প্রতি ১০০ আটি পাটকাঠি বিক্রি হচ্ছে ৭০০ থেকে ১ হাজার টাকায়

কাউনিয়ায় পাটকাঠিই যেন কৃষকের ‘বোনাস’ আয়

কাউনিয়ায় পাটকাঠিই যেন কৃষকের ‘বোনাস’ আয়

রংপুরের কাউনিয়ায় সোনালি আঁশ পাটের পাশাপাশি পাটকাঠির ভালো দাম পাওয়ায় কৃষকদের মুখে হাসি ফুটেছে। চলতি মৌসুমে বিভিন্ন হাট-বাজারে মানভেদে প্রতি মণ (৪০ কেজি) তোষা ও দেশি পাট ৩ হাজার ৮০০ থেকে ৪ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। অন্যদিকে, এক দোন (২৪ শতক) জমির পাটকাঠি বিক্রি হচ্ছে ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা পর্যন্ত। এ ছাড়া প্রতি ১০০ আটি পাটকাঠি বিক্রি হচ্ছে ৭০০ থেকে ১ হাজার টাকা দরে।

বিজ্ঞাপন

সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজার ঘুরে এবং কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মৌসুমের শুরুতে পাটের দাম কিছুটা কমে মণপ্রতি প্রায় ৫০০ টাকা কমেছিল। তবে পাটকাঠির ভালো দাম পাওয়ায় সেই ক্ষতি অনেকটাই পুষিয়ে নিচ্ছেন কৃষকরা। ফলে পাটের পাশাপাশি পাটকাঠিও এখন বাড়তি আয়ের অন্যতম উৎস হয়ে উঠেছে।

উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে দেখা গেছে, ভালো দাম পাওয়ার আশায় কৃষকরা যত্ন করে পাটকাঠি সংরক্ষণ করছেন। কেউ মাচা তৈরি করে, কেউ স্তূপ করে আবার কেউ পলিথিন দিয়ে মুড়িয়ে পাটকাঠি রেখে দিচ্ছেন।

তকিপলহাটের ব্যবসায়ী আলেনুর জানান, জ্বালানি ও বিভিন্ন গ্রামীণ শিল্পে পাটকাঠির চাহিদা থাকায় এর দামও ভালো। এতে কৃষকদের উৎপাদন খরচের একটি অংশ উঠে আসার পাশাপাশি বাড়তি আয় হচ্ছে।

গদাই গ্রামের পাটচাষি আলামিন বলেন, “পাট জাগ দেওয়ার সময় শ্রমিকদের এবার টাকার পরিবর্তে পাটকাঠির আটি দিতে হয়েছে। তারা আটি নিয়ে পাট জাগ দিয়ে পাট বুঝিয়ে দিয়ে গেছে।”

কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবার পাটের ফলন ভালো হয়েছে। পাশাপাশি পাট ও পাটকাঠির ভালো দাম পাওয়ায় কৃষকদের মধ্যে পাট চাষে আগ্রহও বাড়ছে।

উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন জানান, মৌসুমের শুরুতে তিস্তার চরাঞ্চল ও বিভিন্ন বিলে পর্যাপ্ত পানি না থাকায় অনেক কৃষককে দূরের নদী কিংবা সেচ পাম্পের পানি ব্যবহার করে পাট জাগ দিতে হয়েছে। এতে উৎপাদন খরচ কিছুটা বাড়লেও পাট ও পাটকাঠির ভালো দামে তা পুষিয়ে নিতে পারছেন কৃষকরা।

তিনি আরও জানান, পাটকাঠি এখন শুধু ঘরের বেড়া বা জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে না। চারকোল ও পারটেক্স কারখানার প্রতিনিধিরা সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে ভালো দামে পাটকাঠি কিনছেন। পাটকাঠি দিয়ে পার্টিকেল বোর্ড ও চারকোল তৈরি করে বিদেশে রপ্তানি হওয়ায় এর বাণিজ্যিক চাহিদাও বেড়েছে।

কৃষি কর্মকর্তা মো. সালাহউদ্দিন জানান, চলতি মৌসুমে উপজেলায় পাট চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৭৪০ হেক্টর। সেখানে চাষ হয়েছে ৮৬৫ হেক্টর জমিতে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১০ হাজার ১০১ বেল।

তিনি জানান, উন্নত জাতের বীজ সরবরাহ ও প্রশিক্ষণের ফলে এবার পাটের গুণগত মান ও রঙ ভালো হয়েছে।

মো. সালাহউদ্দিন বলেন, “বর্তমানে পাট ও পাটকাঠির যে দাম রয়েছে, তা অব্যাহত থাকলে আগামী মৌসুমে কাউনিয়ায় পাট চাষ আরও বাড়বে বলে আমরা আশা করছি।”

পাট ও পাটকাঠির ভালো দাম অব্যাহত থাকলে আগামী দিনে কাউনিয়ায় পাট চাষ আরও বাড়বে এবং পাটকাঠি কৃষকের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বাড়তি আয়ের উৎস হিসেবে আরও বড় ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন