রাজবাড়ী পৌর পয়োবর্জ্য স্টেশন দখল, গ্রাহক পর্যায়ে সেবা বিঘ্নিত

রাজবাড়ী প্রতিনিধি

রাজবাড়ী পৌর পয়োবর্জ্য স্টেশন দখল, গ্রাহক পর্যায়ে সেবা বিঘ্নিত
ছবি: আমার দেশ

রাজবাড়ীর পৌর পয়োবর্জ্য ব্যবস্থাপনা স্টেশনের আগের লোকজনকে হটিয়ে বিএনপি নেতাকর্মীরা নিজেরা দখলে নেওয়ায় অস্বাস্থ্যকর অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। ফলে বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় নাকাল পৌরবাসী। আগে একদিন পরপর বাসাবাড়ি ও অফিসের বর্জ্য সংগ্রহ করলেও এখন সপ্তাহে দুদিন সংগ্রহ করায় বাড়িতে জমে থাকা সমস্যা সমাধানের জন্য প্রতিদিন পৌরসভায় অভিযোগ দিচ্ছে ভুক্তভোগীরা। প্রতিকার না পেয়ে পরিবারের ব্যবহার্য বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে ক্ষুব্ধ পৌরবাসী। বাড়িতে জমে থাকা সাংসারিক বর্জ্য না সরানোয় পরিবেশ দূষণের শিকার শত শত পরিবার। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে রাজবাড়ী পৌরসভার বাসাবাড়ির পয়োবর্জ্য সংগ্রহ করে ডাম্পিং স্টেশনে (ল্যান্ডফিল্ড) ফেলতে দুটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের (এনজিও) সঙ্গে পৌরসভা চুক্তি করে। প্রতিষ্ঠান দুটি হলো ন্যাচার সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন ও রাজবাড়ী উন্নয়ন সংস্থা।

চুক্তির মাধ্যমে এ দুটি সংস্থাকে কাজ দেন সাবেক মেয়র। তাদের চুক্তি অনুযায়ী ২০২৭ সালের নভেম্বর পর্যন্ত তাদের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা। বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য পৌর কর্তৃপক্ষ তাদের গাড়ি, ভ্যান ও ভ্যাকুয়াম ট্রাক (মনুষ্যবর্জ্য অপসারণ ট্রাক) শর্ত সাপেক্ষে ব্যবহারের সুযোগ দেয়। এ কর্মকাণ্ডে ওয়ার্ড অনুযায়ী লোক নিয়োগসহ বাড়ি বাড়ি থেকে রান্নার বর্জ্য সংগ্রহ করে তা পৌর ডাম্পিং স্টেশনে ফেলে। এ কাজে নিয়োগ পাওয়া ওই দুটি এনজিও দায়িত্ব পালন করে আসছিল।

বিজ্ঞাপন

কিন্তু বিএনপি সরকার গঠনের পর সরকারদলীয় কিছু নেতাকর্মী আগের সংস্থার লোকদের হটিয়ে নিজেরা দখলে নেয় ডাম্পিং স্টেশনের ব্যবস্থাপনা সংস্থার অফিস। ফলে ভয়ে ও আতঙ্কে আগের সংস্থার লোকদের চলে যেতে বাধ্য করা হয়। ডাম্পিং এলাকা ঘুরে দেখা গেছে আগের সাইনবোর্ড নেই। কিন্তু নতুন কোনো সাইনবোর্ডও লাগায়নি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন কর্মচারী জানান, বিএনপির লোকজন দখল নেওয়ার পর ভয়ে আগের লোকজন চলে গেছে। তাছাড়া পৌর নাগরিকদের সঙ্গে ব্যবসা করতে গেলে নিয়ম মানতে হবে। কিন্তু এরা কোনো নিয়মের ধার ধারে না।

দখল হওয়ার পর গত ১৯ এপ্রিল পৌর কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ করে ন্যাচার সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন ও রাজবাড়ী উন্নয়ন সংস্থা এনজিওর প্রতিনিধি। কিন্তু পৌরসভা থেকে কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। বরং দায়িত্ব এড়ানোর মতো কথা বলেন পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা রবিউল হক।

তিনি বলেন, ‘পৌরসভা থেকে কাউকে নতুনভাবে ইজারা দেওয়া হয়নি। তবে কে দখল নিল, না নিল সেটি তাদের দেখার বিষয় নয়। বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ঠিকমতো হচ্ছে কি না সেটাই বড় কথা।’ বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ঠিকমতো হচ্ছে না, এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি আমার দেশকে জানান, গাফিলতির কারণে একজন কর্মচারীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এদিকে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার বিশৃঙ্খল অবস্থায় গ্রাহকরা প্রতিনিয়ত অভিযোগ দিচ্ছে পৌরসভায়। কিন্তু কোনো সুরাহার উদ্যোগ নিচ্ছে না কর্তৃপক্ষ।

জানা গেছে, বাসাপ্রতি ১০০ টাকা নিলেও বর্জ্য অপসারণের জন্য অতিরিক্ত টাকা আদায় করার অভিযোগ উঠেছে। ভ্যাকুয়াম ট্রাকে এক হাজার ৫০০ টাকা নেওয়ার কথা থাকলেও নেওয়া হচ্ছে দুই হাজার টাকা। আবার দুই ট্রাক বর্জ্য অপসারণ করার কথা থাকলেও অর্ধেকটা ভরে ট্রিপের সংখ্যা বাড়িয়ে গ্রাহকের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা নেওয়া অভিযোগ করছেন কেউ কেউ।

এদিকে সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী ও রাজবাড়ী-১ আসনের এমপি আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম জেলা সমন্বয় সভায় পৌর এলাকায় পয়োবর্জ্য অপসারণের বিষয় ক্ষোভ ঝেড়েছেন পৌর কর্তৃপক্ষের ওপর। গত রোববার পৌরসভার বিভিন্ন সড়কে, উঠানে ময়লা-আবর্জনা দেখে রীতিমতো বিস্ময় প্রকাশ করেছেন তিনি। শহরকে পরিষ্কার ও সুন্দর রাখতে পৌর প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্টদের প্রতি নির্দেশনা দিয়েছেন।

ল্যান্ডস্টেশন অবৈধভাবে দখলে নেওয়া ব্যক্তিরা হলো—রাজবাড়ী জেলা কৃষক দলের আহ্বায়ক আইয়ুব আলী ও রাজবাড়ী সদর উপজেলা বিএনপি সাংগঠনিক সম্পাদক চঞ্চল শাহরিয়ার। আইয়ুব আলী জানান, ‘পৌরসভা তাদের মৌখিক অনুমতি দিয়েছে, বিষয়টি এমপির নলেজে আছে। সামনাসামনি আলাপ করলে বুঝতে পারবেন।’ চঞ্চল জানান, তাদের সঙ্গে পৌরসভার চুক্তি হবে। পৌরসভা তাকে অনুমতি দিয়েছে। বিষয়টি টেন্ডার প্রক্রিয়ার মধ্যে আছে। তিনি আরো জানান, আগের এনজিও প্রতিনিধিদের কোনো কাগজপত্র নেই। তারা পৌরসভায় কোনো টাকা জমা দেয় না। তিনি জানান, তার কোনো এনজিও নেই তবে ব্যবসায়ী লাইসেন্স আছে। তবে তিনি বর্জ্য অপসারণের অনিয়মের বিষয়ে কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি তিনি।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন