নীলফামারীর ৪টি সংসদীয় আসনে ৫৬২টি ভোটকেন্দ্রে এবার জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে ২৬৪টি কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে জেলার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
তবে সব কেন্দ্রেই সুষ্ঠুভাবে ভোট গ্রহণের সার্বিক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে বলে সাংবাদিকদের জানান নীলফামারী জেলা প্রশাসক ও রির্টানিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামান।
তিনি বলেন, “নির্বাচন ঘিরে প্রশাসনিকভাবে আমাদের সার্বিক পরিস্থিতি অনেক ভাল। ইতোমধ্যে আমরা ভোট কেন্দ্রগুলো পরিদর্শন করেছি। যেখানে যেমন সুবিধা বা অসুবিধা রয়েছে তা চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।”
জেলা প্রশাসক বলেন, “নতুন করে ২৯ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ পেয়েছেন। এছাড়া চারটি জুডিশিয়াল তদন্ত টিম রয়েছে। এতে আটজন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কাজ করছেন। ”
তিনি বলেন, “সকল বাহিনী দায়িত্ব বুঝে নিয়েছেন। সেনাবাহিনী, বিজিবি, পুলিশ, র্যাব, আনসার বাহিনী কাজ করছে ও যৌথবাহিনীর মহড়া অনুষ্ঠিত হয়েছে।”
ভোটারদের কেন্দ্রে এসে ভোট প্রদানের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “প্রতিটি ক্ষেত্রে যেন যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে আমরা সদা প্রস্তুত। কারণ একটাই, উৎসবমুখর ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে অবাধ-সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য ভোট আমরা উপহার দিতে চাই।
“কিছু কিছু ভোট কেন্দ্রে নির্বাচনের জন্য লাগানো সিসি ক্যামেরা চুরি হয়েছে। সেখানে নতুন করে ক্যামেরা স্থাপন করা হচ্ছে। যারা সিসি ক্যামেরা চুরি করেছে সেই দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে। ”
তিনি আরও বলেন, এছাড়া আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি রাত ১২টা পর্যন্ত আমাদের জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে নির্বাচনি কন্ট্রোলরুম খোলা থাকবে। যেকোনো প্রার্থী ও ভোটাররা যেকোন সমস্যা বিষয়ে আমাদের কন্ট্রোল রুমের ফোন করে জানাতে পারবেন।
এদিকে আইনশৃংঙ্খলা বাহিনীর তথ্য মতে, নীলফামারীর চারটি আসনের ৫৬২টি মধ্যে ঝুকিপূর্ণ ভোট কেন্দ্র রয়েছে ২৬৪টি। এরমধ্যে অধিক গুরুত্বপূর্ণ ৭১টি ও গুরুত্বপূর্ণ ১৯৩টি কেন্দ্র। এসব কেন্দ্রে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলাবাহিনী।
সূত্র জানায়, কেন্দ্রে ভোটার সংখ্যা বেশি, ইতোপূর্বে অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুর, বিগত নির্বাচনগুলিতে সহিংসতা ঘটনা, কেন্দ্র সীমানা প্রাচীর না থাকা, প্রার্থী বা রাজনৈতিক দলগুলোর প্রভাবশালী নেতার বাড়ি সংলগ্ন কেন্দ্র, দূরবর্তী ও জনবহুল এলাকাসহ বিভিন্ন দিক বিবেচনা করে এসব কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
জেলা নির্বাচন অফিসের তথ্য মতে, নীলফামারী জেলায় ত্রয়োদশ নির্বাচনে মোট ভোটার সংখ্যা ১৫ লাখ ৮০ হাজার ৩০৬ জন। এর মধ্যে নারী ভোটার ৭ লাখ ৮৭ হাজার ২৮৯, পুরুষ ভোটার ৭ লাখ ৯৩ হাজার ০০৭ এবং তৃতীয় লিঙ্গ ভোটার ১০জন। মোট ভোট কেন্দ্র ৫৬২টি ও ভোট কক্ষ ২ হাজার ২২৮টি।
