আমার দেশ জনপ্রিয় বাংলা নিউজ পেপার

কলেজছাত্র হত্যার ১৩ বছর পর দুই আসামির যাবজ্জীবন

জেলা প্রতিনিধি, নাটোর

কলেজছাত্র হত্যার ১৩ বছর পর দুই আসামির যাবজ্জীবন

নাটোরে কলেজছাত্র হত্যার ১৩ বছর পর দুই আসামির যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। বৃহস্পতিবার নাটোরের অতিরিক্ত দায়রা জজ ৪র্থ আদালতের বিচারক মো. দেলোয়ার হোসেন এই রায় দেন। রায়ে অনাদায়ে আরো তিন বছর করে বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেন বিচারক।

বিজ্ঞাপন

নিহত কলেজছাত্র কাহার সিংড়া উপজেলার বড়গ্রামের বাসিন্দা মাদরাসা শিক্ষক মো. আব্দুর রশিদের একমাত্র ছেলে। যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত মাসুদ রানা ও মিজানুর রহমান মিন্টু একই গ্রামের দক্ষিণপাড়ার আব্দুল মজিদ মন্ডল ও মৃত ফজলার রহমানের ছেলে।

মামলা ও আদালত সূত্রে জানা গেছে, ২০১৪ সালের ২৪ ডিসেম্বর বাড়ি থেকে বন্ধুরা কাহারকে ডেকে নিয়ে যায়। পরদিন পাশের মাঠের ফসলি জমিতে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত প্রাপ্ত ও শ্বাসরোধ করে হত্যা করা কাহারের মরদেহ পাওয়া যায়। এ ঘটনায় নিহতের পিতা চারজনকে আসামি করে সিংড়া থানায় পরের দিন হত্যা মামলা দায়ের করেন। পুলিশ আসামিদের গ্রেপ্তার করে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে ও হত্যাকাণ্ডে তাদের সম্পৃক্ততা পায় না। পরে অধিকতর তদন্ত করে পুলিশ জানতে পারে নিহত কলেজছাত্রের প্রেমিকার একই গ্রামের মাসুদ রানার সাথে বিয়ে হয়ে যায়। বিয়ের পরও কাহার সেই মেয়ের সাথে ফোনে গল্প করতো এবং রের্কড করে অন্যদের শোনাতো। এতে সমাজে মাসুদ রানা অসম্মানিত হয়ে গল্প করতে নিষেধ করে এবং রেকর্ড গুলো মুছে ফেলতে অনুরোধ করলে নিহত কাহার উলটো রেকর্ড গুলো ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেয়ার হুমকি দেয়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে মাসুদ রানা নিহতের বন্ধু মিজানুর রহমান মিন্টুকে সাথে নিয়ে কাহারকে হত্যা করে।

আদালতের পিপি রুহুল আমিন তালুকদার টগর রায়ের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। রায়ের পর তাৎক্ষনিকভাবে বাদী আব্দুর রশিদ সাংবাদিকদের বলেন, দুই হত্যাকারী আদালতে তার ছেলেকে হত্যার কথা স্বীকার করায় তিনি আশা করেছিলেন হত্যাকারীদের ফাঁসি হবে। ফাঁসির আদেশ না হওয়ায় তিনি হতাশ হয়েছেন।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন