এবারের রমজানে রোজাদারদের কাছে মিষ্টির চাহিদা কমে বেড়েছে দইয়ের কদর। বাজারে অন্যান্য ব্র্যান্ডের দইয়ের পাশাপাশি ক্রেতাদের পছন্দের শীর্ষে রয়েছে বগুড়ার সাদা বা টকদই। রোজায় ইফতারসামগ্রীর সঙ্গে এ দইয়ের চাহিদা সাধারণ সময়ের চেয়ে বেড়ে গেছে প্রায় তিনগুণ। সারা দিন রোজা রাখার পর এই দই দিয়ে তৈরি ঘোল খেলে শরীর শীতল হয়। যে কারণে প্রতি বছর রোজা এলেই ইফতারে এই দই বিক্রির শীর্ষে থাকে। স্থানীয় চাহিদা পূরণ করে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় যাচ্ছে এখানকার দই। রপ্তানি হয় বিদেশেও।
বগুড়াকে দইয়ের রাজধানীও বলেন অনেকে। মূলত শেরপুর দইয়ের জন্য বিখ্যাত। রয়েছে আড়াইশ বছরের ঐতিহ্য। সুখ্যাতি ছড়ানো এই দই ইতোমধ্যে অর্জন করেছে ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) স্বীকৃতি। সম্প্রতি শিল্প মন্ত্রণালয়ের পেটেন্ট, ডিজাইন ও ট্রেডমার্কস অধিদপ্তর (ডিপিডিটি) যাচাই-বাছাই শেষে বগুড়ার দইকে জিআই পণ্য হিসেবে অনুমোদন দেয়। ফলে এ পণ্যটি নিয়ে নতুন সম্ভাবনা দেখছেন ব্যবসায়ীরা।
বগুড়ায় ইফতারে টক দই এবারো রয়েছে বিক্রির শীর্ষে। ইফতারে নিয়মিত পদ হিসেবে এই দইয়ের কদর ঘরে ঘরে। জানা যায়, রমজান মাসে বগুড়ায় টক দইয়ের প্রচুর চাহিদা রয়েছে। বগুড়ার বিভিন্ন দইয়ের দোকানে আকারভেদে টক দইয়ের হাঁড়ি বিক্রি করা হচ্ছে ৯০ টাকা থেকে ২৬০ টাকা পর্যন্ত। বগুড়া শহরের এশিয়া সুইট মিট ও দই ঘর, শ্যামলী হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্ট দইঘর, নবাববাড়ীর রুচিতা, কবি নজরুল ইসলাম সড়কের আকবরিয়া, রফাত দইঘর, দইবাজার, মিষ্টিমহল, মহরম আলী, শেরপুর দইঘর, চিনিপাতাসহ অর্ধশত শোরুমে টকদই বিক্রি হচ্ছে।
এদিকে প্রথম রমজান থেকে শহরের স্টেশন রোড, সাতমাথা, কাঁঠালতলা, নবাববাড়ি রোড, কলোনি, রাজাবাজার এলাকা, ফতেহ আলী বাজার মোড়সহ বিভিন্ন স্থানে ইফতারসামগ্রী বিক্রির জন্য দোকান বসানো হয়েছে। সাধারণ মানের হোটেল রেস্টুরেন্ট থেকে শুরু করে উচ্চমানের হোটেলগুলোতেও ইফতারসামগ্রী বিক্রি করা হচ্ছে। এর মধ্যে দই রোজাদারদের প্রথম পছন্দ। প্রতিদিনই ইফতার কিনতে ভিড় থাকে দোকানগুলোতে।
ইফতারসামগ্রীর মধ্যে বিক্রি হচ্ছে মুড়ি, চিড়া, বাদাম, ডালভাজা, নিমকপাড়া, বুন্দিয়া, শাহী জিলাপি, রেশমি জিলাপি, বেগুনি, ডাল পিঁয়াজি, সবজি পিঁয়াজি, চিকেন গ্রিল, চিকেন তান্দুরী, চিকেন গার্লিক, চিকেন ফ্রাই, চিকেন কাটলেট, চিকেন চপ, চিকেন বল, বিফ রোল, বিফ ব্রেড পাকুড়া, মিল্ক ব্রেড পাকুড়া, টিকা কাবাব, জালি কাবাব, সবজি পাকুড়া, ডিম চপ, আলু চপসহ আরো সুস্বাদু খাবার।
এছাড়া খাসি বা গরুর হালিম বগুড়ার ইফতারসামগ্রীতে দিন দিন বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। এবারও বগুড়ায় ইফতারিতে প্রধান আকর্ষণ সাদা দই। সাদা দই দিয়ে ঘোল, শুধু দই প্লেটে করে পরিবেশন, দইয়ের সঙ্গে চিড়া, দইয়ের সঙ্গে খই ও মুড়ি, দই চিকেন রোস্ট, দই আর খাসির গোস্ত দিয়ে কোরমা তৈরিসহ বিভিন্নভাবেই খাবার তৈরি করা হয়।
বগুড়ার কয়েকজন মিষ্টি ব্যবসায়ী আমার দেশকে বলেন, রমজান মাসে মিষ্টির চাহিদা কমে যায়, যার কারণে ইফতারি সামগ্রীর পাশাপাশি টক দইয়ের চাহিদা বেশি। তাই আমরা সাদা দই প্রস্তুত করতে ব্যস্ত।
বগুড়ার শেরপুরের শম্পা দধি-এর স্বত্বাধিকারী এবং এশিয়া সুইসমিটের মালিক নূরুল হুদা তিলক বলেন, বগুড়ার টক দই প্রতিদিনই মানুষ ঢাকাসহ সারা দেশে নিয়ে যাচ্ছেন, রমজানে এই দইয়ের চাহিদা ব্যাপকভাবে বেড়েছে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

