দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির বাজারে মাত্র ২৫ টাকায় ‘সিক্স আইটেম’ খাবার। এক প্লেট ভাত, অর্ধেক সিদ্ধ ডিম, পটল ভাজি, আলু ভর্তা, আলু ভাজি ও শাক ভাজির সঙ্গে মিলছে ফ্রি ডালও। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) শিক্ষার্থীদের কাছে প্রিয় হোটেল ‘সিস্টেম’ নামে পরিচিত।
দামে কম হলেও খাবারের মান নিয়ে শিক্ষার্থীদের রয়েছে ইতিবাচক অভিজ্ঞতা। ফলে সকাল ও দুপুরের খাবারের সময় হোটেলটিতে শিক্ষার্থীদের ভিড় দেখা যায়। ছয়টি আইটেম দিয়ে খাবার পরিবেশন করা হয় বলেই মুখে মুখে এটি ‘সিস্টেম’ নামে পরিচিতি পেয়েছে।
জানা গেছে, ‘সিস্টেম’-এর উদ্যোক্তা হোটেল ব্যবসায়ী মানিক মিয়া। ছোটবেলায় জীবিকার সন্ধানে কুমিল্লার লাকসাম থেকে রাজশাহীতে চলে আসেন তিনি। পরে বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন মেহেরচণ্ডী এলাকায় স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন। বর্তমানে তার বয়স ষাট।
মানিক মিয়া বলেন, ‘প্রায় ২৬ বছর ধরে সিস্টেম হোটেল চালু আছে। ২০ বছর আগে সিস্টেম মিলত মাত্র ৬ টাকায়। জিনিসপত্রের দাম বেড়ে ৬ টাকা থেকে ক্রমান্বয়ে বেড়ে এখন ২৫ টাকা হয়েছে। তবে দোকানে মাছ-মাংস থাকলেও শিক্ষার্থীদের পছন্দের তালিকায় সিস্টেমের কদরই সবচেয়ে বেশি।’
স্টেশন বাজারে অবস্থিত এ হোটেলে সকাল ও দুপুরের খাবার পাওয়া যায়। রাতেও বিক্রি হয় খিচুড়িসহ নানা আইটেম। হোটেলটির পাশেই রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের আবাসিক হল মাদার বখ্শ ও শহীদ সোহরাওয়ার্দী হল। কিছুটা দূরে রয়েছে শহীদ শামসুজ্জোহা ও শহীদ জিয়াউর রহমান হল। আবাসিক হলগুলোর কাছাকাছি হওয়ায় শিক্ষার্থীরা সহজেই সেখানে গিয়ে খাবার খেতে পারেন।
সিস্টেম খেতে আসা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী প্রান্ত কুমার দাশ বলেন, ‘আমি প্রথম বর্ষ থেকেই সিস্টেম খেয়ে আসছি। খুবই ভালো লাগে। দ্রব্যমূল্যের চড়া বাজারে ২৫ টাকার মধ্যে ৫-৬টা আইটেম দিয়ে খাবার পাওয়া কল্পনাও করা যায় না। হোটেলের খাবারের মানও অনেক ভালো।’
আরেক শিক্ষার্থী সিদ্দিকুর রহমান বলেন, ‘আমি এখানে সাড়ে তিন বছর যাবত খাচ্ছি। এখানের বিশেষত্ব হলো কম টাকায় অনেকগুলো আইটেম দিয়ে খাবার খাওয়া যায়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ শামসুজ্জোহা হলের আবাসিক শিক্ষার্থী জুবাইর হোসেন বলেন, ‘এত কম দামে এমন খাবার রাজশাহীর অন্য কোথাও পাওয়া যাবে না। দাম কম হলেও খাবারটি বেশ তৃপ্তিদায়ক।’
এমই
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

