বোলারদের স্বর্গরাজ্যে পরিণত হওয়া লর্ডস টেস্টের প্রথম দিনটি ক্রিকেটপ্রেমীরা অনেক দিন মনে রাখবেন। বোলারদের আগুনে বোলিং আর ব্যাটারদের আসা-যাওয়ার মিছিলে মাত্র ৫৯ ওভারের খেলায় প্রথম দিনেই পতন ঘটেছে ১৬টি উইকেটের। প্রথম ইনিংসে ইংল্যান্ডের ১৪০ রানের জবাবে দিন শেষে নিউজিল্যান্ডের সংগ্রহ ৬ উইকেটে ৬১ রান। এখনো কিউইরা ৭৯ রানে পিছিয়ে রয়েছে।
টসে জিতে ইংল্যান্ডকে প্রথমে ব্যাটিংয়ের আমন্ত্রণ জানায় নিউজিল্যান্ড। কিউই পেসারদের গতি আর সুইংয়ের সামনে শুরু থেকেই নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে ইংলিশরা। তবে এক প্রান্ত আগলে রেখে পাল্টা আক্রমণ চালান হ্যারি ব্রুক। ৭১ বলে ১০টি চারের সাহায্যে ৫৬ রানের একটি দুর্দান্ত ইনিংস খেলেন তিনি। বেন ডাকেটের ১৯ রান ছাড়া বাকি ব্যাটারদের কেউই পিচে থিতু হতে পারেননি। ফলে মাত্র ১৪০ রানেই গুটিয়ে যায় ইংল্যান্ডের প্রথম ইনিংস।
নিউজিল্যান্ডের পক্ষে বল হাতে আগুন ঝরিয়েছেন কাইল জেমিসন। তিনি ৬২ রান খরচায় তুলে নেন ৫টি উইকেট। এছাড়া নাথান স্মিথ শিকার করেন ৩টি উইকেট।
১৪০ রানে অলআউট হয়েও দমে যায়নি স্বাগতিক ইংল্যান্ড। ওলি রবিনসনের চোখ ধাঁধানো স্পেলে কিউই টপ-অর্ডারকে পুরোপুরি ধসিয়ে দেয় তারা। নিজের এক ওভারেই ৩ উইকেট নিয়ে নিউজিল্যান্ডকে মাত্র ২৯ রানে ৬ উইকেটে পরিণত করেন রবিনসন।
৬ উইকেট হারিয়ে চরম সংকটে পড়া নিউজিল্যান্ডকে ম্যাচে টিকিয়ে রাখেন গ্লেন ফিলিপস। ৩৪ বলে ৩১ রানের একটি ক্যামিও ইনিংস খেলে তিনি অপরাজিত আছেন। দিনের খেলা যখন আলোকস্বল্পতার কারণে আগেই শেষ ঘোষণা করা হয়, যখন নিউজিল্যান্ডের সংগ্রহ ৬১/৬।
ইংল্যান্ডের হয়ে ওলি রবিনসন মাত্র ১০ রান দিয়ে একাই শিকার করেছেন ৪টি উইকেট। এছাড়া গাস অ্যাটকিনসন ও জশ টাং পেয়েছেন ১টি করে উইকেট।
নিউজিল্যান্ড এখনো ৭৯ রানে পিছিয়ে আছে, তবে হাতে আছে ৪টি উইকেট।
উইকেটের যে আচরণ, তাতে দ্বিতীয় দিনেই এই টেস্ট ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণের আভাস মিলতে পারে বলে ধারণা করছেন ক্রিকেট বিশ্লেষকরা।
সংক্ষিপ্ত স্কোর (প্রথম দিন শেষে)
ইংল্যান্ড প্রথম ইনিংস: ১৪০/১০ (৩৯.৪ ওভার); হ্যারি ব্রুক ৫৬, বেন ডাকেট ১৯; কাইল জেমিসন ৫/৬২, নাথান স্মিথ ৩/৩৮।
নিউজিল্যান্ড প্রথম ইনিংস: ৬১/৬ (১৯.২ ওভার); গ্লেন ফিলিপস ৩১ ব্যাটিং, ড্যারিল মিচেল ১২; ওলি রবিনসন ৪/১০।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

