নির্বাচনের মাঠ যখন উত্তপ্ত, তখন নীলফামারীতে একটি ঘটনাকে ঘিরে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের পরিবেশ নিয়ে। নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার কেন্দ্রে এসেছে নীলফামারী ২ আসনের বিএনপি প্রার্থীর উদ্যোগে পুলিশ কর্মকর্তাদের জন্য আয়োজিত মধ্যাহ্নভোজ।
ঘটনাটি ঘটেছে ৭ ফেব্রুয়ারি শনিবার নীলফামারী সদর আধুনিক হাইস্কুল মাঠে অনুষ্ঠিত বিএনপির নির্বাচনী জনসভা শেষে।
অভিযোগ রয়েছে, জনসভা শেষ হওয়ার পর বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান এবং নীলফামারী-২ (সদর) আসনের ধানের শীষ প্রতীকের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী শাহরিন ইসলাম তুহিন জেলা পুলিশ সুপার শেখ জাহিদুল ইসলাম সহ দায়িত্বপালনকারী পুলিশ কর্মকর্তাদের জন্য মধ্যাহ্নভোজের আয়োজন করেন। ওই আয়োজনে জেলা পুলিশের একাধিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার উপস্থিতির কথাও জানা গেছে।
নির্বাচনী আচরণবিধি অনুযায়ী, কোনো প্রার্থী বা রাজনৈতিক দল সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কোনো ধরনের উপহার, আপ্যায়ন বা ব্যক্তিগত সুবিধা দিতে পারেন না। বিশেষ করে নির্বাচনের আগমুহূর্তে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের এমন আতিথেয়তা প্রদান নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষতা ও শৃঙ্খলার সঙ্গে সাংঘর্ষিক এমনটাই মনে করছেন স্থানীয় সচেতন মহল ও প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সাধারণ মানুষের মধ্যেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। প্রশ্ন উঠছে, যাদের হাতে নির্বাচনের নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলার দায়িত্ব, তারা কতটা নিরপেক্ষ থাকতে পারবেন? অনেকের আশঙ্কা, এ ধরনের ঘটনা ভোটারদের আস্থা ক্ষুণ্ন করতে পারে।
তবে এ বিষয়ে জেলা প্রশাসন কিংবা পুলিশ বিভাগের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। নীরবতা আরও জোরালো করেছে নানা জল্পনা ও আলোচনা।
স্থানীয় ভোটারদের দাবি, গণতন্ত্রের মূল ভিত্তি হলো একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন। সেই নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রশ্নাতীত নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করা জরুরি। অভিযোগের বিষয়টি দ্রুত, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছভাবে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
এ ব্যাপারে জেলা পুলিশ সুপার শেখ জাহিদুল ইসলাম জানান, আমি ওই অনুষ্ঠানে ছিলাম না আর কে ছিল আমি জানি না।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

