ্যতে এসব জলাধার দখলের পথ সুগম হবে। বরেন্দ্র ইয়ুথ ফোরামের সভাপতি আতিকুর রহমানও নদীকে খাল নামকরণ বন্ধের জোর দাবি জানান।
সমাবেশের শুরুতে গ্রিন কোয়ালিশনের পক্ষ থেকে মাঠ পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয়। এতে দেখা যায়, রাজশাহী নগরের দূষিত বর্জ্য সরাসরি সাপমারার বিল, বাগমারি বিল, ভূগরোইল বিল, পাইকরের বিল, বড় বাড়িয়া বিল ও কর্ণাহার বিলসহ বৃহত্তর চলনবিলের জীববৈচিত্র্য ও কৃষি ধ্বংস করছে। ফলে চর্মরোগ, পানিবাহিত রোগ ও খাদ্য নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়েছে।
সমাবেশ থেকে সাত দফা দাবি জানানো হয়, ১. খাল খনন কর্মসূচির নামে নদীকে ‘খাল’ নামকরণ বন্ধ করতে হবে। ২. রাজশাহী নগরের তরল বর্জ্য শোধন ছাড়া নদী-বিলে ফেলা বন্ধ করতে হবে। ৩. বরেন্দ্র অঞ্চলের জলাধার ও নদী খননে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। ৪. সব শিল্প ও হাসপাতালে বাধ্যতামূলক ইফ্লুয়েন্ট ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট (ইটিপি) স্থাপন ও মনিটরিং জোরদার করতে হবে। ৫. দূষণের উৎস শনাক্তে স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠন করে প্রতিবেদন প্রকাশ করতে হবে। ৬. দূষিত বিল ও নদীর পানি ও মাটির গুণগত মান পরীক্ষা করে ফলাফল প্রকাশ করতে হবে। ৭. নদী-বিল দখল ও ভরাট বন্ধ করে জনগণের অংশগ্রহণে পুনরুদ্ধার পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

