আমার দেশ জনপ্রিয় বাংলা নিউজ পেপার

বালু খেকোদের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ, সাংবাদিকের বাড়িতে হামলা ও মিথ্যা মামলা

রংপুর অফিস

বালু খেকোদের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ, সাংবাদিকের বাড়িতে হামলা ও মিথ্যা মামলা

রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলা এলাকায় অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশকে কেন্দ্র করে এক সাংবাদিকের বাড়িতে হামলার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় তার পরিবারের তিন সদস্য আহত হয়েছেন। একই সঙ্গে পরে ওই সাংবাদিকের নামেও পাল্টা মামলা দায়ের হওয়ায় এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।

ভুক্তভোগী মো. রিয়াদুন্নবী রিয়াদ, দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার গঙ্গাচড়া উপজেলা প্রতিনিধি। তার দায়ের করা এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১৮ মার্চ সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে একদল সশস্ত্র ব্যক্তি তার বাড়িতে হামলা চালায়। এতে তার বাবা ইলিয়াছ আলী, মা মোসলেমা বেগম (৪৭) এবং ফুফু কোকিলা বেগম (৪৫) আহত হন। গুরুতর আহত কোকিলা বেগমকে গঙ্গাচড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স-এ ভর্তি করা হয়।

বিজ্ঞাপন

সাংবাদিক রিয়াদুন্নবীর অভিযোগ, তিস্তা নদী এলাকায় অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে গত জানুয়ারিতে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশের পর থেকেই একটি প্রভাবশালী বালু ব্যবসায়ী চক্র তার ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। এরই জেরে পরিকল্পিতভাবে এই হামলা চালানো হয়েছে।

এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় তাজু মিয়া, রাজু মিয়া, আজিবর রহমান, রিপন মিয়া ও আলেফ উদ্দিনসহ কয়েকজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। স্থানীয় সূত্রের দাবি, অভিযুক্তরা বালু ব্যবসার সঙ্গে জড়িত এবং তাদের বিরুদ্ধে আগেও অভিযোগ রয়েছে।

অন্যদিকে, ঘটনার দুইদিন পর ২০ মার্চ তাজমিনা বেগম নামে এক নারী পৃথক মামলা দায়ের করেন। তার অভিযোগ, জমিজমাসংক্রান্ত বিরোধের জেরে ১৮ মার্চ রাত সাড়ে ৮টার দিকে প্রতিপক্ষ তাদের ওপর হামলা চালায়। এতে তিনি ও তার ছেলে আহত হন এবং পরে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এ চিকিৎসা নেন। ওই মামলায় সাংবাদিক রিয়াদুন্নবীসহ ৯ জনকে আসামি করা হয়েছে।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে সাংবাদিক রিয়াদুন্নবী বলেন, ঘটনার সময় তিনি বাড়িতে উপস্থিত ছিলেন না। অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে প্রতিবেদন প্রকাশ করায় তাকে হয়রানি করতে পরিকল্পিতভাবে মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছে।

এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। অনেকেই বলছেন, সত্য প্রকাশ করায় সাংবাদিক হামলার শিকার হয়েছেন এবং পরে তাকে ফাঁসাতে উল্টো মামলা দেওয়া হয়েছে। দ্রুত প্রকৃত দোষীদের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন তারা।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সাংবাদিক নেতারাও ঘটনাটিকে নিন্দনীয় উল্লেখ করে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন। অন্যথায় কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে গঙ্গাচড়া মডেল থানা-এর অফিসার ইনচার্জ আব্দুর ছবুর জানান, উভয় পক্ষের মামলা গ্রহণ করা হয়েছে এবং বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই বলেও তিনি জানান।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...