অনাগত সন্তান স্ত্রী আর বাবা-মাকে ভালো রাখতে এ বছরের ফেব্রুয়ারী মাসে সৌদি আরব গিয়েছিলেন মতিউর রহমান। প্রবাসে যাবার ৩ মাস পর স্ত্রীর কোল আলোকিত করে জন্ম নেয় একটি পুত্র সন্তান। সন্তান জন্মের আনন্দে মিষ্টিমুখ করিয়েছিলেন পাড়াপ্রতিবেশীদের। নাম রেখেছিলেন মেহের হোসেন। কিন্তু নির্মম নিয়তি সেই ছেলের মুখ সামনাসামনি দেখতে পারলেন না মতিউর। সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে তারই রুমমেটের ছুরিকাঘাতে নিহত হোন তিনি। মতিউর সিলেট কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার বাঘারপাড় গ্রামের আব্দুস সালাম (সালাম মেছাব) এর ২য় ছেলে।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, সৌদি আরবের রিয়াদের হারা এলাকায় মতিউর রহমান সহ ৬ জন মিলে একটি রুমে থাকতেন। রান্নাবান্নাও তারা সবাই একসঙ্গে করতেন। মঙ্গলবার সকালে ডিম রান্না করা নিয়ে তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। এ সময় তরকারি কাটার ছুরি দিয়ে রুমমেটদের একজন মতিউরকে আঘাত করলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। ঘটনার পর পর তারা পালিয়ে যায়।
নিহতের ছোট ভাই সাইফুর রহমান জানান, মতিউরের একমাত্র সন্তানের বয়স সাড়ে ৩ মাস। গত ২০২৪ সালে খালাত বোন বুশরার সাথে বিয়ে হয় মতিউরের। পিতৃহারা খালাত বোনকেও খুনিরা বিধবা করে দিল। বিয়ের পর পরিবারকে দু'বেলা দুমুঠো ভালো খাওয়ানো ও ভরণপোষণের জন্য বিদেশে পাড়ি দেন। সেখানে তার একই গ্রামের আফজাল হোসেন, ভর গ্রামের নজরুল ইসলাম ও আমিনুল ইসলাম এবং বি-বাড়িয়া ও নারায়নগঞ্জের দুই জনসহ মোট ৬জন একই রুমে থাকতেন। রাতে নাইট ডিউটি শেষে ঘরে এসে ডিম ভাজি করা নিয়ে নজরুল ইসলাম ও আমিনুল ইসলামের সাথে মতিউরের ঝগড়া হয়। এসময় আমিনুল ইসলাম ইসলাম মতিউরকে সবজি কাটার ছুরি দিয়ে আঘাত করলে সেখানেই সে লুটিয়ে পড়ে। রুমে থাকা অন্য সবাই পালিয়ে যায়।
সাইফুর আরো জানান, এ ঘটনায় তাদের এক আত্মীয় বাদী হয়ে সৌদি আরবে মামলা করেছেন। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আফজালকে সেখানকার আইনশৃঙ্খলা বাহিনী হেফাজতে নিয়েছে।
কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসি উছমান গণি জানান, একজন প্রবাসী সৌদি আরবে মারা গিয়েছেন খবর পেয়েছি। তবে এখনো কেউ আমাদেরকে লিখিত কোনো অভিযোগ দেয়নি।
এমএইচ
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

