বিশ্বকাপ ফুটবল মানেই একদিকে তরুণ প্রতিভার উদ্ভাস, অন্যদিকে ইতিহাসের পাতায় নাম লেখানো কিংবদন্তিদের বর্ণিল অধ্যায়ের পরিসমাপ্তি। সদ্যসমাপ্ত ২০২৬ বিশ্বকাপও এর ব্যতিক্ৰম নয়। সবুজ গালিচায় সাফল্য, আবেগ আর অজস্র সুন্দর মুহূর্ত উপহার দিয়ে আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানালেন বিশ্ব ফুটবলের একঝাঁক মহাতারকা। ফুটবলপ্রেমীদের মনে অমলিন স্মৃতি রেখে যাদের রোমাঞ্চকর অভিযাত্রার সমাপ্তি ঘটল।
ম্যানুয়েল নয়ার (জার্মানি)
আধুনিক ফুটবলে ‘সুইপার-কিপার’ ধারণার প্রবর্তক ম্যানুয়েল নয়ার জার্মানির হয়ে দীর্ঘ ১৭ বছরের বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারের ইতি টানলেন। ২০০৯ সালে অভিষেকের পর দেশের হয়ে খেলেছেন ১২৮টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ। ২০১৪ সালে জার্মানির বিশ্বকাপ জয়ের অন্যতম কান্ডারি ছিলেন তিনি, জিতেছিলেন টুর্নামেন্টের সেরা গোলরক্ষকের ‘গোল্ডেন গ্লাভ’ পুরস্কার। সাময়িক বিরতির পর ফিরে এলেও ২০২৬ বিশ্বকাপের পর এবার স্থায়ীভাবেই গ্লাভস জোড়া খুলে রাখার সিদ্ধান্ত নিলেন এই জার্মান প্রাচীর।
নেইমার জুনিয়র (ব্রাজিল)
২০১০ সালে মাত্র ১৮ বছর বয়সে সেলেসাওদের হলুদ জার্সিতে যাত্রা শুরু করেছিলেন নেইমার। ১৩০ ম্যাচে ৮০টি গোল করে তিনি ব্রাজিলের ইতিহাসের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা। ২০১৩ কনফেডারেশনস কাপ এবং ২০১৬ রিও অলিম্পিকে দেশকে প্রথম সোনা জেতানোর অনন্য কীর্তি গড়লেও, অধরাই থেকে গেল সোনালি বিশ্বকাপ ট্রফিটি। ২০২৬ বিশ্বকাপের শেষ ষোলো থেকে ব্রাজিলের বিদায়ের পরপরই জাতীয় দল থেকে অবসরের ঘোষণা দেন এই ফরোয়ার্ড।
রিয়াদ মাহরেজ (আলজেরিয়া)
আলজেরিয়ান ফুটবলের সোনালি প্রজন্মের মূল কান্ডারি রিয়াদ মাহরেজ। ২০১৪ বিশ্বকাপে দলকে ইতিহাসে প্রথমবারের মতো শেষ ষোলোতে তোলার পেছনে ছিল তার বড় অবদান। তবে তার ক্যারিয়ারের সেরা অর্জন ২০১৯ সালে অধিনায়ক হিসেবে দলকে ‘আফ্রিকা কাপ অব নেশনস’ জেতানো। শেষটা জয় দিয়ে না হলেও, আন্তর্জাতিক মঞ্চে মাহরেজের জাদুকরী বাঁ পায়ের স্মৃতি আলজেরিয়ানদের মনে থেকে যাবে বহুদিন।
গিয়ের্মো ওচোয়া (মেক্সিকো)
বিশ্বকাপ এলেই যার হাত দুটি হয়ে উঠত দুর্ভেদ্য প্রাচীর, সেই গিয়ের্মো ওচোয়া আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় বললেন। ২০০৫ সালে অভিষেকের পর মেক্সিকোর হয়ে টানা ছয়টি বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার বিরল রেকর্ড গড়েন এই মেক্সিকান গোলরক্ষক। ২০১৪ সালে ব্রাজিলের বিপক্ষে কিংবা ২০২২ সালে লেভানডফস্কির পেনাল্টি ঠেকানো—প্রতিটি আসরেই তিনি ছড়িয়েছেন বিশেষ দ্যুতি। নিজের দেশের মাটিতেই শেষ বিশ্বকাপের ম্যাচটি খেলে শেষ হলো তার বর্ণিল যাত্রা।
প্যাট্রিক শিক (চেক প্রজাতন্ত্র)
ইউরো-২০২০-এ স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে মাঝমাঠ (প্রায় ৫০ গজ) থেকে অবিশ্বাস্য গোল করে ফুটবল বিশ্বের নজরকাড়া প্যাট্রিক শিকও আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানালেন। ২০১৬ সালে অভিষেকের পর থেকেই চেক প্রজাতন্ত্রের আক্রমণভাগের ভরসা ছিলেন। ২০২৬ বিশ্বকাপ শেষে নিজের বুটজোড়া তুলে রাখার সিদ্ধান্ত নেন এই স্ট্রাইকার।
এক ঝাঁক তারকার বিদায়ে ফুটবল বিশ্বে একটি সোনালি যুগের অবসান ঘটল, তবে দেশের হয়ে তাদের অবদান খোদাই করা থাকবে বিশ্ব ফুটবলের ইতিহাসে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

