পূর্বনির্ধারিত আগামী ৭ এপ্রিল রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে জ্বালানি (ফুয়েল) লোডিং শুরু হচ্ছে না। বুধবার প্রকল্প পরিচালক ড. মো. কবীর হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করেন। নিবন্ধন (কমিশনিং লাইসেন্স) না পাওয়ায় এ লোডিং পিছিয়ে গেছে বলে জানা যায়।
এর আগে ১৪ মার্চ অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ঘোষণা দিয়েছিলেন, ৭ এপ্রিল থেকেই জ্বালানি লোডিং শুরু হবে এবং জুন-জুলাইয়ের মধ্যে পরীক্ষামূলকভাবে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা যাবে। তবে লাইসেন্স জটিলতায় সেই পরিকল্পনা আপাতত অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (বিএইআরএ) কমিশনিং লাইসেন্স এখনো অনুমোদিত হয়নি। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আনোয়ার হোসেন জানান, প্রয়োজনীয় নথিপত্র এখনো পর্যালোচনায় রয়েছে। অনুমোদন মিললেই নতুন সময়সূচি ঘোষণা করা হবে।
প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, জ্বালানি লোডিং প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে প্রায় এক মাস সময় লাগে। এর পরবর্তী দুই মাসের মধ্যে চেইন রিঅ্যাকশন শুরু করা সম্ভব হয়। আর পূর্ণমাত্রায় বিদ্যুৎ উৎপাদনে যেতে সময় লাগে প্রায় ১০ থেকে ১১ মাস। ফলে নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী জুলাইয়ে ৩০০ মেগাওয়াট এবং ডিসেম্বরের মধ্যে ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যও পিছিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
তবে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের কর্মকর্তারা আশাবাদী, চলতি মাসের শেষ নাগাদ জ্বালানি লোডিং শুরু করা সম্ভব হবে। তাদের দাবি, প্রথম ইউনিটের নির্মাণকাজ, পরীক্ষা ও পরিদর্শন ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে।
অন্যদিকে, প্রকল্প বাস্তবায়ন ও জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানিসহ জ্বালানি খাতে রাশিয়ার সঙ্গে সহযোগিতা সম্প্রসারণের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে মার্কিন নিষেধাজ্ঞাজনিত কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে এবং এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে ছাড়পত্রের অপেক্ষায় রয়েছে বাংলাদেশ।
মন্ত্রী আরও বলেন, বিদ্যুৎ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এখন দেশের জন্য অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার। জাতীয় গ্রিডে নতুন সক্ষমতা যোগ করতে দ্রুত বিদ্যুৎ উৎপাদনে যাওয়া জরুরি। সেই লক্ষ্যেই রূপপুর প্রকল্পকে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
সব মিলিয়ে লাইসেন্স জটিলতা কেটে গেলে দ্রুত নতুন সময়সূচি ঘোষণা করা হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। তবে নির্ধারিত সময় অনুযায়ী উৎপাদনে যেতে না পারায় প্রকল্পের সার্বিক অগ্রগতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন ও শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

