উত্তরাঞ্চলে ১১ দলীয় জোটের নির্বাচনী প্রচারণার অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) টানা পাঁচটি জনসভায় অংশ নেবেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। এর মধ্যে রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নওগাঁ ও নাটোর জেলার গুরুত্বপূর্ণ স্থানে এসব জনসভা অনুষ্ঠিত হবে।
দলীয় সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ধারাবাহিকভাবে জনসভাগুলো অনুষ্ঠিত হবে। নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, বেলা ১১টায় নওগাঁয়, দুপুর সাড়ে ১২টায় চাঁপাইনবাবগঞ্জে, দুপুর আড়াইটায় গোদাগাড়ীতে, বিকেল সাড়ে ৪টায় রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদ্রাসা মাঠে এবং সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় নাটোরে জনসভায় বক্তব্য দেবেন তিনি।
রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদ্রাসা মাঠের জনসভায় ডা. শফিকুর রহমান প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেবেন। এই সফরকে ঘিরে রাজশাহীসহ পুরো রাজশাহী অঞ্চলে জামায়াতে ইসলামী ও ১১ দলীয় জোটের নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা গেছে।
এর আগে মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১টায় রাজশাহী মাদ্রাসা মাঠে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে জনসভার প্রস্তুতির কথা জানান ১১ দলীয় জোটের নেতৃবৃন্দ। সংবাদ সম্মেলনে রাজশাহী মহানগর জামায়াতের সেক্রেটারি এমাজ উদ্দিন মণ্ডল বলেন, এই প্রথমবারের মতো নির্বাচনী জনসভায় যোগ দিতে রাজশাহীতে আসছেন ১১ দলীয় জোটের অন্যতম শীর্ষ নেতা জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান। তাঁর আগমনকে কেন্দ্র করে নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়েছে।
তিনি আরও জানান, রাজশাহী-২ (সদর), রাজশাহী-৩ (পবা-মোহনপুর), রাজশাহী-৪ (বাগমারা), রাজশাহী-৫ (পুঠিয়া-দুর্গাপুর) ও রাজশাহী-৬ (বাঘা-চারঘাট) আসনের নেতাকর্মী ও সাধারণ জনগণ এই জনসভায় অংশ নেবেন।
সংবাদ সম্মেলনে নেতারা জানান, জনসভার সার্বিক প্রস্তুতি প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। মঞ্চ নির্মাণ, সাজসজ্জা ও প্রচার-প্রচারণাসহ সব কার্যক্রম দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে। কারিগরি ও আনুষঙ্গিক প্রস্তুতিও সম্পন্ন করা হয়েছে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।
নেতৃবৃন্দ বলেন, জনসভাকে ঘিরে রাজশাহী মহানগরী ও আশপাশের জেলাগুলোতে ব্যাপক উৎসাহ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এবারের জনসভায় সাধারণ মানুষের পাশাপাশি নারী কর্মীদের রেকর্ডসংখ্যক উপস্থিতি থাকবে বলে তারা প্রত্যাশা করছেন। তাদের মতে, জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ১১ দলীয় জোটের নীতি ও আদর্শের প্রতি মানুষের আস্থার প্রতিফলন ঘটাবে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, জনসভা সফল করতে তৃণমূল পর্যায়ে গণসংযোগ ও লিফলেট বিতরণ কার্যক্রম ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খল পরিবেশ নিশ্চিত করতে জোটের পক্ষ থেকে বিশেষ স্বেচ্ছাসেবক বাহিনী গঠন করা হয়েছে। উৎসবমুখর পরিবেশে জনসভা আয়োজনের লক্ষ্যে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলেও জানান নেতারা। এ ক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করা হয়।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী মহানগর জামায়াতের নায়েবে আমির অ্যাডভোকেট আবু মোহাম্মদ সেলিম, এনসিপির মহানগর আহ্বায়ক মোবাশ্বের আলী, সদস্য সচিব আতিকুর রহমানসহ ১১ দলীয় জোটের মহানগর পর্যায়ের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ, অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা।
দলীয় সূত্র জানায়, রাজশাহীর জনসভায় ডা. শফিকুর রহমান রাজশাহী অঞ্চলের মানুষের সামনে দলের উন্নয়ন ও রাজনৈতিক পরিকল্পনা তুলে ধরবেন। তাঁর বক্তব্যে পদ্মা নদী, বরেন্দ্র অঞ্চলের পানি সংকট, রাজশাহীর সিল্ক শিল্প, আম, মাছ ও পান খাতের উন্নয়ন পরিকল্পনা বিশেষ গুরুত্ব পেতে পারে। একই সঙ্গে তিনি ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রচারণা চালাবেন।
এদিকে ডা. শফিকুর রহমানের আগমন জামায়াত-শিবিরসহ ১১ দলীয় জোটের নেতাকর্মীদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছে। নেতাদের ধারণা, এই জনসভা রাজশাহী ও আশপাশের চার জেলায় জোটের সাংগঠনিক শক্তিকে আরও চাঙা করবে। এতে ভোটারদের মধ্যে দলীয় মনোবল বাড়বে এবং আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জোটের প্রার্থীদের পক্ষে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
রাজশাহী মহানগর জামায়াতের সেক্রেটারি এমাজ উদ্দিন মণ্ডল বলেন, সাধারণ ভোটাররা দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট দিতে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, রাজশাহী অঞ্চলের জনসভাগুলো জনসমুদ্রে পরিণত হবে।
রাজশাহী জেলা জামায়াতের আমির বলেন, ডা. শফিকুর রহমানের আগমন শুধু একটি নির্বাচনী কর্মসূচি নয়, বরং রাজশাহী-বাসীর জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বর্তা বহন করবে। জনসভায় দেশ ও জাতির চলমান সংকট, ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রব্যবস্থা, সুশাসন, ন্যায়বিচার ও গণতান্ত্রিক অধিকার নিয়ে দিক নির্দেশনামূলক বক্তব্য উপস্থাপন করবে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

