সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে সোমবার একটি ভুয়া চিঠি ভাইরাল হয়েছে। যেখানে ‘ওয়ারিয়র্স অব জুলাই- নামে একটি সংগঠনের পক্ষ থেকে খানসামা উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) নিকট ঈদুল আজহা উপলক্ষে জুলাই যোদ্ধাদের জন্য আর্থিক অনুদান চাওয়া হয়েছে। চিঠিটি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা সৃষ্টি হয়েছে। তবে ওই চিঠিকে ডিজিটাল চাঁদাবাজির নমুনা বলে আখ্যা দিয়েছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক আজিজার রহমান।
ফেসবুকে ভাইরাল হওয়া চিঠির কপিতে দেখা যায়, আবেদনটি পাঠানো হয়েছে সংগঠনের দিনাজপুর জেলা শাখার পক্ষ থেকে। এতে স্বাক্ষর রয়েছে আহ্বায়ক ফরহাদ হোসেন ও সদস্যসচিব মোস্তফা শাকিলের। চিঠিতে দাবি করা হয়, জুলাই মাসে জন্ম নেওয়া প্রজন্মের ঈদের আনন্দ সবার সঙ্গে ভাগাভাগি করতে আর্থিক সহায়তা প্রয়োজন।
ভাইরাল চিঠিতে সংগঠনের কেন্দ্রীয় অফিস হিসেবে ঢাকার বাংলামোটরের রূপায়ণ ট্রেড সেন্টারের ঠিকানা উল্লেখ করা। তবে এ উদ্যোগ যে কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত নয়, তা নিশ্চিত করেছেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক।
এ নিয়ে ‘ওয়ারিয়র্স অব জুলাই’ কেন্দ্রীয় কমিটি ফেসবুক পেজে এক কারণ দর্শানোর নোটিস প্রকাশ করে। সেখানে আহ্বায়ক আবু বকর সিদ্দীক লেখেন, “জেলাগুলোতে এমন কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়নি। দিনাজপুরে ইউএনও বরাবর চিঠি পাঠানোর বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিদের ৩ কার্যদিবসের মধ্যে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে, অন্যথায় সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে চিঠিটি ভাইরাল হওয়ার পর মোবাইলে যোগাযোগ করলে ফরহাদ হোসেন নিজেকে দিনাজপুর জেলা শাখার আহ্বায়ক পরিচয় দেন। তিনি বলেন, “২০২৪ সালে যারা আহত হয়েছেন, তাদের ঈদ সহায়তা দেওয়ার জন্য ইউএনওদের কাছে আবেদন করেছি। কেন্দ্র থেকে নির্দেশনা আসেনি, আমরা জেলা পর্যায়ে নিজেরা উদ্যোগ নিয়েছি।”
খানসামা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে বলেন, “এ পর্যন্ত আমি কোনো চিঠি হাতে পাইনি। ফেসবুকে বিষয়টি দেখেছি। যদি এমন কোনো আবেদনপত্র দাপ্তরিকভাবে আসে, তবে যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। চিঠিটি হাতে পেলে আমি আপনাদের জানাবো।”
এদিকে চিঠিটি ফেসবুকে ভাইরাল হওয়ার পর স্থানীয়ভাবে প্রতিবাদও শুরু হয়েছে। খানসামা উপজেলা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক আজিজার রহমান জানান,“ওয়ারিয়র্স অব জুলাই’-এর নামে কিছু ব্যক্তি ডিজিটাল চাঁদাবাজিতে নেমেছে। এরা আন্দোলনের ভাবমূর্তি নষ্ট করছে। আমরা এর তীব্র প্রতিবাদ জানাই।”
বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদের যুগ্ম আহ্বায়ক সোহেল রানা সাব্বির বলেন, “আহতদের জন্য সরকারিভাবে সহায়তা দেওয়া হয়। কোনো সংগঠনের প্যাডে সরকারের কাছে অনুদান চাওয়া অনৈতিক। যারা এটি করেছে, তাদের আমরা সমর্থন করি না।” চিঠি সত্যি হয়ে থাকলে এটি সংগঠনভিত্তিক দায়সারা সহযোগিতা নাকি প্রতারণার চেষ্টা, সে বিষয়ে এখন চলছে অনুসন্ধান। কেন্দ্রীয় কমিটির তদন্তের ফলাফল ও প্রশাসনের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে তাকিয়ে আছে সবাই।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

