সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন পেতে তৎপর বগুড়ার বিএনপি নেত্রীরা

সবুর শাহ্ লোটাস, বগুড়া

সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন পেতে তৎপর বগুড়ার বিএনপি নেত্রীরা

সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনের মনোনয়ন ঘিরে বগুড়ায় বিএনপির নারী নেত্রীদের তৎপরতা লক্ষণীয়ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। সদর আসনের উপনির্বাচন ঘিরে কিছুদিন ধরে জেলার রাজনৈতিক অঙ্গনে বইছে নির্বাচনি হাওয়া। এ সুযোগে সংরক্ষিত নারী আসনের সম্ভাব্য প্রার্থীরা দলীয় হাইকমান্ডের দৃষ্টি আকর্ষণ ও নিজেদের অবস্থান শক্ত করতে বিভিন্ন তৎপরতা চালাচ্ছেন।

জানা গেছে, জেলার বিভিন্ন পর্যায়ের অন্তত ১০ জন নেত্রী মনোনয়নের প্রস্তুতি নিলেও বর্তমানে ছয়জনের নাম রাজনৈতিক মহলে বেশি আলোচিত। তৃণমূল থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত যোগাযোগ রক্ষা করে চলছেন তারা।

বিজ্ঞাপন

আলোচনায় এগিয়ে থাকা নেত্রীদের মধ্যে রয়েছেন জেলা মহিলা দলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অ্যাডভোকেট শাহাজাদী লায়লা আরজুমান বানু। তিনি জাগদলের প্রতিষ্ঠাতা সহসভাপতি মরহুম অ্যাডভোকেট শাহ মোজাম্মেল হকের মেয়ে হিসেবে ছাত্রজীবন থেকেই রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। বর্তমানে সংগঠনের শীর্ষ পদে থাকার পাশাপাশি আইন পেশায়ও সক্রিয় তিনি। দীর্ঘদিনের সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা ও দলীয় আনুগত্যের কারণে তিনি মনোনয়ন পাওয়ার বিষয়ে আশাবাদী।

একই সঙ্গে আলোচনায় আছেন সাবেক সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য নূর আফরোজ বেগম জ্যোতি। বগুড়ার নারী রাজনীতিতে তিনি অভিজ্ঞ ও পরিচিত মুখ। অতীতে সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা এবং দলীয় রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকার কারণে তিনিও শক্ত অবস্থানে আছেন। ছাত্রজীবন থেকেই রাজনীতির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত জ্যোতি জেলা বিএনপির সাবেক মহিলাবিষয়ক সম্পাদক।

দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা নিয়ে মনোনয়ন দৌড়ে আছেন নাজমা আকতার। জেলা মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক এবং জেলা বিএনপির মহিলাবিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করা এই নেত্রী নব্বইয়ের দশকে ছাত্রদলের মাধ্যমে রাজনীতিতে আসেন। বিভিন্ন সাংগঠনিক দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে এবার সংসদ সদস্য হওয়ার প্রত্যাশা করছেন তিনি।

প্রবীণ নেত্রীদের তালিকায় আছেন জেলা মহিলা দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক নিহার সুলতানা তিথিও। ছাত্র সংসদের জিএস ও ভিপি হিসেবে দায়িত্ব পালন করা এই নেত্রী দীর্ঘদিন ধরে রাজনীতিতে পরিচিত মুখ।

বহুবার হামলা-মামলার শিকার তিথি মনে করেন, তার দীর্ঘ লড়াই-সংগ্রামের ইতিহাস বিবেচনা করে দল তাকে এবার সংসদে যাওয়ার সুযোগ করে দেবে।

আলোচনায় আরো আছেন জেলা মহিলা দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সুরাইয়া জেরিন রনি। গাবতলী উপজেলা পরিষদের সাবেক এই নারী ভাইস চেয়ারম্যান ছাত্রদল থেকে রাজনীতিতে উঠে আসেন। ওয়ান-ইলেভেনের পর এবং ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার আন্দোলনে তার সক্রিয় ভূমিকা ছিল চোখে পড়ার মতো। আন্দোলনে হামলাকারীদের বিরুদ্ধে মামলা করে সাহসিকতার পরিচয় দেওয়া এই নেত্রী মনে করেন, রাজপথের ত্যাগ ও আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয়তার কারণে দল তাকে এবার মূল্যায়ন করবে।

মনোনয়নপ্রত্যাশীদের তালিকায় আছেন অ্যাডভোকেট রহিমা খাতুন মেরীও। জেলা মহিলা দলের সাংগঠনিক সম্পাদক ও জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সঙ্গে যুক্ত এই নেত্রী দীর্ঘদিন ধরে দলীয় রাজনীতিতে সক্রিয়। চব্বিশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর সাহসী ভূমিকা রাখা মেরী বিশ্বাস করেন, তার পেশাগত দক্ষতা ও দলের দুঃসময়ে পাশে থাকার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে হাইকমান্ড তাকে প্রার্থী হিসেবে বেছে নেবে।

এ বিষয়ে জেলা বিএনপির সভাপতি ও বগুড়া-৬ (সদর) আসনের উপনির্বাচনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী রেজাউল করিম বাদশা বলেন, সম্ভাব্য প্রার্থীরা নিজ নিজ অবস্থান থেকে কাজ করছেন। দলের হাইকমান্ড যোগ্যতা ও ত্যাগ বিবেচনা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...