নীলফামারী ৪ টি সংসদীয় আসনে ২৭ প্রার্থীর মধ্যে নীলফামারী-১ আসনে ৮ জন, নীলফামারী-২ আসনে ৬ জন, নীলফামারী-৩ আসনে ৪ জন ও নীলফামারী-৪ আসেন ৯ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
নীলফামারী-১ (ডোমার-ডিমলা) আসনটি ২০টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত। এই আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ৫৬ হাজার ৬১০ জন। এর মধ্যে নারী ২ লাখ ২৬ হাজার ৮২৬ ও পুরুষ ২ লাখ ২৯ হাজার ৭৮২ এবং তৃতীয় লিঙ্গের ২ জন। আসনটিতে পোস্টাল ব্যালটের ভোটার সংখ্যা ৩ হাজার ৬৬২। এর মধ্যে নারী ৯৬০ ও পুরুষ ২ হাজার ৭০২।
এখানে মোট ভোট কেন্দ্র ১৫৪টি ও ভোট কক্ষ ৮২৩টি। যার মধ্যে অধিক গুরুত্বপূর্ণ ২১টি ও গুরুত্বপূর্ণ ৭৭টি। বাকি ৫৬টি সাধারণ কেন্দ্র।
এর মধ্যে ডোমার উপজেলায় ৭০টি ভোট কেন্দ্রের মধ্যে অধিক গুরুত্বপূর্ণ ১০টি ও গুরুত্বপূর্ণ ৩৩টি। ডিমলা উপজেলায় ৮৪টি ভোট কেন্দ্রের মধ্যে অধিক গুরুত্বপূর্ণ ১১টি ও গুরুত্বপূর্ণ ৪৪টি।
নীলফামারী-২ (সদর) আসনটি ১৫টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত। এখানে মোট ভোটার ৩ লাখ ৮২ হাজার ৯৭০ জন। এর মধ্যে নারী ১ লাখ ৯২ হাজার ২৩৭ ও পুরুষ ১ লাখ ৯০ হাজার ৭৩১ এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ২ জন। এই আসনে পোস্টাল ব্যালটের ভোটার ২ হাজার ৮১৫ জন। যারমধ্যে নারী ৫১২ ও পুরুষ ২ হাজার ৩০৩ জন। মোট ভোট কেন্দ্র ১৩৪টি ও ভোট কক্ষ ৬৯৬টি। এর মধ্যে অধিক গুরুত্বপূর্ণ ১৫টি ও গুরুত্বপূর্ণ ৪২টি।
নীলফামারী-৩ (জলঢাকা) আসনটি ১১টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত। এই আসনে মোট ভোটার ২ লাখ ৯২ হাজার ০৭৭ জন। নারী ভোটার ১ লাখ ৪৩ হাজার ৭৮৯ ও পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৪৮ হাজার ২৭৭ এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ১ জন।
এই আসনে পোস্টাল ব্যালটের ভোটার ২ হাজার ৩৬৯ জন। এর মধ্যে নারী ৭৬৮ ও পুরুষ ১ হাজার ৬০১ জন। মোট ভোট কেন্দ্র ১০৫টি ও ভোট কক্ষ ৫৪০টি। এর মধ্যে অধিক গুরুত্বপূর্ণ ১৫টি ও গুরুত্বপূর্ণ ৪২টি। সাধারণ কেন্দ্র ৪৮টি।
নীলফামারী-৪ (সৈয়দপুর-কিশোরীগঞ্জ) আসনটি ১৪টি ইউনিয়ন, একটি পৌরসভা ও একটি ক্যান্টনমেন্ট বোর্ড নিয়ে গঠিত। এই আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ৪৮ হাজার ৬৪৯ জন। নারী ভোটার ২ লাখ ২৪ হাজার ৪২৭ ও পুরুষ ভোটার ২ লাখ ২৪ হাজার ২১৭ এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ৫ জন।
এ ছাড়া মোট ভোটারের মধ্যে সৈয়দপুরে উর্দুভাষী (অবাঙালী) ভোটার সংখ্যা ৭৮ হাজার ৬৭ জন। যার মধ্যে নারী ভোটার ৩৯ হাজার ৯৩৪ জন ও পুরুষ ভোটার ৩৮ হাজার ১৩৩ জন। আসনটিতে পোস্টাল ব্যালটের ভোটার সংখ্যা ৩ হাজার ১৬৫। এর মধ্যে নারী ৬৫৬ ও পুরুষ ২ হাজার ৫০৯।
এখানে মোট ভোট কেন্দ্র ১৬৯টি ও ভোট কক্ষ ৮৭০টি। যারমধ্যে অধিক গুরুত্বপূর্ণ ২০টি ও গুরুত্বপূর্ণ ৩২টি। বাকী ১১৭টি সাধারণ কেন্দ্র।
এর মধ্যে সৈয়দপুর উপজেলায় ৯১টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে অধিক গুরুত্বপূর্ণ ১০টি ও গুরুত্বপূর্ণ ৫টি। কিশোরীগঞ্জ উপজেলায় ৭৮টি ভোট কেন্দ্রের মধ্যে অধিক গুরুত্বপূর্ণ ১০টি ও গুরুত্বপূর্ণ ২৭টি।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

