রংপুরে অপহরণ করে এক বিএনপি নেতার বাড়িতে নিয়ে একজন ব্যবসায়ীর কাছ থেকে জমি বিক্রির বায়নাপত্র ছিনিয়ে নেওয়া এবং জীবননাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে কয়েকজন বিএনপি এবং সহযোগী সংগঠনের নেতার বিরুদ্ধে।
মঙ্গলবার দুপুরে রংপুর সুমি কমিউনিটি সেন্টারে নগরীর মাহিগঞ্জ এলাকার আলাল হোসেন নামের এক ব্যবসায়ী সংবাদ সম্মেলন করে এই অভিযোগ তোলেন।
লিখিত বক্তব্যে আলাল দাবি করেন, পীরগাছার বড়দরগা বাজারে সাড়ে ৩ শতক জমি ক্রয়ের জন্য ফুল মিয়া নামের একজন মালিকের সঙ্গে ১৮ লাখ ৫ হাজার টাকার বায়না চুক্তিপত্র সম্পন্ন করি। কিন্তু সময় শেষ হওয়ার কয়েক দিন পরে পুরো টাকা দিয়ে দলিল করতে চাইলে ফুলমিয়া তা দিতে অস্বীকার করেন। পরে বিষয়টি আমি স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের জানাই।
তারা ফুল মিয়াকে নিয়ে স্থানীয়ভাবে সালিশ বৈঠক করেন। সালিশে অন্যত্র জমি বিক্রি করে বায়নার টাকা আলালকে ফেরত দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয় এবং ফুলমিয়া তা মেনে নিয়ে টাকা দেওয়ার কথা অঙ্গীকার করেন।
সংবাদ সম্মেলনে আলাল অভিযোগ করেন, মীমাংসা বৈঠকের কয়েক দিন পরে পীরগাছা উপজেলার কল্যাণী ইউনিয়ন বিএনপির ৭ নং ওয়ার্ড সভাপতি শামসুল আলম ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সুমন চৌধুরী, কল্যাণী ইউনিয়ন যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক রুবেল রানা, ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক রাফিউল ইসলাম রনি, মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য রিয়াদ তুহিন আমার সঙ্গে উপযাজক হয়ে যোগাযোগ করে বায়েনার টাকা তুলে নেওয়ার আশ্বাস দেন।
আমি তখন তাদের বলি যেহেতু সালিশ বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে। আমি সেভাবেই টাকা নিতে চাই। তখন তারা আমাকে বলেন, সালিশ বৈঠকের মাধ্যমে টাকা পাব না।
সংবাদ সম্মেলনে আল আল আরও বলেন, কয়েক দিন পরে রাতের বেলা তারা আমাকে যুবদল নেতা রুবেল রানার বাড়িতে অপহরণ করে নিয়ে যায়। সেখানে তারা আমার কাছ থেকে বায়না চুক্তিনামাটি ছিনিয়ে নেন এবং ১৮ লাখের পরিবর্তে ৮ লাখ টাকায় সমাধান করার জন্য চাপ দেন। আমি রাজি না হওয়ায় নেতারা আমাকে জবাই করে কখনো গুলি করে হত্যার হুমকি দেয়। পরে ওই বাড়ি থেকে তারা আমাকে ছেড়ে দেয়।’
সাংবাদিক সম্মেলনে আলাল দাবি করেন, ‘এ ব্যাপারে আমি জড়িত সবার বিরুদ্ধে মাহিগঞ্জ থানায় অভিযোগ দাখিল করি। কিন্তু পুলিশ কোন ব্যবস্থা নিচ্ছে না। উল্টো অভিযুক্ত বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতারা আমার বাড়িতে এসে অভিযোগ তুলে নেওয়ার জন্য নতুন করে হুমকি ধামকি দিচ্ছে। এতে আমি নিরাপত্তা হীনতায় ভুগছি।
সংবাদ সম্মেলনে আলাল দাবি করেন, ‘আমার কাছ থেকে ছিনিয়ে নেওয়া বায়না দলিল পত্রটি সাব রেজিস্ট্রি অফিসে আপস-মীমাংসা হয়েছে বলে দাখিল করে ওই সব বিএনপি এবং সহযোগী নেতাকর্মীদের সহযোগিতায় ফুল মিয়া জমিটি বিক্রি করে দেন। এ সময় বিএনপি নেতা শামসুল নিজেকে সাব রেজিস্টারের সামনে আলাল হিসেবে পরিচয় দেয়। এদিকে ফুল মিয়া জমি বিক্রি করলেও এখন আর আমাকে টাকা দিচ্ছে না।
উল্টো আমাকে নানাভাবে হয়রানি করছে। আমার কাছ থেকে ফিরিয়ে নেওয়া বায়না দলিল পত্রটি এখনো বিএনপি নেতা শামসুলের কাছে আছে। শামসুলের ভাই আওয়ামী লীগ নেতা আবুল হাশেম গত ১২ জুন বায়না দলিল পত্রটি বড় দরগা বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আব্দুর রশিদসহ ব্যবসায়ীদের কাছে নিয়ে গিয়ে দেখান। এবং তার কাছে রক্ষিত আছে বলেও জানান।’
সংবাদ সম্মেলনে আলাল জীবনের নিরাপত্তার পাশাপাশি জড়িত বিএনপি নেতাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং বায়নাপত্রের ১৮ লাখ টাকা উত্তোলন করে দেওয়ার দাবি জানান প্রশাসনের কাছে।
অন্যদিকে এই অভিযোগ অস্বীকার করে একই স্থানে দুদিন আগে সংবাদ সম্মেলন করেছেন জমির মালিক ফুল মিয়া ও বিএনপি এবং সহযোগী সংগঠনের নেতারা।
এ সময় ফুলমিয়া দাবি করেন, ‘বিএনপি নেতাকর্মীদের সম্মানহানি করতেই তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ থানায় দায়ের করেছেন আলাল। এ বছরের ৭ জুন আমার বাড়িতে গিয়ে ১৮ লাখ টাকার বদলে ৪ লাখ টাকা নিয়ে আমাকে স্টাম্পটি দিয়েছে। আমি স্ট্যাম্পটি ছিঁড়ে ফেলেছি। তবে ১৮ লাখ টাকা কীভাবে ৮ লাখ টাকা হলো এই ধরনের কোনো প্রশ্নের উত্তর দেননি তিনি।
মাহিগঞ্জ মেট্রোপলিটন থানার ওসি মাইদুল ইসলাম জানান, ‘আলালের অভিযোগ তদন্ত করা হচ্ছে। আরো তদন্ত করছি।’
এমএইচ
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

