পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে কোরবানির পশু কাটতে নীলফামারীর সৈয়দপুর থেকে রাজধানী ঢাকার দিকে ছুটছেন পেশাদার কসাইরা। সড়ক বা রেলপথে তো বটেই, সময়ের স্বল্পতা আর স্বাচ্ছন্দ্যের কারণে অনেকেই এবার বেছে নিয়েছেন আকাশপথ। সৈয়দপুরে বিমানবন্দর থাকায় ঈদের দুই-এক দিন আগেই বিমানের টিকিট কেটে ঢাকার উদ্দেশে সৈয়দপুর ত্যাগ করবেন কসাইরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েক বছর ধরেই ঈদুল আজহার সময় সৈয়দপুরের শতাধিক দক্ষ কসাই বাড়তি অর্থ আয়ের জন্য ঢাকা যান। ঈদের দিন থেকে শুরু করে পরবর্তী তিন দিন তারা রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় বাড়ি বাড়ি গিয়ে পশু জবাই, চামড়া ছাড়ানো এবং মাংস টুকরো করার কাজ করেন। এই তিন দিনের চুক্তিতে কসাইদের একেকটি দল সম্মিলিতভাবে ১৫ থেকে ২০ লাখ টাকার মতো আয় করে থাকেন।
সৈয়দপুরের কয়েকজন কসাইদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ঢাকায় পশুর দাম অনুযায়ী মাংস কাটার চুক্তি হয়। সাধারণত প্রতি হাজারে ২০০ থেকে ২৫০ টাকা রেটে তারা কাজ করেন। অর্থাৎ, কোনো পশুর দাম ১ লাখ টাকা হলে সেটি কাটার মজুরি আসে ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা। ভালো আয়ের সুযোগ থাকায় ট্রেন ও বাসে করে ঢাকায় যান। অনেকেই যাতায়াতের স্বাচ্ছন্দ ও সময় বাঁচাতে বিমানে করে সৈয়দপুর থেকে ঢাকায় যান।
সৈয়দপুর মাংস ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি নাদিম কোরাইশি বলেন, এবার ঈদের আগের দিন ১০ জনের একটি দল নিয়ে বিমানে ঢাকায় যাবেন। ইতিমধ্যে আমরা বিমানের টিকিট করে ফেলেছি। ঢাকায় গিয়ে দলটি তিন ভাগে ভাগ হয়ে বিভিন্ন এলাকায় কাজ করবে। আমাদের বাপ-দাদারাও ঢাকায় গিয়ে কোরবানির কাজ করতেন। পশু জবাই থেকে শুরু করে চামড়া অক্ষত রেখে ছাড়ানো, মাংস নিখুঁতভাবে পিস করা ও হাড় আলাদা করার কাজে আমাদের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা রয়েছে।
সৈয়দপুরের একাধিক কসাই জানান, ঢাকার অনেক পরিবার মাসখানেক আগেই তাদের বুকিং দিয়ে রাখেন। অনেকেই আগেভাগেই ঢাকা পৌছেছেন। সিনিয়র কসাইরা বিমানে আজকালের মধ্যে ঢাকায় আসবেন।
পশু কাটায় সৈয়দপুরের কসাইদের বিশেষ দক্ষতা ও সুনামের কারণেই প্রতি বছর ঈদের এসময় ঢাকায় তাদের চাহিদা ব্যাপক বেড়ে যায়। ফলে বাড়তি আয়ের আশায় উৎসবের এই দিনগুলোয় নিজ এলাকা ছেড়ে রাজধানীতেই ব্যস্ত সময় পার করেন তারা।
এমএইচ
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

