আলু সংরক্ষণের ভাড়া নিয়ে বিরোধ

রাজশাহীতে কোল্ড স্টোরেজে ভাঙচুর, ১০ লাখ টাকা ক্ষতির অভিযোগ

রাজশাহীতে কোল্ড স্টোরেজে ভাঙচুর, ১০ লাখ টাকা ক্ষতির অভিযোগ

আলু সংরক্ষণের ভাড়া নিয়ে বিরোধের জেরে রাজশাহীর দৌলতপুরে রহমান সিডস স্টোরেজ প্রাইভেট লিমিটেডে হামলা, ভাঙচুর ও আলুর বস্তা নিয়ে যাওয়ার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হামলায় স্টোরেজের কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারী আহত হয়েছেন। এছাড়া ভাঙচুরে প্রায় ১০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।

মঙ্গলবার বিকালে রাজশাহী চেম্বার অব কমার্সের সভাকক্ষে স্থানীয় কোল্ড স্টোরেজ অ্যাসোসিয়েশনের সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করা হয়। অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মো. আবু বাক্কার লিখিত বক্তব্যে বলেন, হামলার ঘটনায় থানায় অভিযোগ করা হয়েছে। জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং কোল্ড স্টোরেজগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি।

বিজ্ঞাপন

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের গত ৩১ আগস্টের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী কোল্ড স্টোরেজে আলু সংরক্ষণের ভাড়া প্রতি কেজি ছয় টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। ওই ভাড়াতেই রহমান সিডস স্টোরেজে আলু ডেলিভারি দেওয়া হচ্ছিল।

গত সোমবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ জন ব্যক্তি স্টোরেজের অফিসে গিয়ে ম্যানেজার আব্দুল হালিম সরকারকে খুঁজতে থাকেন। তাকে না পেয়ে ডেলিভারি অর্ডার কর্মকর্তা আজিজুর রহমানকে প্রতি কেজি ছয় টাকার পরিবর্তে পাঁচ টাকা দরে ডেলিভারি অর্ডার কাটার জন্য চাপ দেওয়া হয়। তিনি এতে রাজি না হলে তার সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, পরে ওই ব্যক্তিরা হিসাবরক্ষক রায়হান রানাকে মারধর করে। তাকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে শ্রমিক সালাউদ্দিনকেও মারধর করা হয়। সহকারী ম্যানেজার আজিজুর রহমানও হামলার শিকার হন।

অভিযোগে আরো বলা হয়, হামলাকারীরা অফিসের চেয়ার-টেবিল, কম্পিউটার, ক্যাশ কাউন্টারের কাচ ও ম্যানেজারের টেবিল ভাঙচুর করে। এতে প্রায় ১০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। এরপর তারা স্টোরেজের ভেতরে ঢুকে আলুর বস্তা নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। স্থানীয়রা এগিয়ে এলে তারা স্টোরেজের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে চলে যান বলে দাবি করা হয়।

আবু বাক্কার বলেন, ‘কৃষি বিপণন অধিদপ্তর যে ছয় টাকা কেজি ভাড়া নির্ধারণ করেছে, আমরা তা মেনে নিয়েছি। অথচ একটি পক্ষ এর চেয়েও কম ভাড়া দেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করছে। এর জের ধরে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে।’

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দাম এবং শ্রমিক-কর্মচারীদের মজুরি বেড়ে যাওয়ায় কোল্ড স্টোরেজ মালিকরা প্রতি কেজি আলুর ভাড়া সাত টাকা নির্ধারণের দাবি জানিয়েছিলেন। তবে কৃষি বিপণন অধিদপ্তর ছয় টাকা নির্ধারণ করায় সেই ভাড়াতেই আলু সংরক্ষণ ও ডেলিভারি দেওয়া হচ্ছে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন