চট্টগ্রামে নিহত সেনাসদস্য তাসনিম রিফায়াতের লাশ রাজশাহীর পবা উপজেলার দামকুড়া ইউনিয়নের বিন্দারামপুর গ্রামের বাড়িতে পৌঁছেছে। বুধবার রাত থেকে অপেক্ষায় থাকা স্বজনদের কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে বাড়ির পরিবেশ। রিফায়াতের মৃত্যুর খবরে পুরো গ্রামে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।
বৃহস্পতিবার দুপুরে তার লাশ গ্রামের বাড়িতে পৌঁছালে স্বজন ও এলাকাবাসী শেষবারের মতো তাকে দেখতে ভিড় করেন। সন্তান হারানোর শোকে বারবার কান্নায় ভেঙে পড়ছেন বাবা আসাদুল হক। স্বজনদের আহাজারিতে হৃদয়বিদারক পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে।
নিহত তাসনিম রিফায়াতের বাবা আসাদুল হক। তিন ভাই ও এক বোনের মধ্যে রিফায়াত ছিলেন মেজো। প্রায় ১০ বছর ধরে তিনি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে কর্মরত ছিলেন। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী ও প্রায় আড়াই বছর বয়সী ‘জুঁই’ নামের এক কন্যাসন্তান রেখে গেছেন।
পরিবারের সদস্যরা জানান, সেনাবাহিনীতে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি রিফায়াত ছিলেন পরিবারের অন্যতম ভরসা। তার এমন আকস্মিক মৃত্যু কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না স্বজনরা। ছোট্ট মেয়েটি এখনো বুঝতেই পারছে না, তার বাবা আর কখনো স্বাভাবিক জীবনে ফিরবেন না।
বুধবার রাত ৯টার দিকে চট্টগ্রাম সেনানিবাসে রিফায়াতের প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে লাশ ঢাকায় নেওয়া হয়। আনুষ্ঠানিকতা শেষে বৃহস্পতিবার দুপুরে লাশ গ্রামের বাড়িতে পৌঁছায়।
বৃহস্পতিবার জোহরের নামাজের পর বিন্দারামপুর গ্রামে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। পরে পারিবারিক ও স্থানীয়দের উপস্থিতিতে গ্রামের বিন্দারামপুর কবরস্থানে তার লাশ দাফন করা হবে।
রিফায়াতের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই বিন্দারামপুর গ্রামের মানুষ তার বাড়িতে ছুটে আসছেন। স্বজনদের সান্ত্বনা দেওয়ার পাশাপাশি শেষ বিদায়ে অংশ নিতে অপেক্ষা করছেন এলাকাবাসী।
নিহত সেনাসদস্যের বাবা আসাদুল হক বলেন, ‘সন্তানকে হারানোর কষ্ট কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। আমার ছেলে আর কোনো দিন ফিরে আসবে না, এটা ভাবতেই পারছি না।’
তার ছোট ভাই শামসাদ আহমেদ বলেন, ‘ভাইকে হারিয়ে আমরা কীভাবে থাকব, তা বুঝতে পারছি না। এলাকার মানুষ ও আত্মীয়স্বজন সবাই আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন। ভাইয়ের এমন মৃত্যু আমাদের পুরো পরিবারকে ভেঙে দিয়েছে।’
এমএইচ
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

