নওগাঁর সাপাহারে একটানা পাঁচ দিনের তীব্র শীতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। সীমান্তঘেঁষা এই থানায় হিমেল হাওয়া ও ঘন কুয়াশার দাপটে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা কার্যত স্থবির হয়ে গেছে। সোমবার (১ জানুয়ারি) উপজেলার তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১০দশমিক ৬ ডিগ্রী সেলসিয়াস। রোববার ভোর থেকে উপজেলায় শীতল হওয়া বইতে শুরু করে।
শুরুতে কুয়াশা না থাকলেও সকাল বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ঘন কুয়াশায় ঢেকে যাই পুরো এলাকা। সকাল ৮টা পর্যন্ত কুয়াশার ঘনত্ব বেশি ছিল। বেলা বাড়লেও দুপুর পর্যন্ত সূর্যের দেখা মিলেনি। ফলে শীতের তীব্রতা সারাদিনই অনুভূত হয়েছে। দিনভর হিমেল হাওয়ায় সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছ উপজেলার খেটে খাওয়া মানুষ ও দিনমজুর শ্রেণীর শ্রমজীবীরা।
কাজের অভাবে আয়-রোজগার কমে যাওয়ায় পরিবার চালানো নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন অনেকেই। সাপাহার উপজেলা এলাকার ভ্যান চালক মোঃ আব্দুর রহমান বলেন, সকাল থেকে কনকনে ঠান্ডায় মানুষ ঘর থেকে কম বের হচ্ছে। যাত্রী না থাকায় আয় কমে গেছে। দুপুরের পরপর কিছু মানুষ ঘর থেকে বের হলেও তখন অল্প ভাড়া পাওয়া যায়।
উপজেলার মাস্টার পাড়া এলাকার আব্দুল গনি মিয়া আক্ষেপ করে বলেন, গত তিনদিন ধরে শীতের তীব্রতা চরমে। কিন্তু এখন পর্যন্ত সরকারের পক্ষ থেকে কোন শীতবস্ত্র পায়নি। হাড় কাঁপানো এই শীতে অসহায় মানুষগুলো খুব কষ্টে আছে।
তীব্র ঠান্ডার কারণে উপজেলায় সর্দি, কাশি, জ্বর ও শ্বাসকষ্টসহ বিভিন্ন শীতকালীন রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্করা বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন বলে জানিয়েছেন সাপাহার উপজেলা স্বাস্থ্য ও পঃ পঃ কর্মকর্তা জনাব ডাঃ মোঃ আরিফুজ্জামান রাসেল।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সাধারণ মানুষ দ্রুত সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে দুস্থ ও অসহায় মানুষের মাঝে শীত বস্ত্র বিতরণের জোর দাবি জানিয়েছেন। স্থানীয়দের মতে, তাপমাত্রা আরো কমলে পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

