বগুড়া জনসভায় প্রধানমন্ত্রী

কিছু রাজনৈতিক দল শুধু সংবিধান ইস্যু সামনে আনছে

স্টাফ রিপোর্টার, বগুড়া

কিছু রাজনৈতিক দল শুধু সংবিধান ইস্যু সামনে আনছে

জুলাই সনদের প্রতিটি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় যে সনদে বিএনপি স্বাক্ষর করেছে, তার “প্রত্যেকটি শব্দ ও অক্ষর” এক এক ক‌রে বাস্তবায়ন করা হবে।

বিজ্ঞাপন

সোমবার বিকেলে বগুড়ার ঐতিহ্যবাহী আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠে জেলা বিএন‌পি আয়োজিত জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন।

ভাষণের শুরুতেই প্রধানমন্ত্রী ব‌লেন, দীর্ঘ এক যুগেরও বেশি সময় ধরে দেশে বাকস্বাধীনতা, রাজনৈতিক স্বাধীনতা এবং ভোটাধিকার হরণ করা হ‌য়েছিল। সেই প্রেক্ষাপটে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ধীরে ধীরে আন্দোলন গড়ে তোলে এবং ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মাধ্যমে স্বৈরাচার পা‌লি‌য়ে যে‌তে বাধ্য হ‌য়ে‌ছি‌লো। বাংলা‌দে‌শের মানুষ তাদের হারিয়ে যাওয়া ভোটাধিকার ও কথা বলার অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেছে।

প্রধানমন্ত্রী তা‌রেক রহমান ব‌লেন, ফ্যাসিবাদী শাসনাম‌লে উন্নয়নের নামে বড় বড় প্রকল্পের আড়ালে দুর্নীতি হয়েছে এবং বিপুল পরিমাণ অর্থ বিদেশে পাচার হয়েছে। দে‌শে‌র মানুষ সে‌টি দে‌খেছে।

তি‌নি ব‌লেন, গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের মাধ্যমে দেশের মানুষ তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করে এবং স্পষ্টভাবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলকে আগামী পাঁচ বছরের জন্য রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছে।

সরকার গঠনের পর দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের প্রসঙ্গ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ইতোমধ্যে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি চালু করা হয়েছে এবং পর্যায়ক্রমে কৃষকদের জন্য কৃষক কার্ড বিতরণ শুরু হয়েছে।

তিনি ব‌লেন,১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ সুদসহ মওকুফ করার প্রতিশ্রুতিও সরকার গঠনের প্রথম দশ দিনের মধ্যেই বাস্তবায়ন করা হয়েছে, যার ফলে সারা দেশে ১২ লাখ কৃষক উপকৃত হয়েছেন।

ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান সংশ্লিষ্টদের জন্য সম্মানির ব্যবস্থার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মসজিদ, এতিমখানা এবং অন্যান্য ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের ইমাম, মুয়াজ্জিন, খতিবসহ সংশ্লিষ্টদের জন্য সম্মানি চালুর প্রতিশ্রুতি ইতোমধ্যে বাস্তবায়ন করা হয়েছে।

খাল খনন কর্মসূচির প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বন্যা ও খরার সমস্যা মোকাবিলায় পাঁচ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে এবং এর কাজ শুরু হয়েছে। এসব উদ্যোগের সঙ্গে দেশের খেটে খাওয়া মানুষের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

কর্মসংস্থানের বিষয়ে তিনি বলেন, বিদেশে স্বল্প খরচে জনশক্তি রপ্তানির সুযোগ বাড়াতে সরকার ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছে এবং শিগগিরই এ বিষয়ে সুখবর দেওয়া হবে।

এরপর তিনি জুলাই সনদ নিয়ে বিস্তারিত বক্তব্য তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ২০১৬ সালে খালেদা জিয়া ‘ভিশন ২০৩০’ উপস্থাপন করেছিলেন, যার ধারাবাহিকতায় বিএনপি ৩১ দফা সংস্কার কর্মসূচি ঘোষণা করে। পরবর্তীতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের গঠিত সংস্কার কমিশনে বিএনপি তাদের প্রস্তাবনা উপস্থাপন করে এবং মতপার্থক্যের বিষয়গুলোও প্রকাশ্যে তুলে ধরে।

তিনি বলেন, ওই আলোচনার পর সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় ‘জুলাই সনদ’ স্বাক্ষরিত হয় এবং বিএনপি এতে স্বাক্ষর করে। এই জুলাই সনদের প্রত্যেকটি শব্দ, প্রত্যেকটি অক্ষর আমরা এক এক করে বাস্তবায়ন করবো।

এ সময় তিনি অভিযোগ করেন, কিছু রাজনৈতিক দল শুধুমাত্র সংবিধান ইস্যু সামনে এনে অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার বিষয় যেমন স্বাস্থ্য, প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বা নারী উন্নয়ন নিয়ে কথা বলছে না। এর মাধ্যমে জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা চলছে।

সাম্প্রতিক কিছু ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ব্যক্তিগত বা পারিবারিক ঘটনাকে রাজনৈতিক রূপ দিয়ে দেশে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে। তি‌নি এ বিষ‌য়ে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।

প্রধানমন্ত্রী ব‌লেন, জনগণ যে ম্যান্ডেট দিয়েছে, তা বাস্তবায়নই সরকারের লক্ষ্য। একই সঙ্গে বগুড়া-সিরাজগঞ্জ রেললাইন নির্মাণ, কৃষিপণ্য রপ্তানির জন্য কার্গো সুবিধা চালু এবং বগুড়া বিশ্ববিদ্যালয়ে কৃষি ও চিকিৎসা শিক্ষা চালুর উদ্যোগ নেওয়ার কথাও জানান তিনি।

তিনি বলেন, দেশের উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে জনগণের সমর্থন প্রয়োজন এবং কোনো ধরনের বিভ্রান্তির ফাঁদে পা না দিয়ে সরকার তার প্রতিশ্রুতি পূরণে কাজ করে যাবে।

জনসভা শেষে প্রধানমন্ত্রী বগুড়া প্রেসক্লাবের ভবনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। এরপর তার নিজের হাতে গড়া বাইতুর রহমান মসজিদের কাজের উদ্বোধন করে রাতপৌনে আটটায় বগুড়া থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে সড়কপথে রওনা হন। পথিমধ্যে বগুড়া শেরপুরে পল্লী উন্নয়ন একাডেমিতে কিছু সময় থাকেন। এ সময় তার সঙ্গে ডাক্তার জোবাইদা রহমান ছিলেন।

এমই

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন