সরকারি রাস্তার গাছ কেটে নিচ্ছে দুর্বৃত্তরা, কর্তৃপক্ষ নীরব

উপজেলা প্রতিনিধি, তাড়াশ (সিরাজগঞ্জ)

সরকারি রাস্তার গাছ কেটে নিচ্ছে দুর্বৃত্তরা, কর্তৃপক্ষ নীরব

সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার বিভিন্ন গ্রামীণ সড়কের দুই পাশে রোপণকৃত সরকারি গাছ কেটে নিচ্ছে সংঘবদ্ধ গাছ চোরেরা। গভীর রাতে মেশিন ব্যবহার করে স্বল্প সময়ের মধ্যে গাছ কেটে পরিবহনের উপযোগী করা হয়। পরে মিনি ট্রাকে কিংবা ভ্যানে তুলে সেগুলো বিভিন্ন অবৈধ করাতকলে পাঠানো হয়।

বিজ্ঞাপন

গাছ কাটা নিয়ে বন বিভাগ, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) ও বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিএমডিএ) একে অন্যের ঘাড়ে দায় চাপানোর খেলা খেলছে। এ কারণে থানায় কোনো অভিযোগ না হওয়া বা আইনগত ব্যবস্থা না নেয়ায় বেপরোয়া হয়ে উঠেছে গাছ কাটা চক্রটি।

বন বিভাগ বলছে, গ্রামীণ সড়কের পাশের গাছের মালিকানা এলজিইডির। অন্যদিকে এলজিইডির ভাষ্য, গাছগুলোর মালিকানা বরেন্দ্র উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের। সরকারি দুই দপ্তরের মধ্যে মালিকানা অস্বীকারের নাটকে গাছগুলো হারিয়ে যাচ্ছে নিমিষে। বিস্ময়কর বিষয় হলো, কেটে নেয়া গাছের বিষয়ে এ পর্যন্ত কোনো দপ্তরের লোকজন থানায় অভিযোগ দায়ের করেনি।

বন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, তাড়াশ উপজেলার বিভিন্ন সড়কের পাশে প্রায় ১০০ কিলোমিটার সামাজিক বনায়ন করা হয়েছে। যেখানে বন বিভাগের রোপণ করা প্রায় এক লাখ গাছ আছে। এছাড়া কিছু সড়কে এলজিইডি এবং বিএমডিএ গাছ রোপণ করেছে। এসব গাছের বয়স পাঁচ থেকে ত্রিশ বছর।

গত কয়েক দিনে রাতে তাড়াশ কাটাগাড়ী রাস্তার ভাদাশ ও সেরাজপুর এলাকার দুই যুগের বেশি সময় আগে লাগানো বিশাল আকারের ছয়টি শিশুগাছ ও তিনটি মেহগনি গাছ কেটে নেয়া হয়েছে। অনুরূপভাবে তাড়াশ-সলংগা রাস্তা, তাড়াশ-কুন্দইল রাস্তা ও তাড়াশ-রানীরহাট রাস্তায় গাছ কাটার চলছে মহাউৎসব। এসব দেখার কেউ নেই।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গাছ কাটা চক্রটি রাত ১টা থেকে ভোর ৪টার মধ্যে সক্রিয় থাকে। তারা আগে থেকেই গাছ চিহ্নিত করে রাখে। এরপর একসঙ্গে কয়েকজন মিলে মেশিন (চেইনসো) দিয়ে দ্রুত গাছ কেটে ফেলে। পরে ছোট ট্রাক বা ভ্যানে তুলে সেগুলো নিয়ে যাওয়া হয় করাতকলে। দিনের বেলায় গেলে কেটে নেয়া গাছের গুঁড়ি শনাক্ত করা যায় না।

উপজেলা প্রকৌশলী মো. ফজলুল হক বলেন, সড়কের পাশের অধিকাংশ গাছ বন বিভাগের। কিছু সড়কের পাশে এলজিইডির গাছ রয়েছে। সেগুলোর নিয়মিত খোঁজ রাখছেন তারা।

উপজেলা বন কর্মকর্তা মো. কামরুজ্জামান বলেন, যে গাছগুলো কাটা হচ্ছে সেগুলো বন বিভাগের নয়, সেগুলো এলজিইডির। তবে তারা প্রতিটি সড়কের নিয়মিত খোঁজ নিচ্ছেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নুসরাত জাহান গাছ চুরির বিষয়ে জানতে চাইলে বলেন, এই বিষয়ে কেউ আমাকে অবগত করেনি। আর বিষয়টির খোঁজ-খবর নিয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ

এলাকার খবর
Loading...