যমুনার ভয়াবহ ভাঙনে বিলীন তিন স্কুল

যমুনার ভয়াবহ ভাঙনে বিলীন তিন স্কুল
ছবি: আমার দেশ

যমুনার ভাঙনে বিলীন হয়ে গেছে তিনটি স্কুল। এই স্কুলগুলো হচ্ছে- সিরাজগঞ্জের চৌহালী উপজেলার জোতপাড়া এলাকার জনতা উচ্চ বিদ্যালয়সংলগ্ন কে কে পশ্চিম জোতপাড়া সরকারি প্রাথমিক স্কুল। এছাড়াও গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার দুর্গম চরাঞ্চল পাতিলবাড়ী সরকারি প্রাথমিক স্কুল।

চৌহালী (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি জানান, সিরাজগঞ্জের চৌহালী উপজেলার জোতপাড়া এলাকায় যমুনা নদীর তীব্র ভাঙনে গভীর রাতে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ অন্তত ১২টি বসতবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।

বিজ্ঞাপন

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জনতা উচ্চ বিদ্যালয় সংলগ্ন কে কে পশ্চিম জোতপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দুটি টিনশেড ভবনের একাংশ নদীতে ধসে পড়ে। পাশাপাশি কয়েকটি বসতবাড়িও নদীগর্ভে বিলীন হয়। ভাঙন ঠেকাতে সাময়িক ব্যবস্থা হিসেবে ঘটনাস্থলে জিও ব্যাগ ও জিও টিউব ডাম্পিং করা হচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দা রবিউল মোল্লা জানান, গতকাল গভীর রাতে মাত্র ৪০ মিনিটের ব্যবধানে ভয়াবহ এ ভাঙনের ঘটনা ঘটে। এতে মোট ১২টি বসতবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। ভাঙনের আতঙ্কে আশপাশের অনেক পরিবার তাদের ঘরবাড়ি ও মূল্যবান আসবাবপত্র নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিচ্ছেন।

এদিকে স্থানীয়দের দাবি, প্রতিবছর যমুনা নদীর ভাঙনে বসতবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও কৃষিজমি বিলীন হলেও স্থায়ীভাবে নদীভাঙন রোধে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। তারা দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

সাঘাটা (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি জানান, গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার দুর্গম চরাঞ্চল পাতিলবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি যমুনার করাল গ্রাসে ২০ বছরে ১১ বার স্থান পরিবর্তন করতে হয়েছে। এবারও ভাঙনের মুখে পড়ে বিদ্যালয়টির স্থাপনা অন্যত্র নিয়ে যাওয়া হয়েছে। বারবার বিদ্যালয়ের স্থান পরিবর্তন ও অবকাঠামো ভাঙা-গড়া নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন স্কুলের ছাত্র-ছাত্রী ও শিক্ষকরা।

চরাঞ্চলের বাসিন্দারা জানান, উপজেলার হলদিয়া ইউনিয়নের পাতিলবাড়ী গ্রামের প্রত্যন্ত চরের পাতিবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি প্রায় ৪০ বছরের পুরোনো। ১৯৮৮ সালের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি প্রতিষ্ঠার পর থেকেই যমুনা নদীর ভাঙনের কবলে পড়ে। এরপর ১৯৯১ সাল থেকে প্রায় ১০ বার ভাঙনের কবলে পড়ে স্থানান্তরিত করতে হয়েছে বিদ্যালয়টি। এবারও গত ২২ জুলাই ভাঙনের মুখে পড়ায় স্থানান্তর করে ওই গ্রামের অন্য মৌজায় নেওয়া হয়েছে অবকাঠামো। বিদ্যালয়ের টিনের ঘর ও আসবাবপত্র রাখা হয়েছে একটি স্থানে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, গত কয়েক বছর আগেও বিদ্যালয়টিতে ছাত্রছাত্রী ছিল প্রায় ১০০ জনের ওপরে। একের পর এক স্থানান্তরের কারণে এখন তা দাঁড়িয়েছে ৫৭ জনে। দুই এক বছর পরপরই ভাঙনের মুখে পড়ায় স্থান অনিশ্চয়তায় সরকারিভাবে ভালো অবকাঠামোও নির্মাণ করা হয়নি। বিদ্যালয়টির শিক্ষার্থী অভিভাবক স্থানীয় বাসিন্দা নরুন্নবী বলেন, অনেক কষ্ট করে বাচ্চারা এখানে ক্লাস করে। বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক মাহবুবুর রহমান জানান, বিদ্যালয়ের স্থাপনা ভাঙা-গড়া নিয়ে খুব কষ্টে আছি। এতে শিক্ষার্থীর সংখ্যা দিনদিন কমে যাচ্ছে। এবারও নদী ভাঙনের কবলে পড়ায় স্থাপনা সরাতে বাধ্য হয়েছি।

সাঘাটা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবদুল্লাহেস সাফি জানান, ভাঙনের কবলে পড়া ওই বিদ্যালয়টি পাঠ দানের উপযোগী করতে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন পাঠানো হয়েছে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন