ধুনট পৌরসভায় বেড়েছে নাগরিক সুবিধা, বদলাচ্ছে শহরের চিত্র

উপজেলা প্রতিনিধি, ধুনট (বগুড়া)

ধুনট পৌরসভায় বেড়েছে নাগরিক সুবিধা, বদলাচ্ছে শহরের চিত্র

বগুড়ার ধুনট পৌরসভায় প্রশাসক নিয়োগের পর দৃশ্যমান উন্নয়ন কার্যক্রমে গতি এসেছে। প্রায় সোয়া ৭ কোটি টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়িত বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে পৌর এলাকার অবকাঠামোগত উন্নয়ন যেমন ত্বরান্বিত হয়েছে, তেমনি বেড়েছে নাগরিক সেবার মানও। দীর্ঘদিনের অবহেলা ও ভোগান্তির পর এখন একের পর এক উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের ফলে বদলে যাচ্ছে পুরো এলাকার চিত্র।

২০০১ সালের ১৬ এপ্রিল প্রতিষ্ঠিত ধুনট পৌরসভার আয়তন ৪.৮৫ বর্গ কিলোমিটার এবং বর্তমানে এটি খ শ্রেণির পৌরসভা। এখানে প্রায় ২২ হাজার মানুষের বসবাস। প্রতিষ্ঠার পর থেকে নানা সমস্যা ও সীমাবদ্ধতার মধ্য দিয়ে পৌরসভার কার্যক্রম চললেও ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর পরিস্থিতির পরিবর্তন শুরু হয়। একই বছরের ২১ অক্টোবর সহকারী কমিশনার (ভূমি) খায়রুজ্জামান পৌর প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

বিজ্ঞাপন

দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই তিনি সরকারি বরাদ্দ ও পৌরসভার নিজস্ব রাজস্ব আয় ব্যবহার করে উন্নয়ন কার্যক্রম শুরু করেন। গত প্রায় দেড় বছরে ৭ কোটি ৩৬ লাখ ৪৯ হাজার ১৭১ টাকার বিভিন্ন উন্নয়ন কাজ বাস্তবায়ন হয়েছে, যা স্থানীয়দের প্রশংসা কুড়িয়েছে।

বাস্তবায়িত প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে—প্রায় সাড়ে ৪ কিলোমিটার নতুন সড়ক নির্মাণ ও সংস্কার, আড়াই কিলোমিটার ড্রেন নির্মাণ, ১৪৭ মিটার ওয়াকওয়ে, ২৯৫ মিটার বাউন্ডারি ওয়াল, ১২১টি স্থায়ী ও অস্থায়ী ডাস্টবিন স্থাপন এবং ১৩৫টি আধুনিক সড়কবাতি বসানো।

এছাড়া ২টি খেলার মাঠ নির্মাণ, ২০টি মসজিদ-মন্দিরসহ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সংস্কার, পৌর ভবন, হলরুম, গ্যারেজ ও পার্কের উন্নয়ন কাজও সম্পন্ন হয়েছে। পাশাপাশি বৃক্ষরোপণ, যুবকদের মাঝে খেলাধুলার সামগ্রী বিতরণ এবং হাট-বাজারের অবকাঠামোগত উন্নয়ন করা হয়েছে।

বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতার সমস্যা নতুন ড্রেনেজ ব্যবস্থার কারণে অনেকটাই কমে এসেছে। সড়কবাতি স্থাপনের ফলে রাতের অন্ধকার দূর হয়েছে, বেড়েছে নিরাপত্তা এবং কমেছে অপরাধের ঝুঁকি। বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমেও ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে, যা স্বাস্থ্যকর পরিবেশ গড়ে তুলতে সহায়ক ভূমিকা রাখছে।

পৌরসভার উন্নয়ন প্রকল্পগুলো সঠিকভাবে বাস্তবায়নের পাশাপাশি অনিয়ম ও অযাচিত ব্যয় নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে। ফলে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা নিয়মিত পরিশোধ নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে।

এমন উন্নয়ন কার্যক্রমে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের মতে, খায়রুজ্জামান দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই পৌরসভার সার্বিক উন্নয়ন দৃশ্যমান হয়েছে এবং নাগরিক সেবার মানও বেড়েছে। তারা আশা করছেন, এই ধারা অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে ধুনট আরও আধুনিক ও বাসযোগ্য শহরে পরিণত হবে।

ধুনট পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী সাজিদি হক জানান, দরপত্র অনুযায়ী সব উন্নয়ন কাজ যথাযথভাবে তদারকি করা হয়েছে এবং প্রশাসকের নির্দেশনায় চলমান কাজের মান নিশ্চিত করা হচ্ছে।

সদ্য বিদায়ী পৌর প্রশাসক খায়রুজ্জামান বলেন, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের অর্পিত দায়িত্ব তিনি সর্বোচ্চ আন্তরিকতার সঙ্গে পালন করার চেষ্টা করেছেন। নানা সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও পৌরবাসীর সহযোগিতায় উন্নয়ন কাজ বাস্তবায়ন এবং নাগরিক সেবা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, বর্তমান দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এই উন্নয়নের ধারাকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাবেন।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ

এলাকার খবর
Loading...