আমার দেশ জনপ্রিয় বাংলা নিউজ পেপার

রংপুরে এটিএম আজহার

ফ্যামিলি কার্ড, রেশন কার্ড, কৃষি কার্ডের লোভ দেখিয়ে লাভ হবে না

রংপুর অফিস

ফ্যামিলি কার্ড, রেশন কার্ড, কৃষি কার্ডের লোভ দেখিয়ে লাভ হবে না

রংপুর দুই বদরগঞ্জ তারাগঞ্জ আসনের এমপি প্রার্থী জামায়াতের নায়েবে আমির এটিএ আজহারুল ইসলাম বলেছেন, নানান ধরনের প্রতিশ্রুতি অঙ্গীকার আর ফ্যামিলি কার্ড রেশন কার্ড কৃষি কার্ডের লোভ দেখিয়ে কোনো লাভ হবে না। এ ধরনের কার্ডের লোভ আর প্রতিশ্রুতিতে ভোটারদের মন গলবে না। ইতিপূর্বে ফ্যাসিস্টরা নানান ধরনের কার্ডের লোভ দেখিয়ে বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি ও অঙ্গীকার করে মাথায় পট্টি বাধিয়ে জনগণকে ধোঁকা দিয়ে ভোট নিয়েছিল। ক্ষমতায় এসে তারা জনগণের সঙ্গে কি করেছিল এদেশের সকল মানুষ জানে। যারা প্রকৃতপক্ষে দেশকে ভালোবাসে দেশের মানুষের কল্যাণ কামনা করে ইসলামী মূল্যবোধকে কাজে লাগিয়ে নিঃস্বার্থভাবে মানুষের উপকার করতে চায় তারা কখনো আগাম কাউকে কোন প্রতিশ্রুতি বা কোন কার্ডের লোভ দেখায় না।

বুধবার ৪ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলা বিষ্ণুপুর ইউনিয়ন কচুবাড়ির হাটে ১১ দলীয় জোট আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

বিজ্ঞাপন

ইউনিয়ন জামায়াতের সভাপতি কাজী আব্দুল মাবুদের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন সাবেক ইউপি সদস্য মহুব আলী, উপজেলা আমির কামারুজ্জামান ও নায়েবে আমির শাহ মো. রুস্তম আলীসহ ১১ দলীয় জোটে নেতৃবৃন্দ।

প্রধান অতিথির বক্তব্য এটিএম আজহার বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছর এক নেতা নিজে লন্ডনে গুপ্ত থেকে এখন দেশে এসে জামায়াতের নেতৃবৃন্দকে গুপ্ত বলা শুরু করেছেন। আমরা কাউকে দস্তখত দেইনি কখনো। জামায়াতের নেতৃবৃন্দতো কখনো দেশ থেকে পালায়নি। দেশ থেকে পালানোর অনেক সুযোগ ছিল। পালানোর জন্য আওয়ামী লীগ অনেক সুযোগ করেও দিয়েছিল। তার পরেও আমরা এ দেশ থেকে পালাই নি। কাউকে দস্তখত দেইনি। আমরা হাসিমুখে ফাঁসির মঞ্চে দাঁড়িয়েছি। দেশের জন্য নিজের জীবন বিলিয়ে দিয়েছি। দীর্ঘদিন কারাবরণ করে নির্যাতিত হয়ে এখন মানুষের পাশে এসে দাঁড়িয়েছি। আমরা অহেতুক কারো সমালোচনা কখনো করিনি।

তিনি বলেন, একটি দল সামনে তাদের ভরাডুবির আচ পেয়ে ভোটারদের নানান ভাবে হুমকি দিচ্ছে। তারা ভোটারদের বলছে এই আসনে হেরে গেলেও আমরা ক্ষমতায় আসব। আর ক্ষমতায় আসলেই যারা আমাদেরকে ভোট দেয়নি তাদেরকে দেখে নেওয়া হবে।

ভোটারদের উদ্দেশ্যে আজহার বলেন, আপনারা কেউ ভয় পাবেন না। ভয় যারা দেখায় তারাই আসলে ভয় করে। আমরা সব সময় ভোটারদের পাশে রয়েছি কেউ ভোটারদের ভয় দেখালে আমরাও তাদের ছাড় দিয়ে কথা বলবো না। আমরা বুক পেতে দিতে জানি। আমরা কাউকে ভয় পাই না। তবে সহজে আমরা কাউকে কিছু বলিও না। কিন্তু কেউ আঘাত করলে তাকে আর ছাড় দেওয়ার সুযোগ নেই।

তিনি বলেন, ভোট এলে প্রার্থীদের পোশাকের পরিবর্তন হয়। সবাই ইসলামিক পণ্ডিত হওয়ার চেষ্টা করে। মাথায় টুপি হাতে তসবি নানান ধরনের লেবাস নিয়ে তারা সাধারণ ভোটারদের মন আকৃষ্ট করার চেষ্টা করে। কিন্তু মানুষ জানে প্রকৃতপক্ষে কারা ইসলামীর মূল্যবোধকে কাজে লাগিয়ে দেশ এবং মানুষের কল্যাণে কাজ করতে চায়। প্রতিপক্ষরা ১১ দলীয় জোটের প্রার্থীদের কোন ধরনের ব্যক্তিগত দুর্নীতি অনিয়মের তথ্য না পেয়ে পুরনো প্রোপাগান্ডা ছড়িয়ে মিথ্যা অপবাদ দিয়ে ভোট নষ্ট করার পাঁয়তারা লিপ্ত রয়েছেন। কিন্তু এদেশের সাধারণ মানুষ তাদের এই মিথ্যা প্রোপাগান্ডায় আর ভুলবে না তাদের প্রতিশ্রুতি ও উপঢৌকন এর কথা উপেক্ষা করে তারা ১১ দলীয় জোটের প্রার্থীদের প্রতীকে ভোট দিবে।

উপস্থিত সকলের উদ্দেশ্যে আজহার আরো বলেন, ১১ দলীয়ে জোটের প্রার্থীরা কখনো অন্য ধর্মের কোন ব্যক্তিকে আলাদা চোখে দেখেন কারণ এ দেশ যেমন সবার এ দেশের সবাই সমান অধিকার বহন করে।

এখানে কোন সংখ্যালঘু বা সংখ্যাগুরু এই শব্দটা আমরা বিশ্বাস করিনা। আমরা দেশের ক্ষেত্রে দেশের নাগরিকত্বের ক্ষেত্রে সবাই সমান অধিকার বহন করি।

তাই সামনে ১২ই ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে ১১ দলীয় জোটে প্রার্থীদের ভোটদার আহ্বান জানান তিনি।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন