মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফারুক ই আজম (বীর প্রতীক) বলেছেন, আসন্ন গণভোটে ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ ভোটের বিষয়ে জনগণকে সচেতন করতেই আমরা মাঠে নেমেছি। ‘হ্যাঁ’ ভোটের মাধ্যমে রাষ্ট্রকাঠামোয় মৌলিক পরিবর্তন আনা সম্ভব হবে। এর ফলে ভবিষ্যতে কোনো ফ্যাসিস্ট সরকার যেন মানুষের ওপর নির্যাতন চালাতে না পারে, বিনা বিচারে হত্যা করতে না পারে, সে বিষয়গুলো সাংবিধানিকভাবে নিশ্চিত করা যাবে।
বুধবার সকাল সাড়ে ১০টায় বগুড়া সদরের ফাপোর পশ্চিমপাড়ায় জেলা তথ্য অফিসের আয়োজনে গণভোট ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষ্যে ভোটার উদ্বুদ্ধকরণ ও জনসচেতনতা বৃদ্ধি বিষয়ক উঠান বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধে আমরা বিদেশি শক্তির বিরুদ্ধে অস্ত্র হাতে যুদ্ধ করেছি। কিন্তু ২০২৪ সালের লড়াই ছিল নিজের বিরুদ্ধে নিজের লড়াই। একদলীয় শাসনের বিরুদ্ধে তরুণরা খালি হাতে রাস্তায় নেমেছে। বাবার বন্দুকের সামনে ছেলে বুক পেতে দিয়েছে। পৃথিবীতে খুব কম জাতি আছে, যারা এ ধরনের সংগ্রামের মধ্য দিয়ে এ পর্যায়ে এসেছে। এই অর্জনকে আমরা নিরঙ্কুশ করতে চাই ‘হ্যাঁ’ ও ‘না’ ভোটের মাধ্যমে।
তিনি আরো বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার কোনো রাজনৈতিক দল নয় এবং তারা অস্থায়ীভাবে দায়িত্ব পালন করছে। নির্বাচন সম্পন্ন হলেই এই সরকার দায়িত্ব ছেড়ে দেবে। জনগণ যাকে ইচ্ছা তাকে ভোট দেবে, সেখানে সরকারের কোনো ভূমিকা নেই। আমরা সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ।
এই প্রক্রিয়া সংবিধানে যুক্ত হলে জাতির যে-কোনো সংকটে জনগণের মতামত নেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে। জনগণের মতামতের ঊর্ধ্বে কিছু নেই, কারণ রাষ্ট্র জনগণের। রাষ্ট্রের চাবিকাঠি হাতে নেওয়ার যে সুযোগ এসেছে, তা যেন আমরা হেলায় হারিয়ে না ফেলি। সবাই মিলে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়ে এই উদ্যোগকে সফল করতে হবে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক তৌফিকুর রহমান, পুলিশ সুপার শাহাদত হোসেন, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি ও শিক্ষার্থীরা।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

