নিজের পায়ে দাঁড়াতে শিখেছেন জরিনা

নাবিউর রহমান (চয়ন), কাজিপুর (সিরাজগঞ্জ)

নিজের পায়ে দাঁড়াতে শিখেছেন জরিনা
সেলাই কাজে ব্যস্ত জরিনা খাতুন । আমার দেশ

হস্তশিল্প আর মুরগির ডিম ফুটিয়ে নিজের পায়ে দাঁড়াতে শিখেছেন সিরাজগঞ্জের কাজীপুরের জরিনা খাতুন। এখন তিনি সন্তানদের লেখাপড়া শিখিয়ে বড় করে তুলছেন। তার প্রতিষ্ঠানে কাজ করে জীবিকা অর্জন করছেন অনেকে।

জানা গেছে, সাত ভাইবোনের সংসারে বেড়ে ওঠেন জরিনা খাতুন। সন্তানদের ভরণপোষণ করতে দরিদ্র কৃষক বাবার হিমশিম অবস্থা। পঞ্চম শ্রেণির পরে আর পড়ালেখার পাঠ এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়নি জরিনা খাতুনের। মাত্র ১৬ বছর বয়সে তার বিয়ে হয়। কয়েক বছর পরে শ্বশুরবাড়ি যমুনার করালগ্রাসে হারিয়ে যায়। নিঃস্ব জরিনা খাতুন স্বামীকে সঙ্গে নিয়ে তার বাবার বাড়িতে বসবাস শুরু করেন।

বিজ্ঞাপন

বাবার বাড়িতে মাথা গোঁজার ঠাঁই পেলেও পেটের ক্ষুধা মেটানোর তেমন কোনো ব্যবস্থা ছিল না। তাই বাবার সংসারে বোঝা না হয়ে অর্থ উপার্জনের জন্য পরিকল্পনা করেন তিনি। নিজের পরিশ্রম আর স্বামীর গতর খাটানো অর্থে কোনোমতে ঘুরতে থাকে জরিনার সংসার। একটি বেসরকারি কোম্পানিতে কর্মরত স্বামীর উপার্জনে চলা কঠিন হয়ে পড়ে। এরইমধ্যে জরিনার কোলজুড়ে এসেছে দুটো সন্তান । যমুনা জরিনাকে ভিটেমাটিছাড়া করলেও স্বামীকে ঘিরে একটা স্বপ্ন ছিল তার। কিন্তু বিধি বাম। বড় ছেলের বয়স যখন আট আর ছোটটির বয়স চার বছর, তখন জরিনার স্বামী মারা যান।

জরিনা খাতুন বলেন, ‘ভবিষ্যতে আমার ব্যবসা আরো বড় করার চেষ্টায় আছি। শিগ্‌গিরই একটি কোয়েল পাখির খামার করার পরিকল্পনা রয়েছে। এতে করে আরো কিছু মানুষের কর্মসংস্থান হবে।’

কাজীপুর উপজেলা মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তা চিত্রা রানি সাহা বলেন, ‘জরিনা খাতুন আমাদের দেখিয়ে দিয়েছে কোনো কাজই ছোট নয়। ইচ্ছে থাকলে কোনো প্রতিবন্ধকতাই মানুষকে আটকাতে পারে না।

কাজীপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘জরিনার সংগ্রামী জীবন অনেক নারীকে সামনে চলার পথে অনুপ্রেরণা জোগাবে বলে আমি বিশ্বাস করি। জরিনার মতো কেউ কাজ করতে চাইলে সরকারিভাবে তাকে প্রশিক্ষণ ও পরে ঋণ দিয়ে সহায়তা করা হবে।’

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...