নওগাঁর ধামইরহাটে একটি খেলার মাঠ দখল করে ইটের খোয়ার ব্যবসা পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে উপজেলা যুবলীগের এক নেতার বিরুদ্ধে। উপজেলার তালঝাড়ি এলাকার ওই খেলার মাঠে দীর্ঘদিন ধরে ইট ও ইটের খোয়া স্তূপ করে রাখায় খেলাধুলার পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। এতে স্থানীয় শিশু-কিশোর ও তরুণরা খেলাধুলার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন এলাকাবাসী।
অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম মো. সেলিম মাহমুদ রাজু। তিনি উপজেলা যুবলীগের সহসভাপতি হিসেবে আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে দায়িত্ব পালন করেছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, একসময় তালঝাড়ি খেলার মাঠে নিয়মিত ফুটবল, ক্রিকেটসহ বিভিন্ন ধরনের খেলাধুলার আয়োজন করা হতো। এলাকার শিশু-কিশোর ও তরুণরা অবসর সময়ে মাঠটিতে খেলাধুলা করতেন। তবে দীর্ঘদিন ধরে মাঠের একটি বড় অংশ ইট ও ইটের খোয়া রাখার কাজে ব্যবহার করায় মাঠের স্বাভাবিক পরিবেশ নষ্ট হয়েছে। একই সঙ্গে সংকুচিত হয়ে পড়েছে খেলাধুলার জায়গা।
এলাকাবাসী জানান, মাঠটি স্থানীয় শিশু-কিশোর ও তরুণদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি খেলার স্থান। বিশেষ করে শিক্ষার্থী ও তরুণদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে এ মাঠের ভূমিকা রয়েছে। ব্যক্তিগত ব্যবসায়িক কাজে মাঠের জায়গা ব্যবহার করায় নতুন প্রজন্মের খেলাধুলার সুযোগ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। দ্রুত মাঠটি দখলমুক্ত করে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
এ বিষয়ে শামিম রেজা নামের এক ঠিকাদার বলেন, ‘উপজেলার পলাশবাড়ি ও ধানতাড়া এলাকায় দুটি রাস্তার কাজ আমাদের চলমান রয়েছে। আওয়ামী লীগ নেতা সেলিম মাহমুদের কথায় আমি খেলার মাঠে ইটের খোয়া স্তূপ করে রেখেছি। আমি তার কাছে মাঠের কিছু অংশ কিনতে চেয়েছিলাম। তিনি আমার কাছে মাঠের কিছু অংশ বিক্রি করতে রাজি হয়েছিলেন। সে কারণেই মাঠে খোয়া রেখেছি।’
তবে মাঠে ইটের খোয়া রাখার বিষয়ে নিজের সম্পৃক্ততার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মো. সেলিম মাহমুদ রাজু। তিনি বলেন, ‘মাঠে খোয়া রাখার বিষয়ে আমি কিছু জানি না। আপনারা ঠিকাদারের সঙ্গে কথা বলতে পারেন।’ এ কথা বলার পর তিনি ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।
এ বিষয়ে ধামইরহাট উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাজ্জাদ পারভেজ বলেন, মাঠ থেকে ইটের খোয়া সরিয়ে নেওয়ার জন্য আগামী সোমবারের মধ্যে সময় দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে খোয়া অপসারণ করা না হলে সরকারি মাঠ দখলের অভিযোগে প্রশাসনিকভাবে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

