চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলার রহনপুর ২ নং মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নাসরিন সুলতানাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। শিক্ষা অফিস জ্বালিয়ে দেওয়ার হুমকি, বিদ্যালয়ে অনুপস্থিতি, স্কুলের ল্যাপটপ চুরি, শিক্ষার্থীদের পিটিয়ে আহত করা ও প্রধান শিক্ষককে অবজ্ঞাসহ নানা অভিযোগে তাকে বরখাস্ত করা হয়।
বৃহস্পতিবার সকালে সরকারি কর্মচারী আইন-২০১৮ এর ৩৯ (১) ধারা অনুযায়ী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. সাইফুল ইসলাম এ আদেশ দেন।
অফিস আদেশে বলা হয়, নাসরিন সুলতানার বিরুদ্ধে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা ২০১৮ এর ৩ (খ) মোতাবেক বিভাগীয় দুটি মামলা চলমান রয়েছে। এমনকি এসব মামলার ব্যক্তিগত শুনানিতেও তিনি আগ্রহ প্রকাশ করেন নাই। এমন অবস্থায় বিদ্যালয়ে নিয়মিত অনুপস্থিতি, প্রধান শিক্ষককে অবজ্ঞা এবং সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধে জড়ানোর অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া তিনি খেয়াল খুশিমত স্কুলে আসেন। এসব কর্মকাণ্ডে বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক পরিবেশ ব্যহত হচ্ছে এবং তদন্ত কার্যক্রমে প্রভাব বিস্তারের আশঙ্কায় তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হলো।
উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এ.কে.এম. ওলিউল ইসলাম বলেন, নাসরিন কাউকেই তোয়াক্কা করেন না। ইচ্ছেমত বিদ্যালয়ে আসেন,মেজাজ হারিয়ে শিক্ষার্থীদের পিটিয়ে আহত করা, ছুটি না দেওয়ায় তিনি আমার শিক্ষা অফিস জ্বালিয়ে দেওয়ার হুমকিও দিয়েছেন। নাসরিন সুলতানা বিদ্যালয় থেকে একটি ল্যাপটপ চুরি করে নিয়ে যায়। ঘটনাটি ধরা পড়ে সিসিটিভির ফুটেজে। এ ঘটনায় সাধারণ ডায়েরি করার পর নাসরিন পুলিশের মাধ্যমে ল্যাপটপটি ফেরত দেন। এসব অভিযোগের কারণেই তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন রহনপুর-২ মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নাসরিন সুলতানা।
তিনি বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা তথ্য ছড়ানো হচ্ছে। আমি বিদ্যালয়ে সবচেয়ে বেশি ক্লাস নেয় এ কারণেই অনেকের কাছে অপছন্দের ব্যক্তি হয়েছি। আর আমি অফিসের ল্যাপটপ চুরি করিনি। আমি এতো অভাবি নই। যে আমাকে অফিসের ল্যাপটপ চুরি করতে হবে। অফিসের ল্যাপটপ আমার বাড়িতে ছিল। তিনি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে নিজেকে যেকোন মূল্যে সৎ প্রমাণ করবেন বলেও জানান।
জেডএম
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

