দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলায় বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ এনে থানা ঘেরাওয়ের পর বিক্ষোভ করা হয়েছে। মঙ্গলবার দিবাগত রাতে এ কর্মসূচি পালন করা হয়। অভিযুক্ত মো. শামীম উপজেলা বিএনপির সেক্রেটারি।
অভিযোগকারী ডেকোরেশন ব্যবসায়ী হরিচন্দ্র জানান— রাত আনুমানিক ১১টার দিকে তিনি তার ছেলের মোটরসাইকেল থেকে বের করা দুই লিটার পেট্রোল সঙ্গে নিয়ে হরিসভার সামনে পৌঁছালে কনস্টেবল কৃষ্ণসহ চারজন পুলিশ তাকে আটক করে। এ সময় তাকে তল্লাশি করা হলেও কিছু না পেয়ে তার কাছে থাকা পেট্রোল নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়।
তিনি আরো অভিযোগ করেন, একপর্যায়ে পুলিশ সদস্যরা শামীমকে ফোন দেন। কিছুক্ষণ পর শামীম ঘটনাস্থলে এসে তাকে ভয়ভীতি দেখিয়ে আইনি জটিলতায় ফেলার হুমকি দেন এবং ১৫ হাজার টাকা দাবি করেন। পরে তার কাছে থাকা ১০ হাজার টাকা নিয়ে নেন এবং বাকি ৫ হাজার টাকা পরদিন দেওয়ার জন্য চাপ দেন। এ ঘটনার প্রতিবাদে থানায় অবস্থান নেন স্থানীয় বাসিন্দা ও বিএনপির নেতাকর্মীরা। এ সময় উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক সাদেক হোসেন ও ৬ নম্বর ইউনিয়ন বিএনপির সেক্রেটারি আনারুল ইসলামের উপস্থিতিতে থানার ভেতরেই বিক্ষোভ ও স্লোগান দেন তারা।
ইউনিয়ন যুবদলের সহ-সভাপতি সাইদুল ইসলাম রুবেল বলেন, শামীম একজন চাঁদাবাজ। তার কর্মকাণ্ডে সাধারণ মানুষ অতিষ্ঠ। আমরা এমন ব্যক্তিকে দলে দেখতে চাই না এবং তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।
উপজেলা বিএনপির সভাপতি গোলাম মোস্তফা বাদশা বলেন, আমি বর্তমানে একটি মিটিংয়ে আছি। এ বিষয়ে এখনই কিছু বলতে পারছি না।
কাহারোল থানার (এসপি সার্কেল) মনিরুজ্জামান ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। তিনি বলেন, ঘটনার বিষয়ে আমরা অবগত হয়েছি। এখানে কেউ কেউ পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলছেন, তবে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে টাকা কোনো পুলিশ সদস্য নেয়নি। তবুও বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। কোনো পুলিশ সদস্যের সম্পৃক্ততা প্রমাণিত হলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আর উপজেলা বিএনপি সেক্রেটারির বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জেডএম
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

