রাজশাহী-৩ (পবা-মোহনপুর) আসনে বিএনপির সংসদ সদস্য শফিকুল হক মিলনের সঙ্গে প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছেন জামায়াতকর্মী মো. আলাউদ্দিন হত্যা মামলার প্রধান আসামি রাইসুল ইসলাম রাসেল।
গত শুক্রবার বিকালে এমপিকে রাজশাহী বিমানবন্দরে রিসিভ করেন তিনি। পরে এমপির গাড়িবহরের সঙ্গে মোহনপুর থানার সামনে দিয়ে কেশরহাটে আয়োজিত ইফতার মাহফিলে অংশ নেন রাসেল।
গত শুক্রবার বিকালে ঢাকা থেকে রাজশাহী ফেরার পর বিমানবন্দরে এমপির সঙ্গে সেলফি তোলেন রাসেল। পরে তিনি ছবিটি ফেসবুকে পোস্ট করে লেখেন, এয়ারপোর্টে ভাইকে রিসিভ করলাম। তারপর কেশরহাটে ইফতার মাহফিলে যোগ দিতে রওনা। কিছুক্ষণ পর তিনি ছবিটি মুছে ফেলেন।
এ বিষয়ে সংসদ সদস্য শফিকুল হক মিলন বলেন, কে হত্যা মামলার আসামি তা খোঁজ রাখার সময় তার নেই। তিনি জানান, বিমানবন্দরে তার পরিচিত জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক রাসেলের সঙ্গে দেখা হয়েছিল। তার সম্পর্কে যতটুকু জানি, তার নামে কোনো মামলা ছিল না। তিনি চিহ্নিত কোনো সন্ত্রাসী বা দাগি আসামি এমন তথ্য আমার জানা নেই।
গত ৭ মার্চ মোহনপুর উপজেলার সাঁকোয়া এলাকায় বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে সংঘর্ষে জামায়াতকর্মী ও উপজেলা মডেল মসজিদের মুয়াজ্জিন মো. আলাউদ্দিন নিহত হন। ঈদের নামাজে ইমামতি করা নিয়ে বিরোধের জেরে ওই ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে। ওই ঘটনায় নিহতের ছেলে এমরান আলী বাদী হয়ে মোহনপুর থানায় সাতজনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার ১ নম্বর আসামি রাইসুল ইসলাম রাসেল।
কেশরহাট পৌর জামায়াতের সেক্রেটারি মোখলেসুর রহমান বলেন, হত্যা মামলার আসামি প্রকাশ্যে ঘোরাফেরা করলেও পুলিশ বলছে তাকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। এটা বিস্ময়কর।
মোহনপুর থানার ওসি বদলি হওয়ায় দায়িত্বে রয়েছেন উপপরিদর্শক মোদাচ্ছের হোসেন খান। তিনি বলেন, আসামিদের জামিনের কোনো কাগজপত্র পাইনি। তাদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। পলাতক থাকায় কাউকে গ্রেপ্তার করা যায়নি।
বিমানবন্দর ও ইফতার মাহফিলে আসামিদের উপস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, এয়ারপোর্ট তো মোহনপুর থানার ভেতরে নয়। আর ইফতারে কেউ ছিলেন কি না সেটা জানি না।
এমপি শফিকুল হক মিলন অবশ্য দাবি করেছেন, জামায়াতকর্মী আলাউদ্দিন মারা গেছেন স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে। তিনি বলেন, ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন এলে সব পরিষ্কার হয়ে যাবে বলে আশা করছি।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

