শ্রেণিকক্ষের সংকটে বারান্দায় পাঠদান

শরীফুল ইসলাম ইন্না, সিরাজগঞ্জ

শ্রেণিকক্ষের সংকটে বারান্দায় পাঠদান

সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার চণ্ডীপুর পারএলংজানী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সাড়ে তিন দশক পায়নি পর্যাপ্ত অবকাঠামো। শ্রেণিকক্ষের অভাবে বারান্দার মেঝেতে চলছে পাঠদান ।

জানা গেছে, ২০০৬ সালে নির্মাণাধীন ভবনটির তিনটি কক্ষে চলছে প্রাক প্রাথমিক থেকে পঞ্চম শ্রেণির কার্যক্রম। প্রধান শিক্ষকের অফিস কক্ষটি এখন শ্রেণিকক্ষ। একদিকে দাপ্তরিক কাজ চলে, তার ঠিক পাশেই চলে শিশুদের পাঠদান। এতে কোনো পক্ষই কাজে মনোযোগ দিতে পারছে না। বর্তমানে বিদ্যালয়টিতে ১২৩ জন শিক্ষার্থীর বিপরীতে শিক্ষক আছেন ছয়জন। পর্যাপ্ত জায়গা না থাকায় ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষা কার্যক্রম। বারান্দায় বসে ক্লাস করা ছোট ছোট শিশুদের জন্য হয়ে দাঁড়িয়েছে চরম ভোগান্তি।

বিজ্ঞাপন

তবে উপজেলা শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, বিদ্যালয়ের নতুন ভবন নির্মাণ ও সংস্কারের জন্য ইতোমধ্যে চিঠি পাওয়া গেছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ তালিকা চেয়েছে। তালিকায় প্রথমে চণ্ডীপুর পারএলংজানী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নাম উল্লেখ থাকবে। স্কুলের প্রধান শিক্ষক আবু বককার মিয়া জানান, ১৯৮৯ সালে উল্লাপাড়া উপজেলার লাহিড়ী মোহনপুর ইউনিয়নে চণ্ডীপুর পারএলংজানী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়। ২০০৬ সালে বিদ্যালয়ে পাকা ভবন নির্মাণ করা হয়। বর্তমানে বিদ্যালয়ে ১২৩ জন ছাত্রছাত্রী রয়েছে। ছয়জন শিক্ষকের মধ্যে একজন চিকিৎসার জন্য ভারতে রয়েছেন। একজন ডেপুটেশনে পার্শ্ববর্তী একটি বিদ্যালয়ে আছেন। চারজন শিক্ষক ক্লাস নিচ্ছেন। বিদ্যালয়টি শ্রেণিকক্ষের সংকট থাকায় ক্লাস নিতে হয় অফিস কক্ষে। এছাড়া শ্রেণিকক্ষের অভাবে বারান্দায় করানো হচ্ছে পাঠদান। জায়গার সংকুলান না হওয়ায় দুজনের বেঞ্চে বসতে হচ্ছে চারজন শিক্ষার্থীকে। শব্দের কারণে তারা পড়ালেখায় মনোযোগ দিতে পারছেন না। যে কারণে প্রতিনিয়ত পাঠ্য কার্যক্রমে ব্যাঘাত ঘটছে। বিদ্যালয়ের শিক্ষার মানোন্নয়নে নিয়মিত পাঠ্য কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। এছাড়া শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় মনোযোগী ও আগ্রহী করে তুলতে খেলার মাঠ ও বিনোদনের ব্যবস্থা প্রয়োজন।

সহকারী শিক্ষক হামিদা খাতুন বলেন, ‘আমাদের বিদ্যালয়টিতে তিনটি কক্ষ। শ্রেণিকক্ষের অভাবে দেখা যাচ্ছে শিক্ষার্থীদের অফিস কক্ষে পাঠদান করাতে হচ্ছে। ফলে পাঠদানে ছাত্ররা অমনোযোগী থাকে। ক্লাসে শিক্ষকেরা বসে থাকে, আবার শিক্ষার্থীরাও বসে থাকে। এতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীর ভোগান্তি হচ্ছে। সহকারী শিক্ষক ফাতেমা খাতুন বলেন, শ্রেণিকক্ষের সংকটের জন্য বারান্দায় ক্লাস করাতে হচ্ছে। শিশু শিক্ষার্থীরা বারান্দার মেঝেতে বসে ক্লাস করছে। এতে কষ্ট হচ্ছে। তাই সরকার যদি বিদ্যালয়ে দুটি ভবনের ব্যবস্থা করে দিত, তাহলে চলনবিল অধ্যুষিত এই অঞ্চলের শিশুরা ভালোভাবে ক্লাস, পড়ালেখা করতে পারত।

উল্লাপাড়া উপজেলা শিক্ষা অফিসার মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, নতুন ভবন নির্মাণ ও সংস্কারের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ গত সপ্তাহে তালিকা চেয়ে চিঠি পাঠিয়েছে। চণ্ডীপুর পারএলংজানী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নাম তালিকায় অগ্রাধিকার ভিত্তিতে রাখা হয়েছে। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে বলা হয়েছে আবেদন করতে। বরাদ্দ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আমরা কাজ শুরু করতে পারব।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন